শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভালোবাসার দিন আজ

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৮ এএম

‘ভালো বাসতে বাসতে ফতুর করে দেব’ এজন্য বিশেষ দিনের কী প্রয়োজন? কিন্তু পৃথিবীর মানুষ এজন্য রেখেছে একটি দিন। আজই সেই কাক্সিক্ষত দিনÑবিশ্ব ভালোবাসা দিবস। হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে। দিনটি সবার জন্য হলেও মূলত আজ হবে তারুণ্যের জয়জয়কার। এ দিবসের নামকরণ ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে রোমানদের ভূমিকা। প্রায় দুই হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যে শুরু হয় ভালোবাসা দিবস উদযাপন। সে সময় ভালোবাসা আর প্রাচুর্যের আশায় ৩-৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হতো ‘লুপারক্যালিয়া উৎসব’। তবে সে উদ্যাপনে ভালোবাসার লেশমাত্র ছিল না, ছিল আদিম বর্বরতা। ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের কোনো একসময় রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লদিয়াস সাম্রাজ্যের তরুণদের বিয়ে না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশনা অমান্য করে ভালোবাসার বাণী প্রচার শুরু করেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে এক ধর্মযাজক। সম্রাটের নির্দেশ অমান্যের শাস্তিস্বরূপ ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে রোমের রাজা পপ জেলুসিয়াস রোমানদের বর্বর উৎসবের ইতি টানা ও সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভালোবাসা দিবস ঘোষণা করেন। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে এটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশে। ভালোবাসা দিবসে অন্যান্য বছরের মতো এবারও রাজধানীজুড়ে রয়েছে নানা আয়োজন। বাংলা একাডেমির বইমেলা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কফিশপ, ফাস্টফুড শপে ভালোবাসায় প্রাণবন্ত থাকবে তরুণ-তরুণীরা। আজ বিনিময় হবে চকলেট, পারফিউম, শুভেচ্ছা কার্ড, ই-মেইল, মোবাইলে এসএমএস, প্রেমবার্তা, আংটি, প্রিয় পোশাক, বই অথবা রক্তগোলাপ উপহার। চারুকলার বকুলতলা, শিল্পকলা একাডেমি, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানেও রয়েছে নানা অনুষ্ঠান।

এদিকে ফাল্গুনের প্রথম দিনে গতকাল বুধবার রং ছড়িয়েছে প্রকৃতি, সেই রং সঞ্চারিত হয় সবার মনে। বাসন্তি রঙের শাড়ি, খোঁপায় ফুল, শাড়ির রং মিলিয়ে গহনা; অপরূপ সাজে কিশোরী-তরুণীদের প্রাণচঞ্চলতায় রাজধানীতে বরণ করা হয় ঋতুরাজ বসন্ত। রঙিন পোশাকে তাদের সঙ্গী হন তরুণ-যুবারা। শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সাজ-পোশাকেও দেখা যায় রঙের খেলা।

গতকাল বুধবার ভোর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় নাচে-গানে শুরু হয় বসন্তবরণের আনুষ্ঠানিকতা। রবীন্দ্র সরোবর, বাহাদুর শাহ পার্কসহ আরও কয়েকটি জায়গায়ও হয় বসন্তবরণের অনুষ্ঠান। তবে বসন্তের রং ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়েই। অলিগলিতেও দেখা গেছে বাসন্তি রঙের শাড়ি পরিহিত নারীর হাত-গলায় ফুলের মালা। খোঁপায় গোজা গোলাপ, গাঁদা।

বসন্তের বাসন্তী রঙের ছোঁয়া লেগেছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বাসন্তী রঙের শাড়ি, মাথায় ফুলের মুকুট পরে নারীরা ভিড় করেন মেলায়। নানা রঙের পাঞ্জাবিতে পুরুষ ও ছোটদের সাজও ছিল চোখে পড়ার মতো। সারা দিন বইপ্রেমীরা মেলায় ঘুরে বই কেনেন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত