মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৫ তরুণ নেতা হারাল গোপালগঞ্জ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৭ এএম

খুলনায় গাড়ির সামনে এসে পড়া ‘মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরেকে বাঁচাতে গিয়ে’ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন গোপালগঞ্জের এক যুবলীগ ও চার ছাত্রলীগ নেতা। গত রবিবার রাতের ওই ঘটনায় শোক নেমে আসে গোপালগঞ্জ শহরে। একসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের পাঁচ নেতাকে হারিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও সৃষ্টি হয়েছে শোকের আবহ। নিহতদের বাড়িতে চলছে আহাজারি ও শোকের মাতম।খুলনা নগরীর জিরো পয়েন্ট-রূপসা সেতু বাইপাস সড়কের লবণচরা থানার সামনে খাজুরবাগান এলাকায় রবিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে ওই পাঁচজন নিহত হয়। নিহতরা হলেনÑ গোপালগঞ্জ

জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদরের সবুজবাগ এলাকার অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে মাহবুব হাসান বাবু (২৬), একই এলাকার মৃত আলাউদ্দিন সিকদারের ছেলে ও সদর থানা যুবলীগের সহসভাপতি মো. সাদিকুল আলম সাদিক (৩২), শহরের চাঁদমারী এলাকার অহিদ গাজীর ছেলে ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অনিমুল গাজী (২৪), শহরের থানাপাড়ার গাজী মিজানুর রহমান হিটুর একমাত্র ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর ভাতিজা জেলা ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক অলিদ মাহমুদ উৎসব (২৫) এবং শহরের গেটপাড়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাজু আহমেদ (২৪)। ছাত্রলীগের ওই চার নেতাই গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের ছাত্র ছিলেন।

লবণচরা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘প্রাইভেটকারটি নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে যাচ্ছিল আর রূপসা সেতু থেকে আসছিল সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক। খাজুরবাগান অতিক্রম করার সময় মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে প্রাইভেটকারের সামনে এসে পড়লে তাকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজন। পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করলেও চালকসহ অন্যরা পালিয়ে গেছে। রাতেই সব মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।’

সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পৌঁছায়। মধ্যরাত থেকেই হাসপাতাল এলাকায় ভিড় জমায় নিহতদের স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বন্ধু, সহপাঠীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল এলাকা। সকাল ৭টার পর হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ নিহতদের বাড়িতে নেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

এদিন জোহরের নামাজের পর শহরের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ মো. মতিয়ার রহমান, জেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম সাহাবুদ্দিন আযম, সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এরপর শহরের নবীনবাগস্থ পৌর করবস্থানে বাবু ও সাদিক, গেটপাড়া পৌর কবরস্থানে উৎসব, সদরের ডুমদিয়া কবরস্থানে অনিমুল গাজী এবং ফকিরকান্দি কবরস্থানে সাজুকে দাফন করা হয়। তরুণ এই নেতাদের দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জেলা উদীচী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে থেকে শোক প্রকাশ এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, ‘এই মর্মান্তিক মৃত্যু গোপালগঞ্জবাসীকে মর্মাহত করেছে। এই মৃত্যুতে গোপালগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ যে পাঁচটি ছেলে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, তাদের সামনে সোনালি স্বপ্ন ছিল। তাদের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ পাঁচজন ভবিষ্যৎ মেধাবী নেতা হারাল।’তিনি আরও বলেন, ‘গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সড়কে মানুষের জীবন নিরাপদ করতে সরকার, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ মাহামুদ বাপ্পী বলেন, ‘তাজা পাঁচটি প্রাণ ঝরেছে। এরা আমাদের স্বজন। শোকে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তাদের মৃত্যুতে এখানকার ছাত্র-যুবলীগে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত