শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোরিয়ার ক্যাম্পাসে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৫৬ পিএম

পৃথিবীর অন্যতম সেরা দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণার জন্য আছে অনেক সুযোগ। এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর লেখাপড়ার মানও পৃথিবী বিখ্যাত। কীভাবে ভর্তি হবেন, পড়বেন ইত্যাদি সবই আছে এই আয়োজনে। লিখেছেন রানা মিত্র, মডেল হয়েছেন উম্মে কুলসুম রাহি ও ছবি তুলেছেন নূর স্বঠসু পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি বাংলাদেশি ড. সোমা কুণ্ডুর অভিজ্ঞতা

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিগুলো প্রধানত গবেষণা ও প্রকাশনানির্ভর। এগুলো অত্যন্ত উচ্চমানের বলে এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে ভালো গবেষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি অন্য ভালো ভালো পেশায় যেতে পারবেন। এ দেশের মাস্টার্স ডিগ্রির খুব কদর বিশ্বজুড়ে। দেশটির ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভালোভাবে মাস্টার্স পাস করলে বিশ্বের যেকোনো দেশে, যেকোনো শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ভালো ভালো পিএইচডির অফার পাওয়া সম্ভব।  ভালোভাবে লেখাপড়া করলে দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভালো সুযোগ আছে। তারা প্রথমদিকে দুই বছরের জব সিকিং ভিসা ও চাকরির সুযোগ দেয়।  গবেষণাগারের টুলস, ইকুইপমেন্ট, সফটওয়্যার ব্যবহার করে যেকোনো শিক্ষার্থী প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে মাস্টার্স, পিএইচডি ও মাস্টার্স লিডিং পিএইচডি (Integrated PhD) প্রোগ্রামে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভর্তি হতে পারছেন।  মাস্টার্সে দুই বছর, পিএইচডিতে জন্য তিন থেকে চার বছর এবং মাস্টার্স লিডিং পিএইচডিতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগে। কোনো শিক্ষার্থী মাস্টার্স লিডিং পিএইচডি ভেঙে মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে চান, তাহলে অন্তত আড়াই বছর লাগে। এ দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অনেক পদ্ধতি আছে। সবচেয়ে প্রচলিত হলো প্রফেসর ম্যানেজ। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর অধ্যাপকরা তাদের দেওয়া ফান্ডে ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবৃত্তি দেন।  আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কেজিএসপিসহ অনেক বৃত্তি আছে।  এ দেশে লেখাপড়া করতে আসার প্রস্তুতি পর্বের সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগ নির্বাচন। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ওয়েবসাইটে গবেষণাগার, বিখ্যাত অধ্যাপকের কথা বলে। তারা গবেষণার ক্ষেত্র, প্রকাশনা, গবেষণাগারের সদস্য, উপকরণ সবকিছুরই বিবরণ দিয়ে থাকে। তাদের ভাষায় এ তথ্যগুলো থাকলে সেগুলো গুগল ট্রান্সলেটের মাধ্যমে অনুবাদ করে ইংরেজিতে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অধ্যাপকের দেওয়া ই-মেইল আইডিতে গিয়ে তার সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো সম্পর্কে জানলে আরও ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ওয়েবসাইট খুঁজে উপযুক্ত কোর্স, অধ্যাপক পেলে বৃত্তি পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক নির্বাচন করে গবেষণা খাত অনুসারে তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করতে হয়। মেইলে সিভি, আগের সবগুলো শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত সনদ, আইএলটিএস, টোফেল বা জিআই স্কোর দিতে হবে। প্রকাশনা থাকলে সেটি সংযুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে গবেষণার আগ্রহ কেন হলো, এ ক্ষেত্রে আগের অভিজ্ঞতা থাকলে সেটি ভালোভাবে ইংরেজি বা কোরিয়ান ভাষায় লিখতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরাও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলোতে সহকারী গবেষক হিসেবে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীর ভর্তির ব্যবস্থা অনুরোধ করে করতে পারেন। ফলে এই যোগাযোগও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এভাবেও সেই দেশে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাওয়া যায়। আসলে এভাবে সুযোগ পেলে অনেক সুবিধা হয়। কারণ এ দেশের অধ্যাপকরা তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশের অপরিচিত ছাত্রছাত্রী নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। বরং পুরনো ভালো ছাত্র বা ছাত্রীর রেফারেন্সকে খুব গুরুত্ব দেন এবং নতুন গবেষক সংগ্রহ করেন। যে বিষয়ে পড়তে, গবেষণা করতে আগ্রহী সেই ক্ষেত্রে আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা, যে কাজ করতে চান তার সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা কতটা সংগতিপূর্ণ তা খেয়াল রাখুন। এ বিষয়ে পড়ে, গবেষণা করে ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে ধারণা নিন ও লিখুন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্ত সর্বনিম্ন সিজিপিএ ‘৩’, আইএলটিএস স্কোর ‘৬’। ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ভালো সিজিপিএ, আইএলটিএস স্কোর চায়। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের কাছে আবেদন করছেন, সেটির ওয়েবসাইট থেকে ভর্তির পূর্বশর্ত দেখে নিজের অবস্থান যাচাই করে অধ্যাপককে মেইল করা ভালো। সুন্দর, গোছানো সিভি বানান। এটিই আপনার পোর্টফলিও, এটি দেখেই তিনি আপনার প্রতি আগ্রহ দেখাবেন বা হারাবেন। আগের ভালো করা কোর্সগুলো, দক্ষতা তাতে উল্লেখ করুন। কোনো প্রকল্পে কাজ করলে সেটির ভালোভাবে বিবরণ দিন। প্রকাশনা থাকলে সেটির অল্প কথায় গুছিয়ে সম্পূর্ণ বিবরণ দিন। ঝশুঢ়ব ওউ দিয়ে রাখুন । তাতে তারা প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারবেন।  সিভি পাঠানোর আগে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে রিভিউ করে পাঠানো ভালো। অথবা যঃঃঢ়ং://িি.িড়াবৎষবধভ.পড়স থেকে নমুনা সংগ্রহ করুন। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অধ্যাপক পছন্দ করলেই আপনার ভর্তি নিশ্চিত।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছেন। তারা অনার্স, মাস্টার্সে পড়ালেখা করছেন। পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।

এ দেশে আমাদের দেশের প্রবাসী ছাত্রছাত্রীদের একটি সংগঠনও আছে। সেটির নাম হলো ইধহমষধফবংয ঝঃঁফবহঃ’ং অংংড়পরধঃরড়হ রহ কড়ৎবধ : ইঝঅক। এ দেশে লেখাপড়া করতে চাইলে আবেদনের আগে প্রয়োজনে এ সংগঠনের ঠিকানায় গিয়ে (যঃঃঢ়://নংধশ.ড়ৎম/), চাইলে তাদের সঙ্গে ফেইসবুকেও যোগাযোগ করে (ইধহমষধফবংযর ঝঃঁফবহঃ’ং অংংড়পরধঃরড়হ রহ কড়ৎবধ (িি.িনংধশ.ড়ৎম) তাদের সাহায্য নিতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিশ^বিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপক নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা সাহায্য করবেন। এতে খুব উপকার হবে আপনার। আমাদের দেশের অনেক মানুষ আছেন যারা কাজের সূত্রে এ দেশে বসবাস করেন। চাইলে তাদের সাহায্যও নিতে পারেন। তাদের একটি ফেইসবুক গ্রুপ পেইজ আছে। সেটির ঠিকানা হলো : ইধহমষধফবংয ঈড়সসঁহরঃু রহ কড়ৎবধ।

আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়গুলোতে সরকার গ্লোবাল আইটি কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (জিআইকেজিএসপি) বৃত্তিটি প্রদান করা হয়। এটি মাস্টার্স লেভেলের বৃত্তি। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের সুপারিশের মাধ্যমে এই বৃত্তি লাভ করা সম্ভব হয়।

পড়ার বিষয়

যেসব ডিগ্রি পেতে পারেন : ১. অ্যাসোসিয়েট ২. ব্যাচেলর ৩. মাস্টার্স ও ৪. ডক্টরাল ডিগ্রি।  

আবেদন শুরু করুন : এই দেশের বেশিরভাগ বিশ^বিদ্যালয় স্প্রিং ও ফল সেমিস্টারে বৃত্তি দেওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে। স্প্রিং সেমিস্টারের শুরু হয় প্রতি বছরের মার্চ থেকে, শেষ হয় মধ্য জুনে। আর ফল সেমিস্টারের আবেদন শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে। শেষ হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে এ সময়ের মধ্যে আবেদন করুন।

অনার্সে পড়বেন : এই দেশের অনার্স কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে চাইলে অবশ্যই ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এটি আমাদের দেশের এইচএসসি সমমানের যোগ্যতার সনদপত্র।

ভাষাগত যোগ্যতা : যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখার সুযোগ আছে, সেগুলোর কোনোটিতে ভর্তি হতে হলে আবেদনকারীর টোফেল স্কোর ৭৯ থেকে ৮০ আইবিএটি স্কোর থাকতে হবে। অথবা তাকে আইইএলটিএসে কমপক্ষে ৬ স্কোর পেতে হবে। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়ান ভাষা প্রচলিত আছে, সেগুলোর কোনোটিতে ভর্তি হতে চাইলে আবেদনকারীকে অবশ্যই কোরিয়ান ভাষা জানতে হবে। তিনি কোরিয়ান ভাষা শিখে তার দক্ষতা প্রমাণের পরীক্ষা দেবেন। সেখানে তাকে টেস্ট অব কোরিয়ান প্রফিসিয়েনসি (টপিক)’-এ পাস করতে হবে। 

অনার্সের সময়কাল : চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্সে পড়ালেখার সুযোগ আছে এই দেশে।

মাস্টার্সে পড়বেন : দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স কোর্সগুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্য অন্তত ১৬ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। আমাদের দেশের অনার্স পাস নিয়মিত ছাত্রছাত্রীরা এই কোর্সগুলোতে ভর্তি হওার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভাষাগত যোগ্যতা  : অনার্সের মতোই মাস্টার্সেও একই ভাষাদক্ষতা থাকতে হবে। আর কোরিয়ান ভাষাভাষী হলে টপিক টেস্টে পাস করতে হবে।

সময়কাল : মাস্টার্স লেভেলের কোর্সগুলো এই দেশে দুই বছর মেয়াদি হয়।

কাজের সুযোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত আইনানুসারে, কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কোর্সে পড়ালেখা করা নবীন শিক্ষার্থী ও অনার্স কোর্সে লেখাপড়া করতে আসা ছাত্রছাত্রীরা প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং মাস্টার্স এবং পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীরা প্রতি সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে অনুমতি লাভ করেন। নতুন নিয়ম অনুসারে, লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজ করার অনুমতি লাভের জন্য ছাত্রছাত্রীদের কোরিয়ান ভাষার দক্ষতা পরীক্ষার ফলাফল (টপিক), সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণি উপস্থিতি এবং ফলাফলের শিট বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে কাজ করতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা যে লেখাপড়ায় কোনো ক্ষতি করছেন না তা জানা সম্ভব হচ্ছে। সেমিস্টার চলার সময় পার্টটাইম চাকরির অনুমতি পেতে কোরিয়ান ভাষায় লেখাপড়া করা ছাত্রছাত্রীদের টপিক লেভেল অন্তত ২-এর বেশি থাকতে হয়।  আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে লেখাপড়া করতে আসা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে দুই বছর (৪ সেমিস্টার) পর্যন্ত টপিক লেভেল অন্তত ৩ এবং তৃতীয় বছর থেকে টপিক লেভেল ৪-এর বেশি থাকতে হয়। আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে গড় সিজিপিএ ‘সি’ ওপরে থাকতে হবে।

মাস্টার্স ও পিএইচডিতে পড়ালেখা করা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে টপিক লেভেল অন্তত ৪ থাকতে হবে।  ছুটির দিন এবং বছরের দুটি ছুটিতে তাদের  কাজের অনুমতি নেওয়ার নিয়মটি শিথিল থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা

কয়েকটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবলিংক- সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি :  http://www.useoul.edu/; কোরিয়া ইউনিভার্সিটি :  http://www.korea. edu/; কোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কাইস্ট) :  http://www.kaist.edu/html/en/index.html।

ইয়োনসেই ইউনিভার্সিটি :  http://www.yonsei.ac.kr/eng।

খুইং হি ইউনিভার্সিটি :  http://www.khu.ac.kr/eng/index.jsp

পুসান ইউনিভার্সিটি :   http://english.pusan.ac.kr/html/00_main/;

 হানগুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ : http://international.hufs.ac.kr/

আরো পড়ালেখা বিষয়ে তথ্য আছে :http://www.niied.go.kr/eng/index.do এই ওয়েবসাইটে।

উচ্চশিক্ষার জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ লিংক  https://www.facebook.com/groups/HSA.SouthKorea/

সরকারি বৃত্তি

পুরোপুরি কোরিয়ান সরকারের দেওয়া ও তাদের পুরো খরচে পরিচালিত এই বৃত্তিটি পাঁচ বছর মেয়াদি। এটির পূর্ণরূপ হলো ‘কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপস’। সম্প্রতি এই বৃত্তিটি জিকেএস (গ্লোবাল কোরিয়ান স্কলারশিপস) নামে দেওয়া হচ্ছে। এই বত্তি পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোরিয়ান ভাষা বাধ্যতামূলকভাবে শেখেন। ভাষা শেখার প্রোগ্রামের মেয়াদ হলো এক বছর। এরপর তিনি চার বছর ধরে অনার্স কোর্সে কোরিয়ান ভাষায় লেখাপড়া করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

কারা পান : জিকেএস বা বহুল পরিচিত কেজিএসপি বৃত্তি লাভের জন্য আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে এবং এখানে পড়ালেখা করতে পারেন। আমাদের দেশের দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে অথবা দক্ষিণ কোরিয়াতে সরকারিভাবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বৃত্তিটি দেওয়া হয়, সেগুলোর কোনো একটিতে সরাসরি আবেদন করে জিকেএস বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, কিছুদিন আগে থেকে কেজিএস কা জিকেএস বৃত্তির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার আবেদন গ্রহণ শুরু করেছেন।

নেওয়া হবে কতজন : বাংলাদেশ থেকে ১২ ছাত্রছাত্রীকে দক্ষিণ কোরিয়াতে লেখাপড়ার জন্য এই বৃত্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। তারা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সঙ্গে মেইলের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ান দূতাবাসের  http://overseas.mofa.go.kr/bd-ko/ index.do ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আছে অনেক সুবিধা : কেজিএসপি স্কলারশিপের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার যেকোনো বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীকে  বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তাদের দেশে আসার বিমান খরচ, লেখাপড়া শেষে নিজের দেশে ফিরে গিয়ে কাজ করার বিমান খরচ বহন করে। এ ছাড়া তারা প্রতিটি বিদেশি ছাত্রছাত্রীকে টিউশন ফি বাদেই মাসে আট লাখ ওয়ান (আমাদের দেশের টাকায় ৬০ হাজার টাকা) মাসিক খরচ হিসেবে দেন।

আবেদনের নিয়মকানুন : কেজিএসপি বৃত্তির জন্য দুভাবে আবেদন করা সম্ভব। প্রথমত, বাংলাদেশের দক্ষিণ কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে ও দ্বিতীয়ত, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের মাধ্যমে এই বৃত্তি লাভ করা সম্ভব। আবেদনপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দূতাবাস বরাবর মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। তা ছাড়াও শিক্ষার্থী পছন্দের যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল ঠিকানায় সরাসরি আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাঠাতে পারেন। তবে নিয়মানুযায়ী একজন শিক্ষার্থী একটি মাত্র মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। দুই মাধ্যমেই আবেদন করলে সেই আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। দূতাবাস বরাবর আবেদন করলে শিক্ষার্থী তার পছন্দের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারেন।

আবেদনের যোগ্যতা : দূতাবাস বা বিশ্ববিদ্যালয় যেকোনো মাধ্যমে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই দেশের প্রকৃত নাগরিক হতে হবে, যেকোনো পর্যায়ে লেখাপড়ার জন্য তার বয়স ২৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না, তাকে অবশ্যই ন্যূনতম আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, উচ্চমাধ্যমিকের মোট নম্বরের বা সিজিপিএর অন্তত ৮০ ভাগ নম্বর বা গ্রেডধারী হতে হবে, মেধাতালিকার হিসাব থাকলে তাকে শীর্ষ মেধাস্থান অধিকারী হতে হবে।

অগ্রাধিকার : দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ভাষা কোরিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতার প্রমাণ দিতে পারলে আবেদনকারী অগ্রাধিকার পাবেন।

যেভাবে দূতাবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয় : বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ধাপটি পরিচালনা করে। সে জন্য মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে নোটিস বোর্ডে এই বৃত্তির জন্য মেয়াদভিত্তিতে নোটিস দেয়। সেখানে যেসব ডকুমেন্টস চাওয়া হয়, সেগুলোর সত্যায়িত কপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ঠিকানা বা মেইল ঠিকানার মাধ্যমে পৌঁছাতে হয়। এরপর তারা বাছাই করেন ও উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নামের তালিকা আবার ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেন। এরপর বাছাই হওয়া শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসের ঠিকানায় বা মেইল ঠিকানা বরাবর জমা দিয়ে আসেন। চূড়ান্তভাবে বাছাই করা প্রার্থীদের পরীক্ষা দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে নেওয়া হয়।  তাদের সরকারিভাবে নির্বাচিত পরীক্ষকরাই দূতাবাস কার্যালয়ে কেজিএসপি বৃত্তির আবেদনকারীদের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এই দ্বিতীয় ধাপে পাস করা শিক্ষার্থীদের দূতাবাসের পরীক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের উল্লেখ করা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যোগাযোগ করে তাদের ভর্তি করার জন্য সেগুলোর ভর্তি কমিটির কাছে সুপারিশ করেন। কমিটি সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেইল, স্কাইপে বা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেভাবেই তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরীক্ষায় পাস করা ছাত্র বা ছাত্রী যেকোনো একটি পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। তার আগে মেডিকেল সার্টিফিকেট ও যেসব ডকুমেন্টস চাওয়া হয়, সেগুলোর সত্যায়িত কপি মেইল নয়, আন্তর্জাতিক ডাক বা কুরিয়ারের মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়ের ঠিকানায় কপিগুলো পাঠাতে হয়। এরপর তাকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেজিএসপির ভর্তি পরিচালনা কমিটি তাকে ভর্তি করে।

আবেদনের সময় খেয়াল করুন : আবেদনপত্রটি ভালো ও নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়াতে লেখাপড়ার জন্য স্টাডি প্ল্যান তৈরি করে সেটি জমা দিতে হবে। নিজের সম্পর্কে কোরিয়ান বা ইংরেজি ভাষায় একটি বিবৃত্তি যুক্ত করতে হবে। দুটি সুপারিশপত্র সংযুক্ত করতে হবে। মেডিকেল সার্টিফিকেটের কপি জমা দিতে হবে, এসএসসির সনদ ও এইচএসসির নম্বরপত্রের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিকত্বের সত্যায়িত কপি যুক্ত করতে হবে এবং প্রার্থীর সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ থাকলে সেটিও সত্যায়িত করে যুক্ত করতে হবে। যেসব বিষয়ে পড়া যায় না : কেজিএসপি বৃত্তিতে চিকিৎসাবিদ্যা ও স্থাপত্যবিদ্যা পড়ার কোনো সুযোগ দক্ষিণ কোরিয়াতে নেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত