মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিষ্ফল বৈঠকেও ট্রাম্পের স্তুতি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ১১:২৬ পিএম

ভিয়েতনামে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকের কাক্সিক্ষত সময়ের আগে ও খালি হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার টেবিল ছাড়ার খবরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ ও আইনপ্রণেতারা। বৈঠক দ্রুত শেষ হওয়ার পর পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও তারা এমন অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন বিশেষজ্ঞ ও আইনপ্রণেতাদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, সফল হতে মুখিয়ে থাকা ও ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনের ক্ষতিকর সাক্ষ্যের পর কিংকর্তব্যবিমূঢ় ট্রাম্প এমন চুক্তি করবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করবে। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের সম্ভাবনাও বাড়বে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনার সঙ্গে পরিচিত কিছু ব্যক্তি জানিয়েছেন, হ্যানয়ে বৈঠকের আগে কিছু উপদেষ্টাকে ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তির জন্য মরিয়া ভাব দেখাবেন না তিনি। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প কিছু বিশ্লেষককে ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।

বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিং জং উন সুন্দরভাবে আলোচনা থেকে উঠে গেছেন। কিন্তু ভিয়েতনামে আসলে কী ঘটেছে, তা পরিষ্কার নয়। কারণ তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছে।

আলোচনাসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, কিম যুক্তরাষ্ট্রের সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানালে ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি ভাবেন, কিম হ্যানয়ে এসেছেন চুক্তি করতে। তবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞায় বেসামরিক লোকজনের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করিনি, আংশিক প্রত্যাহার চেয়েছিলাম।’

ওয়াশিংটনভিত্তিক জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) কোরিয়া বিশেষজ্ঞ দুইয়োন কিম বলেন, ‘বাজে চুক্তির চেয়ে চুক্তি না হওয়া ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আনুপাতিক হারে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগ না নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অনেকে ‘ড্র’ হওয়াকেই বিজয় হিসেবে দেখছেন। কিম প্রশাসনের কট্টর সমালোচক সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ‘বাজে চুক্তি স্বাক্ষরের চেয়ে সরে আসা ভালো।’ সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর রিক সান্টোরাম সিএনএনকে বলেন, ‘হ্যানয়ে আমরা যা করেছি, সেটি সঠিক ছিল। তিনি (ট্রাম্প) বাজে চুক্তি থেকে সরে এসেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের ‘প্রেসিডেন্ট পদের একটি দারুণ মুহূর্ত’ ছিল সেটি।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সমঝোতাকারী রবার্ট গ্যালুচির মতে, সিদ্ধান্ত নিখুঁত। কারণ তিনি যা ঘটার আশঙ্কা করেছিলেন, তা ঘটেনি।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত