মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আমি কি অপরাধী : বদি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৫ এএম

বিভিন্ন সময়ে ইয়াবার গডফাদারদের তালিকায় ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে নাম থাকলেও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি আত্মসমর্পণ করছেন না। আত্মসমর্পণকারীদের তালিকায়ও তার নাম নেই। তবে তার একাধিক স্বজনের নাম রয়েছে। আছে বদির ঘনিষ্ঠজনরাও। আত্মসমর্পণকারীদের ওই তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা পর্যন্ত তালিকায় নাম ওঠানোর সুযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে যাদের নাম উঠেছে তাদের বিষয়ে বিশদ খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ। ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলোচিত এই আত্মসমর্পণ হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ডক্টর মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী কক্সবাজার যাচ্ছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। এ ছাড়া আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে র‌্যাব মহাপরিচালক, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। থাকার কথা রয়েছে আলোচিত সাবেক সাংসদ বদিরও।

আত্মসমর্পণ করছেন কি না

আমি কেন আত্মসমর্পণ করব : বদি জানতে চাইলে বদি গত সোমবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কি অপরাধী? আমি কি ইয়াবা কারবার করি নাকি? আমি কেন আত্মসমর্পণ করতে যাব? যারা মাদক কারবারি করেছে তাদের সুপথে ফেরত আসতে বলেছি। আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েই মাদক কারবারিরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছে। ইয়াবার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, দেশে কেউ ইয়াবা কারবার করতে পারবে না।’

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে জানান, মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি উপস্থিত থাকবেন। তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যেসব নাম এসেছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তালিকায় বদি সাহেবের বেশ কয়েকজন স্বজন আছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হবে। ইয়াবা কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকরা আত্মসমর্পণ করলে এর প্রভাব সহযোগীদের ওপর পড়বে। তখন ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক ব্যবসা কমে আসবে বলে আশা করি।’ এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আত্মসমর্পণ করার পর অন্য মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান চালানো হবে। কোনো ধরনের আপস করা হবে না।’

সংশ্লিষ্টরা জানায়, মহেশখালীতে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের প্রায় চার মাস পর শীর্ষ ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয় কক্সবাজার ও টেকনাফে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ জন ইয়াবা কারবারি স্বেচ্ছায় পুলিশ হেফাজতে চলে গেছে। এর আগে গত বছর মে মাসে পুলিশ ও র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ওই অভিযানে তালিকাভুক্ত বড় কারবারি ধরা পড়েনি। যারা পুলিশ হেফাজতে গেছে অভিযানকালে তারা কেউ কেউ এলাকায় ছিল; কেউ কেউ ছিল আত্মগোপনে। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই তারা পুলিশ হেফাজতে চলে গেছে।

জেলা পুুলিশের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আত্মসমর্পণের তালিকায় নাম একশর বেশি হতে পারে, কমও হতে পারে। পুলিশের হেফাজতে যারা আছে, তাদের কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। তারা কীভাবে মাদক কারবারিতে এসেছে তা জানিয়েছে। কারবারিতে কাদের সহায়তা নেওয়া হয় তাদের নামও জানাচ্ছে। প্রায় সবাই সাবেক সাংসদ ‘বদির অনুসারী’। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা পর্যন্ত আত্মসমর্পণের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবে কারবারিরা। তারপর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের পুলিশ লাইনে রাখা হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে কড়া পাহারায় তাদের টেকনাফ হাই স্কুল মাঠে নেওয়া হবে। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিসহ অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তারা আত্মসমর্পণ করবে। আত্মসমর্পণের পর তাদের কী হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে ৫-১৫টি পর্যন্ত মামলা আছে। আত্মসমর্পণের পর অন্তত ছয় মাস তাদের কারাগারে থাকতেই হবে।’

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, পুলিশের তালিকা অনুযায়ী তাদের হেফাজতে রয়েছে সাবেক সাংসদ বদির তিন ভাই শফিকুল ইসলাম, আবদুল আমিন, ফয়সাল রহমান, ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, সাহেদ কামালসহ কয়েকজন স্বজন। তার অনুসারী হিসেবে পরিচিতদের মধ্যে আছে দিদার মিয়া, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, নাজিরপাড়ার এনামুল হক মেম্বার, সাবরাংয়ের মোয়াজ্জেম হোসেন, ধানু মেম্বার, জামাল মেম্বার, রেজাউল করিম মেম্বার, আবদুর রহমান প্রমুখ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কক্সবাজার ও টেকনাফে বদির ইশারা ছাড়া কোনো কিছু হয় না। মাদক কারবারিরা এখনও ‘তার শেল্টারেই’ আছে। তবে গত সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বদি আরও বলেন, ‘একটি মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। আমাকে দিয়েই সরকারকে ঘায়েলের চেষ্টা করছে। আমি সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। আমার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়েই মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি কেন আত্মসমর্পণ করব? আমি কি ইয়াবা কারবার করি? তালিকায় আমার নাম নেই। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। টেকনাফ ও কক্সবাজারে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তা করে আসছি; করেই যাব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত