শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফাগুনে ‘ফাগুন হাওয়ায়’

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৯ পিএম

আগামীকাল দেশের ৫২ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে বাহান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত তৌকীর আহমেদের সিনেমা ‘ফাগুন হাওয়ায়’। ছবির প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় দুই তারকা সিয়াম আহমেদ ও নুসরাত ইমরোজ তিশা। তারা এখন এ সিনেমার শেষ মুহূর্তের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। এই ছবি নিয়ে লিখেছেন হাসান আহমেদ

সকালে এই টেভিশিনে তো, দুপুরে আরেক সংবাদপত্রের অফিস, বিকেলে হয়তো কোনো বিশ^বিদ্যালয়ে আবার রাতে ফেইসবুক লাইভে। গত কয়েক দিন এভাবেই সময় কাটছে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সিনেমার নায়ক-নায়িকা সিয়াম আহমেদ ও তিশার। তারা এর আগে কয়েকটি নাটক করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কিন্তু বড় পর্দায় জুটি হওয়ার খবরে দর্শকের একাংশ খুব একটা মেনে নিতে পারেনি। ভেবেছেন, ‘বয়সের পার্থক্যের কারণে তাদের চলচ্চিত্রে মানাবে কি না!’

সিয়ামের প্রথম দুটি চলচ্চিত্র ‘পোড়ামন ২’ ও ‘দহন’-এ তার নায়িকা ছিলেন স্কুলপড়ুয়া পূজা চেরী। এ জন্য হয়তো দর্শক এমনটি মনে করেছেন। তবে ছবির ট্রেইলার, গান দেখে অবশ্য অনেক দর্শকের ভুল ভেঙেছে। কারণ ‘ফাগুন হাওয়ায়’ টিম তাদের কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছে। এখন অপেক্ষা আজকের দিনের। আগামীকাল বড় পর্দায় সিনেমাটি আসার পর বাকি দর্শকরাও হয়তো বুঝতে পারবেন তৌকীর আহমেদ ঠিক চরিত্রে ঠিক শিল্পীই নির্বাচন করেছেন। নিজেদের কাজ নিয়ে সিয়াম-তিশাও আশাবাদী।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাগুন হাওয়ায় ছবির এখন জয়জয়কার। পোস্টার, টিজার আর ট্রেইলারের পর ছবির গানটি জনপ্রিয় হয়েছে। পরিচালক তৌকীর আহমেদ জানান, ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে মুক্তির আয়োজন হলেও ফাগুন হাওয়ায় ছবির গল্প বায়ান্নর প্রেক্ষাপটকে ঘিরে। টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্প থেকে নেওয়া এ ছবির সংলাপ ও চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন তৌকীর আহমেদ। ছবিতে বায়ান্নর ঘটনার পাশাপাশি রয়েছে ভালোবাসা ও মানবিক বিষয়। দর্শক এখানে চলচ্চিত্রের সব উপাদানই পাবেন।

ফাগুন হাওয়ায় ছবিতে এক মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলনের সময়ে মানুষের ভাবনা, আন্দোলন আর চেতনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরেছেন তৌকীর আহমেদ। তার মতে, ‘অভিনয়শিল্পীদের চমৎকার অভিনয় আর সুনির্মাণের যে চেষ্টা, তাতে ছবিটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

সিনেমায় এই গল্পটিকে বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘এর প্রধান কারণ হলো বাঙালি হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা। আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিক হলো এই ভাষা আন্দোলন। কিন্তু এর মাহাত্ম্য নিয়ে বড় পরিসরে কোনো কাজ হয়নি এত দিন। জীবন থেকে নেওয়া বা বাংলার মতো দু-একটি ছবিতে অল্প বিস্তর দেখানো হয়েছে। এটিই ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। ফলে এই ছবির একটি আর্কাইভাল মূল্যও আছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তো আমাদের জানাতে হবে কীভাবে আমরা মাতৃভাষা পেলাম। এই চিন্তা থেকেই ছবিটি করা।’

সিয়াম বাণিজ্যিক ঘরানার দুটি ছবিতে সফল হয়েছেন। এবার একেবারেই ভিন্নধর্মী ছবিতে হাজির হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আসলে কোনো নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে বন্দি থাকতে চাই না। প্রথম থেকেই খুবই সচেতনভাবে চেয়েছি নিজেকে ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করতে। এ জন্য রোমান্টিক গল্পের ছবি ‘পোড়ামন ২’ দিয়ে আমি সফলতা পেলেও পরের ছবিতে আমি সেই ধরনের গল্প আর করতে চাইনি। এ জন্য ‘ফাগুন হাওয়ায়’ বেছে নিয়েছিলাম। এরপর দহন যখন করলাম, দেখলাম তাতেও একটি নেতিবাচক চরিত্রের ছাপ আছে। সব মিলিয়ে নতুন নতুন কিছু করতে চাই।

ফাগুন হাওয়ায় ছবিটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আমি নাসির নামের একটি চরিত্র করেছি। যে খুবই সমাজসচেতন। তবে সে খুব একটা কথা বলে না, ভাবে বেশি। এই চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে তৌকীর ভাই অসম্ভব সাহায্য করেছেন। তিনি একজন ভালো অভিনেতা বলেই আমাকে সহজে বুঝিয়ে দিতে পারতেন। যারা আমাকে আগের দুটি ছবি দেখে সে রকম অভিনয় দেখার জন্য হলে আসবেন, তারা একটু হতাশ হবেন। তবে যারা ছবির গল্প বুঝে বিবেচনা করবেন, তারা উপভোগ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

ছবিটি প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘এমন একটি ইতিহাসনির্ভর ছবির সঙ্গে যুক্ত হতে পারাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। তা ছাড়া এ ছবির পুরো আয়োজন আমার খুব ভালো লেগেছে। এর আগে তৌকীর ভাইয়ের হালদা ছবিটিতে দর্শক আমাকে পছন্দ করেছেন। সিয়ামের সঙ্গেও আমার জনপ্রিয় নাটক রয়েছে। এর বাইরে ফাগুন হাওয়ায় ছবির পুরো টিম খুব ভালো ছিল। আমাদের সঙ্গে একজন বলিউডের অভিনেতাও কাজ করেছেন। ফলে আমি খুব আশাবাদী ছবিটি নিয়ে।’

ফাগুন হাওয়ায় ছবিতে নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিশা বলেন, ‘এটি আসলে সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। কারণ আমরা ২০১৯ সালে বসবাস করি। কিন্তু সবাইকে সেই ১৯৫২ সালের মফস্বল শহরের চরিত্র হয়ে উঠতে হয়েছে। বিশেষ করে আমি যে চরিত্রটি করেছি, সেই মেয়েটির কথা বলার ধরন, জীবনকে নিয়ে ভাবনার ধরন, কোনো কিছুতে রি-অ্যাক্ট করার ধরনে তো এক নয়। এটা আমাকে ভেবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে।’

জানা গেছে, মুক্তির প্রথম দিনে বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের সীমন্ত সম্ভার শাখায় ছবিটি দেখবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্রটির পরিচালক তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা চেয়েছি ছবিটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বরা যেন দেখেন।

তাই রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মস ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। রাষ্ট্রপতি তার আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আমরা চাই, ছবিটি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও যেন প্রেক্ষাগৃহে পরিবার নিয়ে দেখেন।’

ইমপ্রেস টেলিফিল্মস প্রযোজিত ও অভি কথাচিত্র পরিবেশিত ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন বলিউডের যশপাল শর্মা, আবুল হায়াত, আফরোজা বানু, ফারুক হোসেন, সাজু খাদেম, আজাদ সেতু, হাসান আহমেদ প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত