রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এক গোলাপ একশো

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৮ এএম

আজ বুধবার পহেলা ফাল্গুন এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভালোবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইন্স ডে) উপলক্ষে রাজধানীর ফুলের বাজারে গোলাপ যেন এখন অনেকটাই দুর্লভ। এ দুটি দিনে বাড়তি চাহিদার সুযোগে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ দুদিন আগেও এসব গোলাপ প্রতিটি বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৩০ টাকায়।

ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রতি বছরই ফুলের চাহিদা বাড়ে। এ দিনটিতে লাখ লাখ টাকার ফুল বেচাকেনা হবে বলে ধারণা করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, সারা বছর ফুলের ব্যবসা চললেও মূলত তা জমজমাট হয় পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি ও পহেলা বৈশাখে। আর এই বাড়তি চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে দাম বেড়ে হয় তিন থেকে চারগুণ।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ ও ধানমন্ডির বেশ কয়েকটি ফুলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ সময়ে দেশি গোলাপ ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হলে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। চায়না গোলাপ অন্য সময় ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। ২০ টাকা দামের ভারতীয় গোলাপের দাম ঠেকেছে ৭০ টাকায়। আর মালয়েশিয়া ও চীন থেকে আসা অর্কিড লিলি ফুলের চাহিদা আরও বেশি। অর্কিড বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। লিলির দাম উঠেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

‘সায়মন ফুল বিহারে’ পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের চায়না গোলাপ। এ ছাড়াও সেখানে পাওয়া যাচ্ছে গ্লাডিওলাস, কসমস, ডালিয়া, টিউলিপ, কালো গোলাপ, ঝুমকা লতা, গাজানিয়া, প্লামেরিয়া ও চন্দ্রমল্লিকা। এখানে একটি গোলাপ ১০০ টাকার কমে বিক্রি করা হচ্ছে না। দোকানটির মালিক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সকালে এই গোলাপ বিক্রি করেছি ৫০ টাকায়। দুপুরে ৭০, এখন বিক্রি করছি ১০০ টাকায়। আর কাল এই ফুলই বিক্রি করতে পারি ১২০ অথবা ১৫০ টাকায়। চাহিদার ওপর নির্ভর করবে দামের বিষয়টি।’

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিজা জোয়ার্দার বলেন, ‘বিশেষ দিন, তাই বিশেষ মানুষের জন্য ফুল কিনতে আসছি। দাম বেশি হলেও কিনতে হবে, কম হলেও কিনতে হবে। কিন্তু আমাদের এই প্রয়োজনীয়তার সুযোগ নিয়ে ফুল দোকানিরা গলাকাটা ব্যবসা করছে। আমি চারটি লাল গোলাপ কিনেছি ২০০ টাকা দিয়ে। অন্য সময় কিনলে আমার খরচ পড়ত ৪০ টাকা।’

ডালিয়া ফুল কিনেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তাইফুর রহমান শুভ। তিনি বলেন, ‘মা আর ছোট বোনের জন্য ফুল কিনেছি। ছোট বোনকে দেব ফাল্গুনের ফুল, আর মাকে দেব ভালোবাসা দিবসের ফুল।’

ফুলের চড়া দামের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘সারা বছর তো ফুল বেচাকেনায় তেমন কোনো লাভ আমাদের হয় না। তাই এই সময়গুলোতে দাম বাড়িয়ে কিছুটা লাভ করেন ব্যবসায়ীরা।’

তার দোকান ‘আনিকা পুষ্প বিতানে’ এবার কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশা করছেন আবুল কালাম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত