বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডাকসু নির্বাচন ১১ মার্চ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৬ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগঠন (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট হবে আগামী ১১ মার্চ। আদালতের নির্দেশে উদ্যোগ নেওয়ার পর গতকাল সোমবার এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ তফসিলকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা স্বাগত জানালেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

এ ছাড়া নির্বাচন ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য’ করতে আবাসিক হলের বাইরে ভোটকেন্দ্রের দাবিতে বিক্ষোভও করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য।গতকাল সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান এ তফসিল ঘোষণা করেন। হল সংসদ নির্বাচনের তফসিলও গতকাল ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১১ মার্চ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটানা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট হবে। ভোটাররা (আবাসিক ও অনাবাসিক) নিজ নিজ হলের ভোটকেন্দ্রে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেবেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত, জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং একই দিন বেলা ২টায় হবে মনোনয়নপত্র বাছাই। পরদিন দুপুর ১২টায় প্রকাশ করা হবে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা এবং এ বিষয়ে ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে লিখিতভাবে আপত্তি জানানো যাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২ মার্চ দুপুর ১টা এবং পরদিন বিকেল ৪টায় প্রকাশ করা হবে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র করার দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, কলাভবন ও গ্রন্থাগার চত্বর ঘুরে ডাকসু ভবনের মধুর ক্যানটিন সংলগ্ন অংশের সামনে শেষ হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় বলেন, ‘হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র থাকলে হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের যে আধিপত্য রয়েছে, তার প্রভাব নির্বাচনের ওপর পড়বে।’

উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জি এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।

ছাত্রনেতাদের প্রতিক্রিয়া : তফসিল ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত নেতৃত্বের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।’

ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী বলেন, ‘এই তফসিলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা স্মারকলিপি দিয়ে, আলোচনা করে নির্বাচন পেছানোর কথা বলেছিলাম, কিন্তু আমাদের কোনো কথাই তো শুনল না। আমাদের প্রধান দাবি ছিল আগে সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, কিন্তু সেসব না করেই তফসিল দিয়ে দিল।’

হলে ভোটকেন্দ্র রাখার বিরোধিতা করে এই ছাত্রদল নেতা আরও বলেন, ‘হলগুলো তো তাদের (ছাত্রলীগ) দখলে। হলে ভোট হলে যে তা সুষ্ঠু হবে না, সেটাও জানা কথা।’

বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তা আমাদের মাঝে অনেক বেশি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি উপস্থাপন করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। সেই দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করে, শুধু একটি দলের সামগ্রিক বিবেচনাকে প্রাধান্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই বিষয়টা নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করে।’

কোটা আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ও এবার ডাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তফসিলের প্রতিক্রিয়ায় পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘হলের বাইরে ভোটকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি দাবি আমরা উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়েছিলাম। বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠনই হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র চেয়েছে। আমাদের কোনো দাবিই সেই অর্থে গ্রহণ করা হয়নি তফসিলে।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে বসে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত