শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্ববাসীর বর্জ্যরে ভাগাড়!

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০২ পিএম

বিশ্ববাসী প্রতিদিন যে প্লাস্টিক পণ্য বাতিল করে দেয় তা আমদানি করে মালয়েশিয়া। দেশটির একটি ছোট শহর বিশ্ববাসীর এই ১৭ হাজার টনের বেশি বোঝা একা বয়ে বেড়াচ্ছে। ২০১৭ সালে চীন সরকার বহির্দেশীয় প্লাস্টিক বর্জ্য পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পর মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাং হয়ে উঠেছে ওই বর্জ্যরে শেষ ঠিকানা। ২০১৭ সালের পর থেকে শহরটিতে প্রতি বছর ৭০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য আসতে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

২০১৮ সালে কমবেশি শুধু সাত লাখ ৫৪ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পণ্য আমদানি করে মালয়েশিয়া। ফলে দেশটিতে রাতারাতি বৈধ পুনর্ব্যবহারযোগ্য কারখানার পাশাপাশি অনেক অবৈধ কারখানাও গড়ে ওঠে। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অবৈধ কারখানাগুলো বছরে ৭৩৪ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে।

মালয়েশিয়ার স্টেট কাউন্সিলের মতে, জেনজারোম জেলার কুয়ালা ল্যাঙ্গাতে মোট ৩৩টি অবৈধ পুনর্ব্যবহারযোগ্য কারখানা গড়ে উঠেছে। শুরুর দিকে শহরবাসী এই কারখানাগুলোর অস্তিত্ব টের না পেলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারে তাদের বাড়ির পাশেই কী ভয়ানক কারখানা গড়ে উঠেছে।

শহরবাসীদের একজন মি. তে তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘কিছুদিন পরেই বাজে গন্ধ আসতে শুরু করে। বছরের আগস্ট মাসে এর পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করতে থাকি এবং এক পর্যায়ে কাশি শুরু হয়। যখন আমি বুঝতে পারি ওই কারখানাগুলোর জন্যই আমার শারিরীক অবস্থার অবনতি হয়েছে, তখন খুব রাগ হয়।’

আমদানি করা সকল প্লাস্টিকই পুনর্ব্যবহার করা যায় না। বৈধ কারখানাগুলো ওই প্লাস্টিক বর্জ্য নিষ্কাশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেয় কিছু অর্থের বিনিময়ে। কিন্তু অবৈধ কারখানাগুলো ওই প্লাস্টিক হয় পুড়িয়ে দেয় নয়তো মাটিচাপা দেয়। এর ফলে কারখানা পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের শরীরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেরই শরীরে র‌্যাশ, ত্বক ফ্যাকাশে এবং ব্যথার সৃষ্টি হয়।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়ো মলিকিউলার প্রকৌশলের অধ্যাপক টয় ইয়েন ওয়াহ বিবিসিকে জানান, ‘প্লাস্টিক পোড়া ধোঁয়ার ফলে মানব শরীরে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিক পোড়া ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত