শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাতিলের খাতা থেকে বিশ্বের সেরা ধনী

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ১১:৪৬ পিএম

ছোট্ট একটি ছেলে। লিকলিকে শরীর। শৈশবে বিশ্বাস করতেন সর্বোচ্চ মনোবল দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সব কিছুই করা সম্ভব। বড় হলেন তিনি। দেখলেন প্রতি পদে পদে বাধা। তার জন্য সমস্ত দরজাই বন্ধ। সব জায়গাতেই তার নাম থাকে বাতিলের খাতায়। অন্তত ৩০টি চাকরির আবেদন করেছিলেন, প্রতিটি জায়গা থেকে তিনি বাতিল হয়েছেন। সেখান থেকে তিনি নাম লিখিয়েছেন সেরা ধনীর তালিকায়। তার এই উত্থান যেন হার মানায় বলিউডের কোনো সিনেমার গল্পকে। সেই মানুষটির নাম জ্যাক মা। তাকে নিয়ে আজকের এই আয়োজন। লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ

 

কে এই জ্যাক মা

পৃথিবীর অন্যতম বড় অনলাইনভিত্তিক কোম্পানি আলিবাবা ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। তিনি বর্তমানে চীনের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। মোট ৩৮.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার মূল্যমানের সম্পদের মালিক তিনি। আলিবাবাতে তার ৭.৮ শতাংশ স্টেক এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান আলি পে-তে তার স্টেক আছে প্রায় ৫০ শতাংশ। তার এসব কথা শুনলে মনে হয় তিনি খুব সফল একজন মানুষ ছিলেন। তার জীবনে কোনো অন্ধকার দিক ছিল না। কোনো ব্যর্থতা ছিল না। কিন্তু জানলে অবাক হবেন তার জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে বাতিলের খাতায় নাম লিখিয়ে। সেখান থেকে তার বিলিয়নিয়ার হওয়ার গল্পটি হার মানাবে কোনো সিনেমার গল্পকেও।

গণিতে পেয়েছিলেন ১

১৯৬৪ সালে পশ্চিম চীনের হোয়াং ঝু প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন জ্যাক মা। তার পুরো নাম মা ইউন। তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশবে লিকলিকে শরীরের অধিকারী হলেও স্কুলের স্বাস্থ্যবান ছেলেদের সঙ্গে প্রায়েই তিনি মারামারিতে জড়িয়ে পড়তেন। জ্যাক মা বলেন, ‘আমার চেয়ে শরীর স্বাস্থ্যে বড় ছেলেদের আমি মোটেও ভয় পেতাম না।’ ক্লাসে সবসময় শেষের দিকে থাকত তার রোল নম্বর। অঙ্কে ছিলেন তিনি ভয়াবহ দুর্বল। এবং এখনো তিনি অঙ্ককে ভীষণ ভয় পান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার গণিতে আমি ১ পেয়েছিলাম। তিনবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়েও ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাননি তিনি। তবে তার ছিল ইংরেজির প্রতি অগাধ আগ্রহ।

জ্যাক তার নাম ছিল না

ইংরেজি ভাষার প্রতি তার অগাধ আগ্রহ ছিল। আর সেই ভাষা শেখার জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক অদ্ভুত পথ। কিশোর বয়সে তিনি বিদেশি পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চীন সফরকালে হুয়াং ঝু ভ্রমণ করেন। এর ফলে ভ্রমণকারীদের কাছে হুয়াং ঝু খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সময়ে তিনি প্রতিদিন ভোরে হেঁটে অথবা সাইকেলে করে হুয়াং ঝুর প্রধান হোটেলে চলে যেতেন। বিদেশি ভ্রমণকারীদের ঘুরিয়ে দেখাতেন বিভিন্ন পর্যটনের স্থান। তবে তার বিনিময়ে তিনি কোনো টাকা নিতেন না। শুধু মাত্র ইংরেজি শেখাটাই ছিল তার আগ্রহ। বিনামূল্যে তিনি বিদেশিদের কাছ থেকে ইংরেজি শিখতেন। তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাতেন এই বিদেশিদের সঙ্গেই। এভাবেই ধীরে ধীরে ইংরেজি ভাষায় তিনি খুব দক্ষ হয়ে ওঠেন। বইয়ের পড়া তার ভালো না লাগলেও ইংরেজি ভাষার যে বই পেতেন সেই বই পড়া শুরু করতেন। এই ইংরেজি ভাষাটাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এক সময়। জীবনে প্রথম স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে চাকরিও পেয়েছিলেন।  জ্যাক কিন্তু তার আসল নাম নয়। যে সময়টাতে তিনি টুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করতেন সেই সময়ে কোনো এক নারী পর্যটক তার নাম দিয়েছিলেন জ্যাক। কারণ হিসেবে নেই নারী বলেছিলেন, তোমার নামটা উচ্চারণ করা খুব কঠিন। সেই নারীর দেওয়া নাম থেকেই তিনি পরিচিত হন জ্যাক মা হিসেবে।

ফেল আর বাতিলের গল্প

স্কুলের পড়া তার ভালো লাগত না। বাতিল হওয়া এবং ফেল করা জ্যাক মা’র সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ওতপ্রোতভাবেই। শুনলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না কতবার তিনি বাতিলের খাতায় নাম লিখিয়েছেন আর কতবার তিনি ফেল করেছেন।

শৈশবে তিনি প্রাথমিক স্কুলে ফেল করেছিলেন। একবার নয় দুইবার। মাধ্যমিক স্কুলে ফেল করেছিলেন তিনবার। হাই স্কুল শেষ করে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন সেই ভর্তি পরীক্ষাতেও ফেল করেছিলেন তিনি। তাও পরপর তিনবার। তারপর তিনি ভর্তি হয়েছিলেন হুয়াং ঝু টিচার্স ইনস্টিটিউটে। তিনি বলেন এটা ছিল সেই সময়ের চতুর্থ শ্রেণির একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ১০ বার আবেদন করেছিলেন। এবং ১০ বারই তা রিজেক্ট হয়ে গেছে। এই হচ্ছে তার শিক্ষা জীবনের অবস্থা। ১৯৮৮ সালে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর তিনি চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করেন। আবেদনও করেন বেশ কিছু জায়গায়। সেটা অন্তত ৩০ বার। তবে এই তিরিশ বারই তার নাম ছিল বাতিলের খাতায়। কেএফসিতে চাকরির বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘চীনে যখন কেএফসি এলো, তখন ২৪ জন আবেদন করেছিলাম। ২৩ জনের চাকরি হলো। একমাত্র আমিই ছিলাম যার আবেদনপত্রই গ্রহণ করা হয়নি।’

পুলিশের চাকরির জন্য একবার ৫ জন আবেদন করেছিলেন। আবেদনপত্র বাতিলের তালিকায় ছিল শুধু মাত্র তার নাম। তাকে বলা হয়েছিল ‘তুমি যথেষ্ট যোগ্য নও।’

উদ্যোক্তা হিসেবে আলিবাবার আগেও তিনি আরও দুইটা প্রজেক্ট শুরু করেছিলেন। তবে সেই দুইটাতেও ব্যর্থ হন তিনি। এতকিছুর পরেও হাল ছাড়েননি জ্যাক মা। স্বপ্ন দেখে গেছেন ক্রমাগত।

ছোট্ট একটি শব্দ ‘বিয়ার’

এত বার বাতিলের পর, জীবনে ব্যর্থতার পরও তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। শুরু করেছেন নতুন করে। ১৯৯৫ সালে তিনি এক সরকারি প্রজেক্টে আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেটা ছিল বিল্ডিং এবং হাইওয়ের একটি প্রজেক্ট। তিনি ছিলেন ট্রান্সলেটরের দায়িত্বে। সেই সময়ে জ্যাক মা প্রথম পরিচিত হন কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের দুনিয়ার সঙ্গে। সেই সময়টাতে চীনে কম্পিউটার খুব কম দেখা যেত। আমেরিকায় গিয়ে ইন্টারনেটে তিনি প্রথম যে শব্দটা খুঁজেছিলেন তা হলো বিয়ার। বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানির বিয়ার সার্চে এলেও চীনের কোনো কোম্পানির নাম সেখানে ছিল না। যদিও চীনে বেশ ভালো বিয়ার প্রস্তুত হতো। বিষয়টি তাকে খুব নাড়া দেয়।  এছাড়া, তিনি চীন সম্পর্কে আরও কিছু বিষয় সার্চ করেন, কিন্তু তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। বিষয়টি জ্যাক মা’কে বেশ ভাবনায় ফেলে। তিনি তখন সিদ্ধান্ত নিলেন, সময় হয়েছে এখন চীনের লোকদের সঙ্গে ইন্টারনেটকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার।

আলিবাবা নামের রহস্য

জ্যাক মা ইন্টারনেটভিত্তিক একটা ব্যবসা গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করার আগে ভাবেন এমন একটি নামের কথা যে নামটা সবাই চিনবে। সবার কাছে পরিচিত হবে। তখন তার মাথায় এলো আলিবাবা নামটি। তিনি পরিচিত-অপরিচিত বিভিন্ন পেশার অনেক মানুষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আলিবাবাকে চেনেন? সবাই উত্তর দিয়েছে, হ্যাঁ চিনি। আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের কারণে সবার কাছেই জনপ্রিয় ছিল আলিবাবা। সবাই এই চরিত্রটিকে জানত। সেখান থেকেই তিনি নিজের এই কোম্পানির নাম রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন আলিবাবা।

শুরুতেই হোঁচট

নাম তো ঠিক হলো, কিন্তু ব্যবসার মূলধন আসবে কীভাবে? একদিন তিনি তার ২৪ বন্ধুকে বাসায় ডাকেন। তাদের ব্যবসার বিভিন্ন আইডিয়া বোঝান, ব্যাখ্যা করেন, আলোচনা করেন তাদের সঙ্গে। কিন্তু মজার বিষয় হলো দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পরও তারা এই আইডিয়ার কিছুই বুঝলেন না। কারণ ইন্টারনেটভিত্তিক এই বিষয়টা তখনো চীনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। শুধুমাত্র একজন ছাড়া কেউই তার সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিষয়ে রাজি হলেন না।

তবে এরপরও তিনি দমে যাননি। যার জীবনে রয়েছে এত চড়াই-উৎরাই তাকে কি এত অল্পে হাল ছেড়ে দিলে চলে? নতুন করে শুরু করলেন মানুষকে বোঝানোর কাজ। পেয়েও গেলেন ১৭ জনকে। তিনিসহ মোট ১৮ জন মিলে তার নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অন্তত এক বছর বিনিয়োগ করা টাকায় তারা ব্যবসাটা চালিয়ে যাবেন। আয় হলে ব্যবসা চলবে, না হলে বন্ধ। কিন্তু এখানেও তিনি ব্যর্থ হলেন। দুর্ভাগ্য যেন তার পিছুই ছাড়ল না। মাত্র ৮ মাসের মধ্যেই তাদের সমস্ত টাকা ফুরিয়ে গেল।

যদি লক্ষ্য থাকে অটুট

‘কখনো হাল ছেড়ো না। আজকের দিনটা কঠিন, কালকের দিন হতে পারে আরও খারাপ। কিন্তু পরের দিন অবশ্যই আলো দেখা যাবে।’ কথাটা জ্যাক মা’র।

সে সময়টাতে চীনের অর্থনীতিতে লেগেছ পরিবর্তনের হাওয়া। ইন্টারনেট পরিচিত হতে শুরু করেছে একটু একটু করে। টাকা ফুরিয়ে গেলেও তিনি ঠিকই হাল ছাড়েননি। তারা আলিবাবাতে একটি বি-টু-বি প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। এই প্লাটফর্মে চীনের রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্যের তালিকা দিত আর সেই তালিকা দেখে বিদেশি ক্রেতারা পণ্য ক্রয় করত।

এভাবে ধীরে ধীরে আলিবাবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে লাগল। জনপ্রিয় গোল্ডম্যান স্যাক্স থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার এবং সফটব্যাংক থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পায় আলিবাবা। জ্যাক মা বুঝতে পারেন তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

আলিবাবার আরেকটি বিশাল অর্জন হচ্ছে ইয়াহুর বিনিয়োগ। সেটা হয় ২০০৫ সালে। তখন ইয়াহু আলিবাবার থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৪০% শেয়ার কিনে নেয়। এর ফলে লাভবান হয় দুই পক্ষই।

জ্যাক মা’র জন্য সে সময়ে সব থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করা। অনলাইনে পেমেন্ট সিস্টেমের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি করা সহজ ছিল না।

তিনি পৃথিবীর বৃহত্তম একটি ই-কমার্স নেটওয়ার্ক সাইট পরিচালনা করছেন। কিন্তু তার পণ্যের বিক্রি বাড়ানো সম্পর্কে কোথাও একটি লাইনও লিখেননি। ব্যবহার করেননি কোনো কোডও। কোম্পানি জনপ্রিয় হয়েছে ধীরে ধীরে। চীনের গ-ি পেরিয়ে ব্যাপ্তি ছড়িয়েছে পৃথিবীব্যাপী।

বর্তমানে এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খুচরা পণ্য বিক্রেতা। আলিবাবা ডটকম-এ ৪০টির বেশি ক্যাটেগরিতে লক্ষ লক্ষ পণ্য আছে। বশ্বের ১৯০টির বেশি দেশের ক্রেতা এবং সাপ্লায়ারদের কাছে আলিবাবা ডটকম পণ্য বিক্রি করে থাকে।

আরো কিছু

সিনেমাও করেছেন জ্যাক মা। মার্শাল আর্ট বিদ্যাটা তার ভালোই জানা। ২০১৭ সালে এড়হম ঝযড়ঁ উধড় সিনেমাতে জেট লির সঙ্গে অভিনয় করেন।

তাকে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের সব থেকে উদ্ভট বিলিয়নিয়ারের খেতাব। কারণ হচ্ছে কিম্ভূতকিমাকার পোশাক পরে তিনি একবার একটি গানে পারফরম করেন। সেটা ছিল ২০১৪ সালে আলিবাবার বার্ষিক র‌্যালিতে।

একবার তিনি কর্মীদের সামনে মাইকেল জ্যাকসন সেজে স্টেজে উঠে নাচ-গানও করেন।

কর্মীদের নিয়ে তাকে ব্যায়ামও করতে দেখা যায় উল্টো দিকে মাথা ঝুলিয়ে রেখে।

জ্যাক মা’র সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা একটি কাল্পনিক চরিত্র, ফরেস্ট গাম্প।

পারিবারিক জীবন

image

কলেজে পড়া অবস্থায় তার পরিচয় ও প্রণয় ক্যাথি ঝাং-এর সঙ্গে। তাকেই পরে বিয়ে করেন জ্যাক মা। জ্যাক মা সম্পর্কে তার স্ত্রী বলেন, ‘ও খুব হ্যান্ডসাম নয় কিন্তু ও এমন সব কাজ করতে পারে যা হ্যান্ডসাম মানুষরাও করতে পারে না আর এ জন্যই আমি ওকে পছন্দ করি।’

image

এই দম্পতির রয়েছে তিন সন্তান। ১৯৯২ সালে প্রথম সন্তান জন্মায়। ছেলের নাম মা ইয়াংকুন। এরপর জন্মায় আরেক মেয়ে নাম মা ইয়াংবুন। তবে তার তৃতীয় সন্তান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা জায়নি। কারণ তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন তেমন করে মিডিয়াতে আসেনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত