শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খুলনায় নদী দখল করে ১৮ ইটভাটা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৯ এএম

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় হরি ও ভদ্রা নদীর তীর দখল করে মাত্র ৪ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে ১৮টি ইটভাটা। উপজেলার আঙারদাহো ও রানাই এলাকার এসব ইটভাটার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।

এলাকাবাসী জানান, নদীর পারে ভূমিহীন কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়েছিলেন। সেই জমির সঙ্গে ব্যক্তিগত জমি ইজারা নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে পর্যয়ক্রমে ভাটা মালিকরা ওই ১৮টি ভাটা গড়ে তুলেছেন। ওই ভাটাগুলোই অধিকাংশই বসতবাড়ির ১০ থেকে ১০০ গজের মধ্যে। ভাটার ধুলা আর কালি ফসলি জমিতে পড়ায় ফসলের উৎপাদনও কমে গেছে। অতিরিক্ত ইট বহন করার কারণে খর্ণিয়া-শোলগাতিয়া পাকা সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মূলত হরি ও ভদ্রা নদীর গতিপথ একই। হরি নদীটি ডুমুরিয়া উপজেলার খুরনিয়া সেতুর পর থেকে ভদ্রা নদী নামে পরিচিত। সরেজমিনে দেখা যায়, এসব ইটভাটা নদীর পশ্চিম পাশে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে নদীর ভেতরে অর্ধেক জায়গা দখল করে ফেলেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পূর্ব দিকে বাঁক নিয়েছে। এতে ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে পূর্ব পাশের প্রায় তিন শতাধিক বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ওইসব ইটভাটায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮টি ইটভাটার মধ্যে হাফিজুর রহমানের এবি ব্রিকস, এফএমবি ব্রিকস, মশিউর রহমানের মেরি ব্রিকস, অসীম কুমার দের প্রাইম ব্রিকস নামের ইটভাটার বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই।

উপজেলার আঙারদাহো গ্রামের এমদাত হোসেন জানান, রাতে বস্তায় করে ইটের টুকরো ভরে ইটভাটার সামনের নদীতে ফেলা হয়। পরে সেখানে পলি জমলে বাঁধ তৈরি করছে ইটভাটার মালিকরা। রানাই গ্রামের আবু তালেব বলেন, ভাটার ধোঁয়া আর বালিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নদী দখলের বিষয়টি এড়িয়ে যান। মেরি ব্রিকস নামের ইটভাটার মালিক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি নদীতে বাঁধ দিইনি। লাইসেন্সের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি।’

খর্ণিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও খুলনা-৫ আসনের সাংসদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘অবৈধ ভাটা ও নদী দখলদার ভাটার ব্যাপারে ঠিক ওইভাবে খোঁজ নেওয়া হয়নি। পাউবোর ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওইসব ইটভাটার মালিকরা অধিকাংশই সরকারদলীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় নদী দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। খুলনা জেলা প্রশাসক হেলাল উদ্দিন বলেন, নদী দখলদার ও অবৈধভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত