মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংখ্যায় এগিয়ে কবিতার বই, মানে ঘাটতি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১১ এএম

কত মানুষই তো কবিতা লেখার চর্চা করেন, সবাই কি কবি হন? জীবনানন্দ দাশের ভাষায়, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বইমেলায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮৯টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। পরের অবস্থানে রয়েছে উপন্যাস (২৭২টি) ও গল্পগ্রন্থ (২৬৬টি)। সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও সব কবিতার বই কি সাহিত্য মানে সমৃদ্ধ? জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহম্মদ সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নিজস্বতা নিয়ে দাঁড়াতে পেরেছেন এমন লেখকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে অনেকেই চেষ্টা করেছেন। এই চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। এখন যারা চেষ্টা করছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো নিজস্বতা নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। তবে লেখার জন্য প্রচুর বই পড়তে হবে।’

বইমেলা ঘুরে দেখা গেছে, তরুণদের কবিতাগ্রন্থের সংখ্যা বেশি। বিষয়টি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন কবি আসাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তরুণরা কবিতা লিখছে, এটা আমাদের আশাবাদী করে। মেলায় তরুণ কবিদের মধ্যে প্রথমা এনেছে পিয়াস মজিদের ‘ক্ষুধা ও রেস্তোরাঁর প্রতিবেশী’ ও পাঞ্জেরী এনেছে তার ‘প্রেমপিয়ানো’, অন্যপ্রকাশ এনেছে হক ফারুকের ‘নিঃসঙ্গতার পাখিরা’, বাতিঘরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কবিতাভবন এনেছে আহমেদ মুনিরের ‘জেল রোডের প্রেমগীত’, নৃ প্রকাশনী এনেছে সরোজ মোস্তফার কাব্যগ্রন্থ ‘লাল রক্তের ব্রহ্মাংশ’, আলতাফ শাহনেওয়াজের ‘কলহ বিদ্যুৎ’, মুয়িন পারভেজের ‘সঞ্জয় উবাচ’, আসমা বীথির ‘এসো হে জন্ম’, রিমঝিম আহমেদের ‘ময়ূরফুলের সন্ধ্যা’। এছাড়াও শ্রাবণ প্রকাশনী এনেছে ওয়ায়েদ আকাশের কবিতাগ্রন্থ ‘স্বতন্ত্র কবিতা’, অনন্যা এনেছে মহাদেব সাহার ‘কোথায় পাই দিব্যজ্ঞান’, কবি প্রকাশনী এনেছে রেজাউদ্দিন স্টালিনের ‘সরলার সংক্ষিপ্ত জীবনী’, হাওলাদার প্রকাশনী এনেছে শহীদ কাদরীর ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’, অন্যপ্রকাশ এনেছে শিহাব শাহরিয়ারের ‘পড়ে থাকে অহংকার’, শুদ্ধপ্রকাশ এনেছে ইসমত শিল্পীর ‘কুয়াশার দিনলিপি’। এছাড়া মেলায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে শাহনাজ মুন্নীর ‘নির্বাচিত কবিতা’। প্রকাশ করবে চৈতন্য।

মূলমঞ্চ : গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবি-অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসান হাফিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফিউল আলম, রেজাউদ্দিন স্টালিন ও মোহাম্মদ আবদুল হাই। সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ। এরপর সন্ধ্যায় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি জাহিদুল হক ও জাহিদ হায়দার।

লেখক বলছি : প্রতিদিনের মতোই গতকালও লেখক বলছি মঞ্চে প্রকাশিত নতুন বই নিয়ে কথা বলেন লেখকরা। এ সময় পাঠকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তারা। আলোচনায় অংশ নেন আখতারুজ্জামান আজাদ, মোহিত কামাল, বেগম আকতার কামাল, হামিম কামাল ও নাসরিন সিমি।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার মেলায় এসেছে ১৪৯টি নতুন বই। এর মধ্যে রয়েছে, গল্পগ্রন্থ ২৭, উপন্যাস ২৫, প্রবন্ধ ৬, কবিতা ৪৪, গবেষণা ২, ছড়া ৪, শিশুসাহিত্য ১, জীবনী ৪, মুক্তিযুদ্ধ ৪, বিজ্ঞান ৬, ভ্রমণ ৫, ইতিহাস ১, রাজনীতি ৪, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ১, অনুবাদ ১, সায়েন্স ফিকশন ১, অন্যান্য ১৩। আজ বুধবার বসন্তের প্রথম দিন। প্রতিবারই বসন্তের ছোঁয়া লাগে বইমেলাতে। নানা রঙে সেজে ওঠে মেলা। আজও মেলা প্রাঙ্গণে সবাই মাতবে বসন্ত উৎসবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত