মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংসদে আইনমন্ত্রী

দেশে রোহিঙ্গা চাপে খাদ্যসংকট হবে না

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৯ এএম

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাড়তি চাপে দেশে আপাতত খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে বিরোধীদলীয় সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সম্পাদিত এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষরের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৩১৭ টন ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (নেত্রকোনা-৫) প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৩১৭ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২ টন, গম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৬ টন ও ধানের পরিমাণ ১ হাজার ৩৪৯ টন।

তিনি আরও জানান, দেশে মোট খাদ্য গুদামের সংখ্যা ২ হাজার ৭২২টি এবং গম সংরক্ষণের জন্য সাইলো রয়েছে ৭টি। এসব খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮২২ টন।

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওএমএস কার্যকর ভূমিকা রাখছে

সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে গত ১০ বছরে সরকার সফলতা অর্জন করেছে। খাদ্যশস্যের বাজার দরের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সাশ্রয়ীমূল্যে ওএমএস (খোলাবাজারে সরকারের বিক্রি) কর্মসূচিতে চাল ও আটা বিতরণ চালু করা হয়। ওএমএসের মাধ্যমে গত ১০ বছরে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ২২৪ দশমিক ৩৩ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়, যা চালের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

রোহিঙ্গা পাচারের ঘটনা খুব একটা ঘটছে না : আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাচারের ঘটনা খুব একটা ঘটছে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘পাচারের ব্যাপারে কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছিল সেগুলো আমরা শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছি এবং এগুলো এখন খুব একটা ঘটছে না।’

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের ‘সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইন কনফ্লিক্ট’ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে এসে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে। দেড় বছর আগে রাখাইনে সেনা অভিযানে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে ধর্ষণ, হত্যা, বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার শিকার হওয়ার কথা উঠে আসে। জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধিকে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে আছে। রোহিঙ্গারা যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ছিল, তখন সেখানে যথেষ্ট যৌন নির্যাতন হয়েছে, যা অনেকেই জানেন ও দেখেছেন। আমাদের এখানে কোনো সমস্যা নেই।’

রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ট্রমা কীভাবে কমানো যায়, তারা এখানে কীভাবে একটু স্বস্তিতে থাকতে পারে, সে ব্যবস্থা করতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত