মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হাইকোর্টের রায়

শিক্ষক ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে কোচিং করানো যাবে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:০৭ পিএম

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালের নীতিমালা অনুসারে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না। তবে কেউ ব্যক্তি পর্যায়ে (ফ্রিল্যান্সার হিসেবে) কোচিং করাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। 

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।  এরপর তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘একটি মামলাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় আদালত আমাকে ডেকে জানান, কোচিং নিয়ে বিচারপতিরা টেলিভিশনে দেওয়া আমার দুটি টক শো দেখেছেন। তাই কোচিংয়ের সংজ্ঞা নিয়ে তারা (বিচারপতি) বক্তব্য স্পষ্ট করে আমাকে জানান, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাইরে যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তারা তাদের কার্যক্রম চালু রাখতে পারবেন’।  তবে যারা কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত, তাদের ক্ষেত্রে সরকারের করা কোচিং বাণিজ্য বন্ধের ২০১২ সালের নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।”

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর ১ (ক) অনুচ্ছেদে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ বলতে, সরকারি/বেসরকারি স্কুল (নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক), কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসা (দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল) ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে।

এ ছাড়া ১ (চ) অনুচ্ছেদে ‘কোচিং’ বলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন শিক্ষকের নির্ধারিত ক্লাসের বাইরে বা এর আগে-পরে শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে বা বাইরে পাঠদানকে বোঝাবে এবং ১ (ছ) অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘কোচিং বাণিজ্য’ বলতে, উপানুচ্ছেদ (চ) অনুযায়ী বিভিন্ন জাতীয়/দৈনিক/স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার, দেয়াল লিখন অথবা অন্য প্রচারণার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনাকে বোঝানো হয়েছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালে সরকার অনুমোদিত নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।  এ সংক্রান্ত পাঁচটি পৃথক রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজীব আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

তবে এরও আগে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওই নোটিশ দেয় সরকার। 

পরে ওই নোটিশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২ নিয়ে শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এরপর আদালত গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠির কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করেন।

পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করে। পরে আপিল বিভাগ গত বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে মামলার ওপর জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। পরে আদালত এ রুল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক দুই অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামালকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন। এর দীর্ঘদিন পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত