রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তামিমদের কারণে লড়াইও হলো না

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫১ এএম

বিপিএল খেলে সোজা নিউজিল্যান্ডে। যে সফর দিয়ে আসলে শুরু ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ন্যূনতম সময়ও মেলেনি। তাতে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে বুধবার বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডেতে বিরাট ব্যবধানে হারল। প্রমাণিত, যেকোনো যুদ্ধের আগে প্রস্তুতির বিকল্প নেই। নইলে পরিণতি এমন লড়াই ছাড়া হার।

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে নিউজিল্যান্ডের টার্গেট ছিল ২৩৩। ইনজুরি থেকে ফিরে মার্টিন গাপটিল ১১৭ রানে অপরাজিত। ৩৩ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় স্বাগতিকদের জন্য প্রচণ্ড স্বস্তির। ভারতের বিপক্ষে ৪-১-এ সিরিজ হারার ক্ষতে মলম দেওয়া আর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কাজের দুই লক্ষ্যে এর চেয়ে দারুণ শুরু আর কী হতে পারে!

উল্টো ব্যাপার বাংলাদেশের। যেন ভারতের আগে নিউজিল্যান্ড সফর করে যাওয়া শ্রীলঙ্কার কথা মনে করাল তারা। আশার প্রদীপ জ্বালে। কিন্তু ঝড়ো হাওয়ার ঝাপটা রুখতে পারে না। আলো-অন্ধকারে তাই হাতড়ে ফেরা। এমন ব্যাটিং উইকেটে একটু পরিকল্পনা করে খেললে স্কোর আরও বড় হয়। কিন্তু শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের যখন তখন ভুল শট বেছে নেওয়ার প্রবণতা সব কেড়ে নেয়।

তাও ভালো সাত বল বাকি থাকতে অল আউট হওয়ার সময় ২৩২ কিছুটা সম্মান জানাচ্ছিল। নইলে ৪২ রানে ৪ উইকেট আর ১০০-এর আগে ৬ উইকেট হারানো দলকে তো চোখ রাঙাচ্ছিল লজ্জা। মোহাম্মদ মিঠুন (৬২) অষ্টম উইকেটে ৮৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে (৪১) নিয়ে। তেড়েফুঁড়ে মেহেদী হাসান মিরাজের দিয়ে যাওয়া ২৬-এর কথাও বলতে হবে।

পরে ত্রয়োদশ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ৫০ হয়েছে। ২১তম ওভারে ১০০। তখনো কোনো উইকেট পড়েনি। আগে ব্যাট করলে হয়তো এতটা আয়েশে চলা যেত না। কিন্তু বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও পরিকল্পনামতো নিপুণ কাজ করেছে নিউজিল্যান্ড।

ওটাই ছিল না বাংলাদেশের। শুরু থেকেই তাড়াহুড়ো! টস জিতেছে। কিন্তু দুই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট ও ম্যাট হেনরি ঝটপট ৪ উইকেট তুলে নেন। সুইংয়ে নাকাল করেছেন। নতুন কন্ডিশনে রয়েসয়ে তাদের সুইং না সামলে পাল্টা আক্রমণে বাজে শট বেছে নেওয়ার মূল্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

তামিম ইকবাল (৫) এক বাউন্ডারির পর বোল্টের সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বলকে উল্টো খেলতে যান। নড়বড়ে অন্য ওপেনার লিটন দাস (১) হেনরির সুইংয়ের দিশা খুঁজে না পেয়ে বোল্ড। সৌম্য সরকার (৩০) ২৬ রান করলেন ৫ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায়। অন্য প্রান্তে পতন দেখেও নিজের রাশ না টানার মূল্য দিয়েছেন। বোল্টের বলে হেলমেটে আঘাত পেয়েও সামলে নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু কিউই পেসারের বলকে স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হয়েছেন ৫ রান করে। এক বল পরই হুক করে বোলার হেনরির হাতে বল তুলে দিয়েছেন সৌম্য।

টপ অর্ডারকে মেরুদণ্ড মানলে তা ভেঙেছে ৮.২ ওভারে। ৪ উইকেট হারিয়ে। একটু বিরতি। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে শেষ দেখায় সেঞ্চুরি হাঁকানো মাহমুদউল্লাহ আর নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা সাব্বির রহমান দুর্ভাগা তেরোর শিকার। গতির ঝড় তুলেছিলেন লকি ফার্গুসন। ৯৫ মাইল বেগের গোলাও ছুড়লেন। তার শিকার হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ অবশ্য রিভিউ নিয়ে একবার বেঁচেছেন। স্পিনার মিচেল স্যান্টনার আসতেই আরেক উইকেট। সুইপ করতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে সাব্বির যখন গড়াগড়ি খাচ্ছেন টম ল্যাথাম তখন স্টাম্পিংয়ের সুযোগ নিয়েছেন।

২২.৪ ওভার। ৯৪ রানে ৬ উইকেট। ওসবে চোখ না রেখে মিরাজ মারছিলেন। রান উঠল। কিন্তু মারার নেশাতে স্যান্টনারের অনেক বাইরের বল বাজেভাবে খেলে ক্যাচ তুলেছেন মিরাজ। ১৩১ রানে সপ্তম উইকেটের পতন।

সাকিব নেই। অলরাউন্ডার বলে রুবেল হোসেনের বদলে একাদশে সাইফউদ্দিন। তাকে আর মিঠুনকে হেনরি-ফার্গুসনরা চেপে ধরেন। বোল্ট-স্যান্টনাররা বাড়তি মাত্রা দেন। ব্যক্তিগত ১৭ রানে সাইফ ক্যাচ দিয়েও বাঁচেন। উইকেট ধরে রেখে মিঠুন-সাইফরা ম্যাচে প্রথম পঞ্চাশের জুটি আনেন। কঠিন পরিস্থিতিতে। শেষে স্যান্টনারে শেষ হয় সাইফের ৫৮ বলের প্রতিরোধ। মিঠুন ৯০তম বলে ফার্গুসনের শিকার। তিন পেসার বোল্ট, হেনরি, ফার্গুসন মিলে নিয়েছেন ৭ উইকেট। বাকি ৩টি স্পিনার স্যান্টনারের।

বাংলাদেশকে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিতে নেমেছিলেন মাশরাফী। কিন্তু বল হাতে লড়ার পুঁজি ছিল না স্কোরবোর্ডে। ওপেনিংয়ে প্রতিপক্ষের ১০৩ রানের জুটি। কেন উইলিয়ামসনকে সস্তায় পাওয়া গেলেও অভিজ্ঞ রস টেইলর আর গাপটিল ৯৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। হেসেখেলে জয় নিউজিল্যান্ডের। বাংলাদেশের সামান্য লড়াইয়ের গর্বও নেই। দ্বিতীয় ওয়ানডে ১৬ ফেব্রুয়ারি, ক্রাইস্টচার্চে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত