রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান ভূপেন হাজারিকার পরিবারের

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৭ এএম

প্রয়াত সংগীতজ্ঞ ভূপেন হাজারিকাকে ভারত সরকারের দেওয়া ‘ভারতরত্ন’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। গত সোমবার ভূপেন হাজারিকার ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তেজ হাজারিকা পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই উপাধি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বিবৃতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধন বিল ২০১৬-এর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি এই ‘বেদনাদায়কজনবিরোধী’ বিল আমার বাবা ভূপেন হাজারিকার মতাদর্শ ও নৈতিক অবস্থানের বিরোধী। আমার বাবার নৈতিক অবস্থান সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত যে ধারণা, এর মধ্য দিয়ে তাকে খাটো করা হচ্ছে। হৃদয়ের অন্তঃস্তলে যে বিশ্বাস ভূপেন ধারণ করতেন, এটা তার বিপরীত।” তেজ হাজারিকা আরও বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে আসামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি জানি। ভূপেন হাজারিকা সব সময় আসামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছেন। আমরা তাই এই সম্মান গ্রহণ করতে পারব না। আমরা জানাতে চাই, ভারত সরকার তাকে যে মরণোত্তর সম্মান দিয়েছে তা আমাদের পরিবার গ্রহণ করতে পারে না। নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভারতরত্নের চেয়ে এনআরসি বিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমি কিছু জবাব রেকর্ড করছি। এ পর্যন্ত আমি কোনো দাওয়াতপত্র পাইনি তাই প্রত্যাখ্যান করারও কিছু নেই। কেন্দ্র এ বিষয়টি নিয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা পুরস্কার প্রদানের গুরুত্ব ও জাতীয় স্বীকৃতিকে অর্থহীন করছে। ফলে এটা স্বল্পমেয়াদি সস্তা রোমাঞ্চের প্রদর্শনী।’

মোদি সরকার ২০১৭ সালে ভূপেন হাজারিকার নামে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতুটির নামকরণ করে। এ বিষয়ে তেজ হাজারিকা বলেন, ‘ভারতরত্ন এবং সবচেয়ে বড় সেতু প্রয়োজনীয় বিষয়, কিন্তু তা ভারতের জনগণের মধ্যে শান্তি এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করে না।

ভূপেন হাজারিকার বোন সুদক্ষিণা শর্মা ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বলেন, ‘ভূপেনদা শুধু আসামের সন্তান নয়, গোটা ভারতের। ভারতরত্ন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার আমরা কেউ না। কিন্তু জীবিত অবস্থায় এই উপাধি পেলে তিনি খুশি হতেন।’

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এই সম্মান প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্কৃতি অঙ্গনের ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পদক পেয়েছেন ১৯৯২ সালে। ২০০৯ সালে পেয়েছেন আসামরতœ পদক, ১৯৭৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ পেয়েছেন ২০০১ সালে, পদ্মবিভূষণ পেয়েছেন ২০১২ সালে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরেই আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সর্বশেষ সংশোধনীতে কয়েক লাখ বাঙালির নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। আবার অনেক স্থানীয় বাসিন্দার নামও বাদ পড়ে যায় এনআরসি থেকে। যাদের মধ্যে আছেন সাবেক এমপিও।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত