বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় কাটার ধুম

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৮ পিএম

রাঙ্গুনিয়া সংরক্ষিত বন রেঞ্জের কোদালা বিটের অসাধু কর্মীদের যোগসাজশে পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্ক পরিবেষ্টিত এলাকাসহ এই বনাঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ের মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। বন বিটের ফুইট্ট্যাগোদা, গজালিয়া, সেগুনবাগান, দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার ধুম পড়েছে। এসব পাহাড়ের মাটি যাচ্ছে এলাকার বিভিন্ন ইটের ভাটায়। আবার পাহাড় কেটে কেউ কেউ পুকুর ও ডোবা ভরাট করছেন।

এলাকাবাসী জানান, বন বিটের কতিপয় অসাধু কর্মীর সহায়তায় চোর চক্র পাহাড়ের ‘মাটি বাণিজ্য’ গড়ে তুলেছে। এলাকার ইটভাটায় মাটি সরবরাহ, পুকুর ও ডোবা ভরাটের কাজে পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছে তারা। কলাবাইজ্যাঘোনা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, নুরুল আলম, জসিম উদ্দিনসহ অনেকে জানান, দিনের চেয়ে রাতে মাটি চোরদের উৎপাত বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলাবাইজ্যাঘোনা আমিন মেম্বার নামের পাহাড়ের অনেকাংশ কেটে ফেলেছে চোর চক্র। এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাতভর চলে পাহাড় কাটা। পাহাড়ের মাটি ট্রাকবোঝাই করে রাতেই পাচার করা হয় বিভিন্ন ইটভাটায়। এদিকে চন্দ্রঘোনা সিকদার পাড়া, হিন্দুপাড়া, কদমতলী গ্রামের কেউ কেউ পুকুর ও ডোবা ভরাটের জন্য এ মাটি কিনে নিচ্ছেন। বনগ্রামের কয়েকজন জানান, পাহাড়ের মাটি কেটে সাবাড় করার বিষয়টি এলাকাবাসী জানলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলেন না।

এদিকে গজালিয়া, ফুইট্যাগোদা উত্তর গজালিয়া এলাকার কয়েকটি ইটের ভাটায় মাটি ও বালুর জোগান দিতে উজাড় করা হচ্ছে কোদালা বন বিটের ছোট-বড় পাহাড়। গজালিয়া ও নিশ্চিন্তাপুর বনাঞ্চলে গড়ে তোলা অন্তত ১০টি ইটভাটায় পুড়ছে পাহাড়ের মাটি। এখানে পাহাড় কাটতে ব্যবহার হচ্ছে মাটিকাটার যন্ত্র।

কোদালা বন বিট কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ দখলদারিত্বের উৎপাত রয়েছে। পাহারদস্যুরা পাহাড় ও বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে খুঁটি গেড়ে নিজেদের দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করলেও তা প্রতিরোধ করা খুব কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ রায় বলেন, পাহাড় কাটা এবং বনাঞ্চল দখলে প্রভাবশালীরা জড়িত। বন বিভাগের সীমিত লোকবল দ্বারা পাহাড় কাটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান অবৈধ ইটভাটা এবং পাহাড়ের মাটি চোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত