সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রক্তপাত ছাড়াই দ্বীপ রক্ষা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৭ পিএম

গত বছর ৪০টি নৌকার একটি নৌবহর শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চল থেকে রওনা দেয় ইরানাইতিভু দ্বীপপুঞ্জের দিকে। ওই দলে ছিলেন পাদরি, নারী, মৎস্যজীবী, স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। নৌকার মাথায় সাদা পতাকা টানিয়ে তারা চলে ২৫ বছর ধরে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর দখলে থাকা দ্বীপ উদ্ধার করতে।

দক্ষিণে ভারত এবং উত্তরে শ্রীলঙ্কার ঠিক মাঝামাঝি পেরিয়াথিভু ও সিন্নাথিভু নামে দুটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইরানাইতিভু। তা অনেকটা দেখতে শান্ত মনোরম স্বর্গের মতো।

১৯৯২ সালের দিকে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ওই দ্বীপটির দখল নেয়। লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমকে (এলটিটিই) পরাস্থ করতে নৌবাহিনী দ্বীপটিতে একটি ঘাঁটি বানায়। এতে সহস্রাধিক পরিবার নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়। তামিল এই গ্রামবাসীর দাবি, তাদের জোর করে ইরানামাতা নগর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এমনকি এলটিটিইর বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হলেও গ্রামবাসীকে নিজ বাড়িতে ফিরতে দেয়নি নৌবাহিনী। যদিও বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নৌবহরের অধিকাংশই ছিলেন নারী। তারা বিবিসিকে জানায়, সশস্ত্র নৌবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হতে পারে, এমন ভয়ে ভীত ছিলেন তারা। কিন্তু তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন তাদের দ্বীপ পুনরুদ্ধারে।

গ্রামবাসীর মধ্যকার একজন পাদরি ফাদার জেবাবালান বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, সৈকতে নামার আগেই নৌবাহিনীর একাধিক নৌযানের মুখোমুখি হব আমরা। এমনটা হলে আমরা কিছু ভিডিও ফুটেজ পেতাম, যা দিয়ে আমাদের সংগ্রামের বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতাম। কিন্তু এমন কিছুই ঘটেনি।’ গ্রামবাসী কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সৈকতে নামতে পারে।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা শামিন বনিভাস অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই কাঁদছিলাম। সৈকতের বালুতে চুমু দিচ্ছিলাম আনন্দে। আমরা অবশেষে বাড়িতে ফিরতে পেরেছি এবং কোনো দিন আর ফিরে যাব না।’

আনন্দ উদ্যাপনের মধ্যেই তাদের সামনে এগিয়ে আসে নৌবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার একপর্যায়ে যাদের কাছে ভূমির দলিল আছে, তারাই কেবল থাকতে পারবে এমন সিদ্ধান্ত আসে। স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষকের কাছে একটি ফাইলে রাখা জমির দলিল দেখে ভূমির মালিকদের দ্বীপে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত