বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৯ মাসেও উদ্ধার হয়নি কোনাবাড়ীর ফজলু

‘অপহরণকারী’র সঙ্গে ওসির সখ্য

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩০ এএম

৯ মাস আগে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছেলে ফজলু মিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে কাঁদছেন শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা আজুফা বেগম ও ছমির উদ্দিন। সন্দেহভাজন আসামিদের সঙ্গে দহরম-মহরম থাকায় পুলিশ অপহরণ মামলা নেয়নি অভিযোগ করে নিরুপায় আজুফা মামলা করেছেন গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা কোনাবাড়ী থানার ওসি এমদাদ হোসেন আসামি গ্রেপ্তার না করে তাদের থানায় ডেকে খাতির করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার প্রধান আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ওরফে ল্যাংড়া শফির সঙ্গে থানা কম্পাউন্ডে তার অন্তরঙ্গ আলোচনা এবং একই গাড়িতে করে এলাকায় ঘোরাফেরার ভিডিও ও স্থিরচিত্র দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে।

আজুফার করা মামলার এজাহারে বলা হয়, তাদের ছেলে ফজলু মিয়া কোনাবাড়ীর শাহীনুর ইসলাম দীপুর (৩০) ইন্টারনেট ব্যবসা দেখাশোনা করত। সে ২০১৭ সালে কোনাবাড়ির বাইমাইল এলাকার আসাদুল ইসলামের মেয়ে আশাকে বিয়ে করে। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে দীপুর বাবা ল্যাংড়া শফির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় শফি ও দীপুর সঙ্গে ফজলুর বিরোধ হয়। গত বছরের ২৪ মে রাত ১১টার দিকে ফজলুর মোবাইলে ফোন করে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় শফি। ফজলুকে হত্যার পর লাশ গুম করে রেখেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। আসামিদের কাছে ফজলুর খোঁজ জানতে চাইলে তারা বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দেয় এবং দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় তারা আদালতে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলো কোনাবাড়ি থানার (সাবেক জয়দেবপুর) বাইমাইল এলাকার শফিকুল ইসলাম শফির ছেলে শাহিনূর ইসলাম দীপু (৩০) ও তার ভাই মো. ঝিকু মিয়া (২৫), তাদের মা মোছা. বাছি বেগম (৫০), শফিকুল ইসলাম শফি (৫৫), তাদের দোকানের কর্মচারী উজ্জ্বল (৩০), মস্তফা (৩০) ও সাইফুল (৩৫)। এদের মধ্যে আসামি উজ্জ্বলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বাকি আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মামলার বাদী আজুফা ও তার স্বামী ছমির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘থানায় জিডি করার পর পুলিশ নানাভাবে টালবাহানা করে। তারা আমার ছেলে ফজলুকে উদ্ধার করেনি। আমি অপহরণ মামলা করতে চাইলেও মামলা নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে কোর্টে মামলা করি। আমরা গরিব মানুষ। একটু ভিটা আর দোচালা টিনের একটি খুপরিঘর ছাড়া আর কিছু নেই। আদালতে গেলেও উকিল টাকা চায়। পুলিশ টাকা চায়। এখন কই যামু। আসামিদের ভয়ে আমরা কোনাবাড়ি এলাকায় থাকতে পারিনি। এখন বাধ্য হয়ে ওই এলাকা ছেড়ে চলে এসেছি। আমরা ছেলেকে ফেরত চাই।’

ফজলুর অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্বাছ উদ্দিন খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৯ মাসেও ফজলুকে উদ্ধার করতে না পারা দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসন আন্তরিক হলে ফজলুকে উদ্ধার করা সম্ভব। কিন্তু তারা সেটা করছে না।’

নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার ও অপহরণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ি থানার ওসি এমদাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোন মামলা, আমি বলতে পারছি না। মামলা আসার পর সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তাদের নাম লিখে তদন্তভার দেওয়া হয়। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই।’ আসামির সঙ্গে তার সখ্যের প্রমাণস্বরূপ ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভিডিও পাওয়া সম্ভব নয়, এটা আপনি কোথায় পাবেন? তাছাড়া আদালতের পিটিশন মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের বিধান নেই। আপনি আইন ভালো করে জেনে নেবেন।’

ফজলুর উদ্ধারের বিষয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও শেরপুর-১ আসনের এমপি আতিকুর রহমান আতিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফজলুর পরিবার কয়েক দিন আগে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি ভিক্টিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলব। ৯ মাসেও ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া দুঃখজনক।’ আসামির সঙ্গে কোনাবাড়ি থানার ওসির অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ছবি ও ভিডিও দেশ রূপান্তরের কাছে আছে উল্লেখ করে জানতে চাইলে হুইপ বলেন, ‘একটা রিপোর্ট করে দেন, এরপর আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত