রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আর কত বড় হবেন ফাহমি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৭ এএম

মাত্র ২৭ বছর বয়সেই আমেরিকায় আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শাফকাত ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট নামে একটি হেজ ফান্ড। মার্কিন পুঁজিবাজার ওয়ালস্ট্রিটে বড় বড় ধান্দাবাজের মুখোশ উন্মোচন করেছেন তিনি। নেটফ্লিক্সের একটি সিরিজে তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে আলাদা এপিসোড। অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী সেরা মার্কিনিদের তালিকায়ও ঠাঁই পেয়েছেন। ভবিষ্যতে যারা আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ভাবা হচ্ছে তাকে। যে বয়সে মানুষ ক্যারিয়ার শুরু করে, সে বয়সেই এত কিছু করে ফেলা নারীটির নাম ফাহমি কাদির। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তার শরীরে বইছে বাংলাদেশি রক্ত। ফরিদপুরের মেয়ে তিনি। তার বাবা হাবিবুল কাদির এবং মা সাগরি কাদির আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরাগ মাঝির লেখায় জানুন ওয়ালস্ট্রিটের কঠিন ময়দানে তার অবিশ্বাস্য উত্থানের কাহিনী।

শিক্ষাজীবনে বৈপরীত্য

যেহেতু মার্কিন পুঁজিবাজার ওয়ালস্ট্রিট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, সেহেতু আপনি ভাবতেই পারেন, ফাহমি কাদির হয়তো ‘ফিন্যান্স’ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু এমনটি ভাবা আপনার জন্য সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, ফাহমির শিক্ষাজীবনে অর্থনৈতিক কোনো বিষয়ের সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ল্যারেমন্তে হার্ভি মাড কলেজ থেকে তিনি গণিত ও জীববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন।

ফাহমি প্রমাণ করেছেন, একটা ডিগ্রি জীবনের শুরু মাত্র। যদি লক্ষ্য অটুট থাকে, তবে এই ডিগ্রিকে জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই কাজে লাগানো যায়।

অল্প বয়সেই জাত চিনিয়েছেন

নিঃসন্দেহে আমেরিকার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ফাহমি কাদির অন্যতম। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে বলেছে, তারকা হওয়ার ক্ষমতা আছে তার।

কলেজে যাওয়ার আগেই তিনি ‘নিউইয়র্ক অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’-এ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া কলেজে থাকা অবস্থায়ই তিনি আরও দুটি প্রেস্টিজিয়াস মেডিকেল ফেলোশিপ অর্জন করতে সক্ষম হন। কিন্তু এসব মেডিকেল জ্ঞান, গণিত ও জীববিজ্ঞানের ডিগ্রি নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্টক মার্কেটেই তিনি মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

দ্রুততম উত্থান

মার্কিন পুঁজিবাজারে ফাহমি কাদিরের উত্থান সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি এই মার্কেটে এসেই যেন সবকিছু জয় করে নিয়েছেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি যখন ‘ডিলাস কনসালটিং’-এ কাজ শুরু করেন, তখন তিনি ছিলেন নিছকই একজন বিশ্লেষক। কিন্তু অল্প কিছুদিন পরই তিনি যখন এই প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখন তার সিনিয়র অ্যাসোসিয়েটের পদ ছিল। কোনো প্রতিষ্ঠানে এই পদটি উচ্চপদ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

কনসালটিংয়ের কাজে তার মেডিসিন ও জীববিজ্ঞানের জ্ঞানও কাজে লাগিয়েছিলেন। একটি চিকিৎসাবিষয়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজ কেমন হওয়া উচিত আর কেমন নয়, সে বিষয়ে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

পুঁজিবাজারে সাফল্যের মূল সূত্র

কীভাবে পুঁজিবাজারে প্রভাবক হিসেবে কাজ করা সম্ভব হবে, তা খুব অল্প সময়েই বুঝে গিয়েছিলেন ফাহমি। ডিলাস কনসালটিং ছেড়ে ‘ক্রেসসেভেজ’ নামে একটি এসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে তিনি ন্যায় বিশ্লেষক হিসেবে যোগ দেন।

ক্রেসসেভেজ ছিল মূলত একটি হেজ ফান্ড, যারা লং অ্যান্ড শর্ট টার্মে স্টক কেনাবেচা করত। শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে ফার্মটি সফলতা ও ব্যর্থতার ওপর বাজি রাখত। একসময় হুট করেই এই প্রতিষ্ঠানটি বাজার যে দিকে চলছে তার উল্টো দিকে বাজি ধরেছিল, তারা কী করে যেন বুঝে গিয়েছিল পরিবর্তন আসছে এবং তাই হয়েছিল। আর এর নেপথ্যে ছিলেন ফাহমি।

ভ্যালিন্তে ফার্মাসিউটিক্যালস

পুঁজিবাজারে এই ফার্মাসিউটিক্যালসের দুর্বলতা সম্পর্কে আঁচ করতে পেরেছিলেন ফাহমি। ওয়ালস্ট্রিটের স্টক মার্কেটে এই প্রতিষ্ঠানটির অদক্ষ দৃষ্টি থাকলেও, ভাব নিত তার উল্টো। ফলে এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ফাহমি কাদির এটিকে অর্থের কবর হিসেবে দেখছিলেন। তাই বিপুল ক্ষতির আগেই তিনি তার প্রতিষ্ঠান ক্রেনসেভেজকে এর আওতা থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন। ফাহমি যেন কীভাবে বুঝে যান কখন কী করতে হবে!

ভ্যালিন্তের জন্য ২০১৫ সালটি ভালো বছর হলেও শিগগিরই উল্টো হাওয়া বইতে শুরু করে। যেমনটি ফাহমি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। দেখতে দেখেতে এই প্রতিষ্ঠানটি ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনও সে যাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

তবে ফাহমির উপর আস্থা রেখে তার পরামর্শে তার নিজের প্রতিষ্ঠান ক্রেনসেভেজ ঠিক সময়েই ভ্যালেন্তের সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিল।

নজর কেড়েছেন

ভ্যালিন্তের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে ফাহমি শুধু পুঁজিবাজার নয়, এর বাইরের দুনিয়ায়ও সাড়া ফেলেছিলেন। সবারই তখন প্রশ্ন, কে এই ফাহমি কাদির? তার অবিশ^াস্য ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়েছে নেটফ্লিক্সের মতো জনপ্রিয় মুভি নির্মাতা চ্যানেলও। পরে ‘ডার্টি মানি’ নামে একটি ডকুমেন্টারি সিরিজের ‘ড্রাগ শর্ট’ অংশে চিত্রায়ণ করা হয় তার চরিত্রকে। ফলে তার সম্পর্কে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন মানুষ। ভ্যালিন্তে ফার্মাসিউটিক্যাল সম্পর্কে ফাহমি বলেছিলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।’

শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, শুধু ভ্যালিন্তেই নিঃস্ব^ হয়নি, পথে বসিয়েছিল অসংখ্য মানুষকেও। এই ফার্মাসিউটিক্যালসের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম একসময় এত বেড়ে গিয়েছিল যে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছিল।

নেটফ্লিক্সের ‘ড্রাগ শর্ট’-এ দেখা যায়, ওই কোম্পানিটি তার বিনিয়োগকারীদের কাছে যেভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছে, ঠিক সেভাবে কাজ করেনি। ফাহমি এটিকে ভ্যালিন্তের ধাপ্পাবাজি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফার্মা ব্রো হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক হেজ ফান্ড ম্যানেজার মার্টিন স্ক্রেলি বলেছিলেন, ‘ভ্যালিন্তের বিরুদ্ধে ফাহমির বাজি ধরাটা ছিল একটি দুঃসাহসিক কাজ।’ জানা যায়, সে সময় হেজ ফান্ড সুপারস্টার হিসেবে খ্যাত বিল অ্যাকম্যানও ছিলেন ভ্যালেন্তের মাধ্যমে ধরা খাওয়াদের অন্যতম। যে যাত্রায় প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন অ্যাকম্যান। ফাহমি তার বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে পরিষ্কার দেখেছিলেন ভ্যালিন্তের পতন আসন্ন। তিনি তার অনুমানের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন।

ভ্যালিন্তে কান্ডের সূত্র ধরেই বর্তমানে জেলে আছেন মার্টিন স্ক্রেলি বা ‘ফার্মা ব্রো’।

ওয়ালস্ট্রিট বুলসদের বিরুদ্ধে জয়ী

যেকোনো পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে ফাহমি কাদিরের অভিজ্ঞতা স্মরণীয়। একটি বুল মার্কেটে শেয়ার কেনা মানেই ধরে নেওয়া হয় এটি একটি লাভজনক বিনিয়োগ। কিন্তু সবাই যখন শেয়ার কিনতে ব্যস্ত হয়, ফাহমি কাদির সে সময় তার শেয়ার বিক্রি করে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর এভাবেই তিনি তার প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলেন। অদূর ভষ্যিতে পুঁজিবাজারের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হবেন ফাহমি এটা সহজেই অনুমেয়।

মিথিক্যাল পরামর্শদাতা

ফাহমির পরামর্শদাতা হিসেবে আছেন মার্ক কোডেস। তিনি একজন বিখ্যাত শর্ট সেলার। পুঁজিবাজারে এ দুজনের স্টাইলও একই ধরনের। ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাহমি বলেছিলেন, ‘কোডেস আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে সঠিক পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’

তবে, কোডেস এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রেখেছেন ফাহমিকেই। তিনি জানান, ফাহমির দেখানো পথেই তিনিও নাকি ভ্যালিন্তে ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে তার সব ফান্ড তুলে নিয়েছিলেন। এতে তিনি বিপুল ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যান। ফাহমি প্রসঙ্গে ব্লুমবার্গকে আরও বলেন, ‘আমি তাকে কঠিন হৃদয়ের বলে জানি, তার রক্ত শীতল, সে ভীষণ জিদ্দি।’

ভ্যালিন্তের পর তেসলা

ভ্যালিন্তে ফার্মাসিউটিক্যালসের পর গত বছরের ৮ অক্টোবর ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান তেসলা নিয়ে নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী হরেছেন ফাহমি। তেসলা একটি বিশ^খ্যাত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ফাহমি মনে করেন, এই প্রতিষ্ঠানটি এখন কঠিন সময়ের মধ্যে আছে। তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানটিকে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হচ্ছে। ভ্যালিন্তের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা গিয়েছিল।’

ফাহমির ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে তেসলার পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে, সমসাময়িক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সিইও ইলন মাস্ক জানিয়েছিলেন, গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি অর্থ আয়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। তারা তাদের সিডান-থ্রি মডেল গাড়িটির উৎপাদন বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে ইলন মাস্ক বলেন, ‘লাভবান হওয়ার খুব সন্নিকটে আছি আমরা। সমালোচক ও সুযোগসন্ধানীদের ভুল প্রমাণ করব আমরা।’

যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার সম্পর্কিত ব্লগ সাইটগুলোতেও দেখা গেছে, তেসলা নিয়ে ফাহমি কাদেরের ভবিষ্যদ্বাণী ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেকেই এর পক্ষে-বিপক্ষে নিজস্ব মত দিচ্ছে। সামনের সময়গুলোতে হয়তো এই ব্যাপারটির নিষ্পত্তি দেখা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেসলা নিয়ে ফাহমির ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক না-ও হতে পারে। তবে, তার পর্যবেক্ষণ ভুল নয়।

খ্যাতির চূড়ায়

শুধু মার্কিন পুঁজিবাজার নয়, সমগ্র আমেরিকাতেই ফাহমি কাদির এখন একটি আলোচিত নাম। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারিরাও এখন তাকে আদর্শ মানতে শুরু করেছে। দূরদর্শিতা তাকে খবরের শিরোনামে নিয়ে আসছে। তিনি বাজার পর্যবেক্ষণ করেন এবং অনিরাপদ কোম্পানিগুলোর ওপর তীক্ষ নজর রাখেন। নির্ভুল পদক্ষেপের জন্য তিনি প্রতিনিয়ত প্রশংসা কুড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। পুঁজিবাজারে বেহায়া বলে একটি শব্দ প্রচলিত। বলা হচ্ছে, এই বেহায়াপনা থেকে ফাহমি একেবারেই মুক্ত। তার এই খ্যাতির জন্য অসংখ্য বিনিয়োগকারী তার ওপর আস্থা রাখছেন, যারা তাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কোনো হেজ ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছেন।

বয়সের বাধা ডিঙিয়েছেন

৩০ বছরের আগেই ফাহমি কাদিরের অর্জন ঈর্ষণীয়। এ বয়সেই তিনি আলাদাভাবে তার নামটিকে সবার ওপরে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

ইতিহাস বলে, পুঁজিবাজারে সবচেয়ে সফল শর্ট সেলাররা মধ্যবয়সে হয়েছিলেন। কারণ পুঁজিবাজারের মতো একটি অস্থিতিশীল জায়গায় প্রথম জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে একজন মানুষের মধ্যবয়স লেগেই যায়। ফাহমি তার কলেজজীবনের পরই এই বাজারে এসে চমক দেখিয়ে চলেছেন। নিঃসন্দেহে তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হবে আরও ব্যাপক, আরও সুদূরপ্রসারী।

পেরিয়েছেন সাংস্কৃতিক গন্ডি

তরুণদের কাছে ফাহমি এখন আদর্শ। যিনি তার নিজের কাজের ওপর যথেষ্ট আস্থা রাখেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোম্পানির বসের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার যে সংস্কৃতি প্রচলিত, তার অন্যথা করতেও তিনি কুণ্ঠাবোধ করেন না। লাভের আশা থাকলেও প্রতারক এবং নিয়মবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি সব সময় এড়িয়ে চলেন। একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে মার্কিন পুঁজিবাজারে তিনি ছিলেন সংখ্যালঘুদের কাতারে। কিন্তু এই মনোভাব যে তিনি মনের মধ্যে কখনোই ঠাঁই দেননি, সেটা তার সফলতায় স্পষ্ট।

এবার নিজের প্রতিষ্ঠান

পুঁজিবাজারে এবার নিজের হেজ ফান্ড গঠন করেছেন ফাহমি। তার গঠিত হেজ ফান্ডের নাম ‘শাফকাত ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট’। প্রতিষ্ঠানটি একটি পেনি বিনিয়োগ করার আগেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ এই হেজ ফান্ডটির মালকিনের ওপর যে কেউ অনায়াসেই এখন বাজি ধরতে পারে। সম্প্রতি তিনি তার হেজ ফান্ড নিয়ে পুঁজিবাজারের চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়ার যাত্রা শুরু করেছেন। যদি তার সফলতার কথা বিবেচনা করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে শাফকাত ক্যাপিটাল এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হেজ ফান্ড।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত