বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হাইকোর্টের নির্দেশ

ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের তালিকা করুন

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৮ এএম

গত ২০ বছরে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি, ঋণের সুদ মওকুফসহ ব্যাংকগুলো থেকে আত্মসাতের মাধ্যমে কারা কী পরিমাণ অর্থ দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে পাচার করেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থ দেশে বা বিদেশের যেখানেই থাকুক, তা ফিরিয়ে আনতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি নির্ণয়ে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম ও ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ তদন্ত, বিভিন্ন বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ঋণের ওপর সুদ মওকুফ সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত এবং ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম বন্ধে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ২৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। নোটিসে ১৯৫৩ সালের ইনকোয়ারি কমিশন অ্যাক্টের অধীনে একটি কমিশন গঠনের অনুরোধ জানান তিনি। সে নোটিসের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালতে তিনি নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।  

গতকাল শুনানিকালে আদালত বলে, ‘ব্যাংকগুলো নাজুক ও দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হলেও কোনো সিকিউরিটি মানি নেই। যারা লোন নিচ্ছে, তাদের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে।’  আদালতের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি, বেসরকারি ব্যাংকে নিয়মনীতি মেনে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। যদি তা মানা না হয়, আর যারা ঋণ গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাৎ ও তা পাচার করেছেন, তাদের তালিকা এবং তাদের আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনসহ ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা আদালতে দাখিল করতে হবে। তবে সেই তালিকা দাখিলের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ আদালত এখনো জানাননি। আদেশের অনুলিপি পেলে বিষয়টি সম্পর্কে জানা যাবে।’  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত