শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সর্দিগর্মি হলে পরে

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৩ পিএম

শীত কমে হঠাৎ করেই একটু গরম বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। বিশেষ করে সর্দি গরমের রোগীর দেখা মিলছে প্রায় প্রতিটি পরিবারে। গরমে ঘামার পর সেই ঘাম শরীরে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।

শরীরে বসে যাওয়া এই ঠান্ডা থেকেই সর্দিগর্মির উৎপত্তি। এ থেকে হতে পারে জ্বর, কাশি, মাথা ব্যথা, সর্দির মতো অস্বস্তিকর রোগ। এই রোগের স্থায়িত্ব কম হলেও ভেতর থেকে শরীর দুর্বল করে ফেলে। এই দুর্বলতার ফলে রোগের পর ধকল সামলে উঠতে অনেকেই পারেন না, আরও বড় কোনো ভাইরাল অসুখে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে স্পঞ্জিং করা উচিত। পুরো শরীর ভেজা নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে একটানা কয়েকবার মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। এতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা ঠিক হবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে পানিতে শিশুটিকে বসিয়ে স্পঞ্জ করাই সুবিধাজনক। বড় কোনো গামলা ভর্তি করে পানি নেওয়া উচিত। স্পঞ্জিং আলো-বাতাসযুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ভালো কাজ দেয়। মাথা ব্যথা বেশি হলে একটি প্লাস্টিকে কিছু বরফের টুকরো নিয়ে মাথায় ব্যথা জায়গায় দিয়ে রাখতে পারেন। মাথা ব্যথা কম হবে। বরফ শরীরে শিরার স্ফীতি কম করে। এ ছাড়া সাধারণ সর্দিগর্মিতেই যদি নিজের একটু খেয়াল রাখতে পারেন, তাহলে পরে রোগের ঝুঁকি কমে যায়। বিশেষ করে খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকলে রোগ প্রতিরোধ করা  অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

১. মৌসুমি ফল সর্দিকাশি প্রতিরোধ করে। আঙুর, বাঙ্গি, তরমুজ, আনারস, আমড়া ইত্যাদি ফল খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন। এছাড়া বিটা-ক্যারোটিনসমৃদ্ধ খাবার। যেমন: অ্যাপ্রিকট, গাজর, ব্রোকলি ইত্যাদি। কারণ, বিটা-ক্যারোটিন নাক ও ফুসফুসে সর্দি জমতে দেয় না।

২. পথ্য হিসেবে চিকেন স্যুপ খুব কাজে দেয়। এ সময় গরম-গরম চিকেন স্যুপ যেমন খেতে ভালো লাগবে, তেমনি জমে থাকা সর্দিও সরিয়ে দিবে।

৩. ফুটন্ত পানিতে তুলসী পাতা ও আদা দিয়ে ভালো করে ফোটান। ঈষদুষ্ণ এই মিশ্রণ খুসখুসে কাশি দূর করবে ও বুকে কফ জমতে দেবে না। আধা চা চামচ দারুচিনির গুঁড়োর সঙ্গে দুই চা চামচ মধু ও অল্প আদার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। আদার রসের সঙ্গে মধু ও মেথিগুঁড়ো মিশিয়ে খান। গলাব্যথা থাকলে কমে যাবে।

৪. সর্দিকাশি ও জ্বরের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে ভিটামিন-সি। সর্দিগর্মির সময় রক্তে হিস্টামিন নামক এক ধরনের উপাদান বেশি বেড়ে যায়। ফলে নাকেমুখে একটা দমবন্ধ ভাব লাগে। ভিটামিন-সি হিস্টামিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ভিটামিন-সি শ্বেত রক্তকণিকা মজবুত করে ইনফেকশন প্রতিরোধ করে। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার রাখুন। সর্দিজ্বরের সময় লেবু, টমেটো প্রতিদিনের খাবারে খান।

৬. রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিও প্রতিরোধে সাহায্য করে। দুই টুকরো কাঁচা রসুন খান প্রতিদিন। গলায় আরাম পাবেন, জিভের আড়ষ্টতাও কাটবে।

 ৭.  প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সঙ্গে আদা চা, শরবত, ডাবের পানি, জুস, স্যুপ ইত্যাদি। কারণ তরল পদার্থ জমে থাকা সর্দি শরীর থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে। ৪৮ ঘণ্টার পরও জ্বর না কমলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত