শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৮২ কেজির বাঘাইড়

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৪৮ পিএম

বগুড়া গাবতলীতে বসেছে দুই শ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। বুধবার মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা হয় অনেক প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ। এর মধ্যে প্রায় ৮২ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ নজর কাড়ে সবার।

এ ছাড়া ক্রেতা আকর্ষণে মেলায় তোলা হয় অনেক বাড় আকারের মিষ্টি। আশপাশের গ্রাম থেকে আসা বিপুলসংখ্যক আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবের ভিড়ে মেলা পরিণত হয় মিলনমেলায়।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, প্রায় দুই শ বছর আগে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতী নদীর শাখা (খাল) সংলগ্ন পোড়াদহে একটি বট গাছের নিচে আয়োজন হতো সন্ন্যাসী মেলা। প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুনের প্রথম বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়ার বাসিন্দাদের মিলনমেলা।

তারা জানান, মেলা উপলক্ষে সেখানকার বাসিন্দাদের রেওয়াজ হয়ে উঠেছে আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানো। মেলায় শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা নাগরদোলা, সার্কাস, মোটরসাইকেল খেলা, বিভিন্ন প্রকার খেলনা ও বেলুন দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ে দর্শনার্থীদের।

এ ছাড়া দেখা যায়, মেলার একপাশে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অন্য কাঠের আসবাবপত্রের দোকান।

মেলার প্রধান আকর্ষণ মাছপট্টিতে বিশাল আকৃতির বাঘাইড় ছাড়াও উঠেছিল বড় বড় চিতল, বোয়াল, রুই, কাতলা, সিলভার কার্প ও শোল মাছ।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, ৮২ কেজি ওজনের বাঘাইড় বিক্রি হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া ৪০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ বিক্রি হয়েছে এক হাজার টাকা কেজি।

মাড়িয়া গ্রামের চিন্ময় মজুমদার জানান, ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ বিক্রি হয় এক হাজার ৭০০ টাকা কেজি হিসেবে। এ ছাড়া ১৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা কেজি। ৪ থেকে ৬ কেজি ওজনের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় মেলায়।

পোড়াদহ মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি ও মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, মেলার যে ঐতিহ্য তা টিকিয়ে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম আহম্মেদ জানান, মেলা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ করতে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত