সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাত বছর

৬১ বার তারিখ হলেও জমা পড়েনি চার্জশিট

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩২ এএম

বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য ৬১ বার সময় নির্ধারণ করে দেয় আদালত। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি। শিগগিরই দাখিল হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বলছে, তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেঘের খোঁজ রাখে না কেউই বিষয়টি তদন্ত করছে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনিকে। আজ সোমবার এই হত্যাকাণ্ডের সাত বছর। ওই দিন বেঁচে যায় তাদের পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। মেঘের বয়স এখন ১২ বছর।

ওই মর্মন্তুদ ঘটনার প্রায় সাত বছর পার হলেও মামলার অভিযোগপত্র আজও দাখিল করা যায়নি। মামলার তদন্ত অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপপরিচালক মেজর রইসুল আজম মনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছি। আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে চলছে।’ মামলাটির তদন্ত কবে শেষ হবে সেটা তিনি জানাতে পারেননি। সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব নিয়ে কথা বলে কী হবে। শতবার বললেও কোনো ফল পাব না। এত বড় হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা হবে নাÑ কীভাবে মানব? বারবার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাচ্ছে। আর কতবার পেছাবে? জীবদ্দশায় হয়তো বিচার দেখে যেতে পারব না।’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে। সেই ৪৮ ঘণ্টা আজও শেষ হয়নি। ওই সময় ৪৮ ঘণ্টা পার হলে তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, ‘তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’ কী অগ্রগতি আজও খোলাসা করেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এর কিছুদিন পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলেছিল হত্যাকাণ্ডের মোটিভ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আদৌ সেটা পরিষ্কার করেনি ডিবি।

২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চার দিনের মাথায় মামলাটি হস্তান্তর করা হয় ডিবির কাছে। তদন্তের ৬২ দিনের মাথায় উচ্চ আদালতে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে ন্যস্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ৭৬ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয় সাগর-রুনির লাশ। লাশের ভিসেরা আলামতসহ আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এ মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাঁট, সাগর-রুনির পরনের কাপড়, সাগরের হাত-পা যে কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেই কাপড় ও রুনির পরনের টি-শার্ট পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে। এছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনাও সেখানে পাঠানো হয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আলামতের রাসায়নিক ও ডিনএন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন এরই মধ্যে তদন্ত সংস্থার কাছে এলেও তা থেকে প্রকৃত আসামি শনাক্তের মতো কার্যকর ক্লু খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সময় সাগর-রুনির হত্যার ব্যাপারে ‘চোরতত্ত্ব’ ও ভিকটিমের স্বজনদের ‘সন্দেহ’ করার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কিন্তু কোনোটাই গ্রহণযোগ্য হয়নি।

২০১২ সালের ৯ অক্টোবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ঘোষণা দেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন রফিকুল, বকুল, সাইদ, এনাম ওরফে হুমায়ুন কবির, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুণকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করে ডিবি ও র‌্যাব। এছাড়া ওই ঘটনায় সাগর-রুনির পারিবারিক বন্ধু তানভীর ও বাসার নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পালকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়েও তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার তদন্তও এগোয়নি। এর মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ডালপালা মেলে নানান গুজব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত