শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘রোহিঙ্গাদের অর্থ যাচ্ছে বিলাসিতায়’

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:২১ পিএম

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যাচ্ছে ‘আইএনজিও’দের বিলাসিতায়। কর্মকর্তাদের দামি গাড়ি ব্যবহার, বেশি বেতনে চাকরি ও ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ আলিশান জীবনযাপনে এসব অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার ‘সিএসও-এনজিও’ ফোরাম (সিসিএনএফ)।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিসিএনএফ কো-চেয়ারম্যান আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা।

সিসিএনএফ-এর কো-চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তি কক্সবাজারের সমন্বয়ক অশোক কুমার সরকারসহ ওই ফোরামের নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোট ১২৩টি দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে ২১টি এবং কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও রয়েছে ৫টি। অন্যান্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাজ করছে। এসব এনজিওরা বিভিন্নভাবে অর্থ এনে রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে। এসব অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক এনজিওতে কর্মরত কর্মকর্তারা বিলাসিতায় ব্যয় করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ২০১৭ সালে যৌথ সাড়া পরিকল্পনা অনুসারে রোহিঙ্গা সংকট মিটাতে বাংলাদেশে মোট ৪৩৪.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ প্রয়োজন ছিল। এই পরিকল্পনার মোট ৩১৬.৯ মার্কিন ডলার জেআরপি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে। যা ২০১৭ সালে প্রাপ্ত মোট তহবিলের ৩৫.৯ শতাংশ। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মোট ৪৯৪.২ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাংলাদেশে গ্রহণ করা হয়েছিল।

একইভাবে যৌথ সাড়া পরিকল্পনা  (জেআরপি) ২০১৮ সালের বিপরীতে বাংলাদেশে সকল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৯৫০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। যার বিপরীতে জেআরপি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোট ৬৫৫.০ মিলিয়ন (৬৮.৯ শতাংশ) মার্কিন ডলার অর্থ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আসে। অন্যদিকে এই পরিকল্পনার বাইর থেকে এসেছে মোট ৭২.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চলতি ২০১৯ সালে জয়েন্ট রেসপন্স প্লানের আওতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯২৫.০ মার্কিন ডলার এবং জেআরপির মাধ্যমে অর্জন ৫৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি পরিবারের জন্য এক বছরে ২১৫ মার্কিন ডলার ব্যয় করার জন্য ধরা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আশঙ্কা করে বলেন, উপরে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী সব অর্থ এই পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় হয়নি। আমরা অসংখ্যবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে এই বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। আমাদের দাবি হচ্ছে, সরকার এসব এনজিওদের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। যানবাহন ব্যয় কমাতে হবে এবং বিদেশি এনজিওদের আলিশান জীবনযাপনের প্রতি বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্থানীয়দের চাকরি দিতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আগামীতে রোহিঙ্গা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে কক্সবাজারে।

সম্মেলনে রোহিঙ্গা সহায়তায় জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান ২০১৯-এর আওতায় স্থানীয়করণ ও দ্বন্দ্ব নিরসনে দলিল-এর সংবেদনশীলতার যৌক্তিকতাসহ বিভিন্ন দিক আলোকপাত করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত