শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্বময় বর্ণিল বসন্তবরণ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৪ পিএম

শীতকে বিদায় জানিয়ে বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার নানা প্রথা চালু আছে পৃথিবীজুড়ে। প্রায় সব দেশেই বসন্তবরণ বসন্ত উৎসবে রূপ নেয়। আমাদের দেশে যেমন নারীরা হলুদ শাড়ি পরে বসন্তকে স্বাগত জানায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই বরণ করে দেওয়ার ধরনটি বিভিন্ন রকম। কোনো কোনো দেশে বসন্তবরণের উৎসব হাজার বছরের পুরনো। কোনো দেশে একেবারেই নতুন। পৃথিবীর বিচিত্র কয়েকটি বসন্তবরণ নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি-

হোলি (ভারত)

হিন্দু ধর্মীয় বসন্ত উৎসবের নাম হোলি। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতেও এই উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়ে। হোলিকে রং উৎসব এবং ভালোবাসার উৎসব হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। দানবের বিরুদ্ধে শুভ কিংবা সুন্দরের বিজয়কে রং ছড়িয়ে উদযাপন করার দিনটিই হোলি। শীতকে পেছনে ফেলে বসন্তের আগমনী দিন এই হোলি। এদিন একে অপরের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি রং ছড়িয়ে হাসি আনন্দে মেতে ওঠে মানুষ। ভুলে যাওয়া এবং ক্ষমা করা ছাড়াও ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগানোর দিনই হোলি। একদিন ও একরাত ব্যাপী এই হোলি’তে ভালো ফসলের জন্যও সৃষ্টিকর্তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার দিন সন্ধ্যা থেকে এই উৎসব পালন করা হয়। জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তা ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।

হিন্দু ধর্মীয় উৎসব হলেও দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের অন্যান্য ধর্মীয় মানুষও হোলি উদযাপন করে। প্রাচীনকাল থেকেই এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। চতুর্থ শতকে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে কালিদাস রচিত দশকুমারা চরিতে এই উৎসবের উল্লেখ আছে। এ ছাড়াও সপ্তম শতকে রচিত সংস্কৃত নাটক ‘রত্নাবলী’তে হোলি উৎসবের উল্লেখ আছে।

মারজান্না (পোল্যান্ড)

পোল্যান্ডে যাকে মারজান্না বলে, তাকেই রাশিয়ানরা বলে মারেনা। চেক রিপাবলিক, বুলগেরিয়া, স্লোভেনিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ায় মারজান্নাকে মোরেনা বলে। যে নামেই ডাকা হোক, এই নামটি মূলত একজন প্রাচীন দেবীর। তার অন্তর্ধানের সঙ্গে প্রকৃতি থেকে উধাও হয় শীত। আর জন্ম হয় আরেক দেবী কস্ত্রোমার। তার জন্মের মধ্য দিয়ে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটে। পোল্যান্ডে অধিবাসীরা শীতের শেষে তাই খড়কুটো দিয়ে বানানো মারজান্নার মূর্তি পানিতে ডুবিয়ে দেয়। এই মারজান্না তীব্র শীতের প্রতীক। বসন্তের আগমনী দিনে পোলিশ ছেলেমেয়েরা তাদের নিজেদের হাতে তৈরি মারজান্নার পুতুলগুলো নিয়ে র‌্যালি করতে করতে জলাশয়ের দিকে এগিয়ে যায়।

স্যাচশেলাতেন (সুইজারল্যান্ড)

সুইজারল্যান্ডে বসন্তবরণের রীতিটি বেশ অদ্ভুত। ষোড়শ শতাব্দী থেকেই একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বসন্তকে বরণ করে নেয়। রাজধানী জুরিখে প্রতি বছর এপ্রিল মাসের তৃতীয় সোমবারে বরফে আগুন জ্বালিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। এক্ষেত্রে তারা একটি খুঁটির মধ্যে স্থাপন করে বরফ মানুষ। তুষারের দলা পাকিয়ে বানানো ওই মানুষটিকে বলা হয় ‘বুগ্’। তার চারপাশে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের তীব্রতায় ধীরে ধীরে গলে যায় ‘বুগ্’। শীতের বিবর্ণ দিনগুলো শেষে জ¦লন্ত আগুনটিকে বিবেচনা করা হয় বসন্তের প্রথম ফোটা ফুল। আর বুগ্ হলো শীত। বসন্তের আগমনীতে বিলীন হয় সে।

image

সুইসরা বিশ্বাস করে, যত তাড়াতাড়ি বুগ্ গলে যায়, তত সুন্দর একটি রৌদ্রোজ্জ্বল বসন্ত প্রকৃতিতে বিরাজ করে। সে অনুযায়ী, যদি ৬ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে বুগ্ গলে যায় তবে দেশটির শীত পরবর্তী আবহাওয়া হবে রৌদ্রোজ্জ্বল আর শুকনো। কিন্তু বুগ্ গলে যেতে যদি ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নেয় তবে প্রচুর বৃষ্টিপাতের আভাস দেয় তা। একসময় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ এই উৎসব পালন করলেও ১৯০২ সাল থেকে জুরিখকেন্দ্রিক সর্বজনীন উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।

বাবা মার্তা ডে (বুলগেরিয়া)

বুলগেরিয়ায় বাবা মার্তা মানে ‘মার্চের দাদি’ (দ্য গ্রান্ডমাদার অফ মার্চ)। প্রতি বছর মার্চের প্রথম দিনটিতে ‘বাবা মার্তা ডে’ পালন করে বুলগেরিয়ানরা। দেশটির পুরাণ কাহিনী অনুযায়ী, বাবা মার্তা হলেন একজন বৃদ্ধ নারী, যাকে অবশ্যই সমাদর করতে হবে। তা না হলে, তিনি আরও বেশি শীত নিয়ে আসবেন এবং শীতকালকে দীর্ঘ করে দেবেন। আধুনিক সময়ে বুলগেরিয়ার ‘বাবা মার্তা ডে’ বসন্তবরণের সমার্থক।

আসন্ন নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াকে উদযাপন করতে ‘বাবা মার্তা দিবসে’ হাতের কব্জিতে একটি রাখিবন্ধনী পরে বুলগেরিয়ানরা। এই রাখিতে সংযুক্ত থাকে দুটি পুতুল। সুতো দিয়ে বানানো ওই পুতুলগুলোর একটি লাল অন্যটি সাদা। পুতুল দুটির মধ্যে একটিকে নারী, অন্যটিকে পুরুষ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এই দুটি পুতুল স্বাস্থ্য এবং উর্বরতার প্রতীক। বুলগেরিয়ানরা এই পুতুল বানিয়ে ভালোবাসার মানুষ কিংবা বন্ধুদের উপহার দেয়, যার মাধ্যমে তারা ওই বন্ধুটির সুখ এবং শান্তি প্রত্যাশা করে। উৎসবের পর এই পুলগুলো তারা গাছে গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

ফ্লোরিয়াদ (অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় ফ্লোরিয়াদ নামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বসন্তকে বরণ করে নেয় অজি’রা। ক্যানবেরার কমনওয়েলথ পার্কে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানটি মূলত একটি ফুলের উৎসব। প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ এই উৎসবে হাজির হয়। ফ্লোরিয়াদ একটি ল্যাটিন শব্দ, যার মানে হলো ফুলের কারুকাজ। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই উৎসব চলে। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকেও অসংখ্য পর্যটক উৎসবে অংশ নেয়। অস্ট্রেলিয়ান বসন্ত উৎসব নামেও এটি পরিচিত।

ফ্লোরিয়াদ উৎসবের নেপথ্যে আছেন খ্রিস্টিয়ান স্লাটমেকার ডি ব্রুইন নামে এক আর্কিটেক্ট। ১৯৮৬ সালে নেদারল্যান্ডসের কেউকেনফ গার্ডেনে তিনি এই ধরনের একটি উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ গার্ডেনের ম্যানেজার এবং হর্টিকালচারিস্ট পিটার সুটনের সঙ্গে তিনি তার আইডিয়া শেয়ার করেন। সুটন উৎসবটিকে সফল করার জন্য মার্কেটিং থেকে শুরু করে একাধারে বিভিন্ন ভাস্কর্য সংগ্রহ করেন, লাইভ মিউজিকের আয়োজনসহ উৎসবকে জাঁকজমক করতে পারে এমন নানা কিছুর সমাহার ঘটান। অস্ট্রেলিয়ার নানা সংস্কৃতিকে এই উৎসবের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। কমনওয়েলথ গার্ডেনে ১৯৮৮ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে এই উৎসব। গত বছর উৎসবের ৩০ বছর উদযাপন করা হয়।

হুপিটি স্কোরি (স্কটল্যান্ড)

হুপিটি স্কোরি স্কটিশদের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি বছর ১ মার্চ বসন্তের আগমনীকে উদযাপন করে স্কটল্যান্ড। এদিন স্থানীয় শিশুরা সেইন্ট নিকোলাস গির্জায় জড়ো হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টায় একটি ঘণ্টা বাজানো হয়। এই ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা গির্জার চারদিক ঘিরে ঘড়ির কাঁটার দিকে দৌড়াতে শুরু করে। তাদের হাতে ঝুলানো থাকে কাগজের তৈরি বেল। দৌড়াতে দৌড়াতে এটি তারা চক্রাকারে ঘোরাতে থাকে। এই দৌড়ে কোনো প্রতিযোগিতা থাকে না। গির্জাকে তিনবার প্রদক্ষিণ করার পর তারা হুড়োহুড়ি করে পয়সা কুড়ায়। এই পয়সাগুলো ইভেন্টের আয়োজক সমাজ ছুড়ে মারে। স্কটল্যান্ডের এই বসন্তবরণ ঠিক কীভাবে এলো তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে নানা মতবাদ প্রচলিত আছে। সবচেয়ে প্রচলিত মতবাদটি হলো শয়তান বা শীতের আতঙ্ককে দূর করে বসন্তকে বরণ করাই এই উৎসবের লক্ষ্য। আবার কেউ বলেন, শীতে দিনের দৈর্ঘ্য থাকে কম। কিন্তু শীতের শেষে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আর দিন বড় হলে শিশুরাও বাইরে খেলাধুলা করার বেশি সময় পায়। এটিকেই উদযাপন করে তারা। এও প্রচলিত আছে যে, স্কটিশ নাইট উইলিয়াম ওয়ালেসের স্ত্রীর হত্যাকাণ্পডকে স্মরণ করেই এই প্রথাটি চালু হয়।

image

সিমবুরিজাদা (বসনিয়া)

বসনিয়ার বসন্ত উৎসবকে ডিম উৎসব বললে ভুল হবে না। প্রতি বছর মার্চে বসন্তের শুরুতেই বসনিয়ার জেনিকায় হাজার হাজার লোক জমায়েত হয়। দেশটির বসন্ত উৎসবে ডিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ ডিম মানেই নতুন জীবনের সূচনাকে নির্দেশ করে। জেনিকার বসন্ত উৎসবে অসংখ্য ডিম ভেঙে বিশাল বিশাল পাত্রে রান্না করা হয়। পরে এই রান্না করা ডিম সবার মাঝে বিতরণ করা হয়। কয়েকশ বছর ধরে এই উৎসবটি প্রচলিত। সারা দেশ থেকেই জেনিকায় বসন্ত উৎসবে যোগ দেয় মানুষ। শহরটির মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে বজনা নদীর এই নদীর তীর ঘেঁষে বিভিন্ন পার্কে জমে ওঠে উৎসব।

ব্লোমেনকসরো বলেনস্ট্রিক (নেদারল্যান্ডস)

ফুল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বসন্তকালকে বরণ করে নেয় ডাচরা। এপ্রিলের শেষ শনিবারে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। দেশটির নর্ডিক থেকে হারল্যাম পর্যন্ত এক সুবিশাল ফুল শোভাযাত্রা প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। হায়াসিন্থস, টিউলিপ আর ড্যাফোডিল ফুল দিয়ে বানানো হয় নানা ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যগুলোর নিচে চাকা সন্নিবেশ কিংবা ট্রাক-ভ্যানের ওপর চড়ানো হয়। প্রায় কয়েক লাখ লোক এইসব ফুলের ভাস্কর্য নিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে পথ হাঁটে।

গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকের শেষ দিকে ১৯৪৭ সালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই প্রথমবারের মতো ডাচরা আয়োজন করেছিল বলেনস্ট্রিক নামে ওই ফুল শোভাযাত্রার। বিশ্বযুদ্ধের পর নিজেদের মধ্যে একাত্ম মনোভাব গড়ে তুলতেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। উইলহ্যাম নামে এক রজনীগন্ধা চাষি এই ধারণার সূত্রপাত করেছিলেন এবং ফুল দিয়ে তিনি দেশটিতে প্রথমবারের মতো একটি চলমান ভাস্কর্য নির্মাণ করেছিলেন। পরে নেদারল্যান্ডসের সাসেনহেইন এবং লিসে শহরের বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন ফুল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য। এভাবেই দেশটিতে প্রথমবারের মতো বসন্তকে বরণ করে নিয়েছিল ওই দুটি শহরের বাসিন্দারা।

হানামি (জাপান)

জাপানের বসন্ত উৎসব আর চেরি ফুল যেন একে অপরের পরিপূরক। দেশটিতে মার্চের শেষ দিক থেকে মে মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত সমগ্র জাপানজুড়ে যেন চেরি ফুলের মেলা বসে। জাপানের মানুষ সারা বছর এই সময়টির জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করে। কারণ চেরি ফুটলেই তারা হানামি’র আয়োজন করবে। হানামি হলো এমন একটি উৎসব, যখন জাপানিরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চেরি গাছের নিচে আস্তানা গাড়ে। অনেকটা আমাদের দেশের পিকনিক খেলার মতো। এমন পারিবারিক পার্টি আয়োজনের মাধ্যমেই জাপানিরা বসন্তকে বরণ করে নেয়। কয়েকশ বছর ধরে জাপানে এই রীতিটি চালু আছে।

ফাল্লেস (স্পেন)

প্রতি বছর মার্চে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় যখন ফাল্লেস উৎসব অনুষ্ঠিত হয় তখন শহরটিতে তিনগুণ মানুষ বেড়ে যায়। সপ্তাহব্যাপী উৎসবে প্রায় ৩০ লাখ লোক এই শহরে আনাগোনা করে। রাস্তায় রাস্তায় একে অপরের সঙ্গে নানা রঙ্গ-তামাশায় মেতে ওঠে মানুষ। অপরিচিত হলেও একে অপরকে বিদ্রুপ করে তারা, করে হাসি-ঠাট্টাও। সেইন্ট যোসেফকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হয় এবং এক সপ্তাহ পর পুতুল পুড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়। বসন্তকে বরণ করে নিতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পার্টি হয়। এসব পার্টিতে মধ্যযুগীয় পোশাক পরে অনেকে হাজির হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত