শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শিশুর খোস-পাঁচড়া

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ১১:৪৬ পিএম

শিশুর খোস-পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস এক ধরনের চর্মজনিত রোগ, যা ঝধৎপড়ঢ়ঃবং ংপধনবর নামক এক ধরনের জীবাণুর মাধ্যমে হয়। খোস-পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার হতে পারে। বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে এর প্রকোপ বেশি। কারণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস ও শারীরিক অপরিচ্ছন্নতা। বিশেষ করে সচেতনতার অভাবে শিশুরা এই রোগে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

লক্ষণ : প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে চুলকানি ও গুটি গুটি র‌্যাশ ওঠা। রাতের বেলায় এই চুলকানির মাত্রা আরও বেশি হয়।

সারা দেহে ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো দেখা যায়। অনেক সময় চুলকানি থেকে রঙ্ক ও রস পরতে দেখা যায়।

খোস-পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস যেভাবে ছড়ায়

স্পর্শের মাধ্যমে সাধারণত শিশুর এ রোগ হয়। তা ছাড়া রোগীর ব্যবহৃত কাপড় গামছা, বিছানার চাদর, বালিশ, চেয়ার ও টেবিল ব্যবহার করলে এ রোগ হতে পারে। প্রথমবার সংক্রমণে সাধারণত দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। দ্বিতীয় সংক্রমণের লক্ষণগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হতে পারে। এ ছাড়া অল্প জায়গায় একসঙ্গে অনেক লোক গাদাগাদি করে অবস্থান বা বসবাস করলেও হয়ে থাকে। বিশেষ করে বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীরা এতে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে তার বালিশ, বিছানার চাদর থেকে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আক্রান্ত স্থান : শিশুর আঙুলের ফাঁকে, হাতের কবজি, হাতের বাহু ও বগল, নাভি ও নাভির চারপাশে, বেল্ট বা প্যান্ট লাইনে অর্থাৎ যে স্থানে বেল্ট লাগানো হয়, রানের চিপায় ও ঊরুর ভেতরের অংশ, পায়ুপথ ও পশ্চাৎদেশে এ রোগ হয়।

চিকিৎসা : চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্ক্যাবিস প্রতিরোধে পারমেথ্রিন ও বেনজাইল বেনজোয়েটের ভূমিকা অতুলনীয়। এগুলো লোশন ও ক্রিম হিসেবে পাওয়া যায়, যা পা থেকে গলা পর্যন্ত মেখে ৮-১০ ঘণ্টা রাখতে হয়। তাই চিকিৎসকরা রাতে শোয়ার আগে এ ওষুধগুলো ব্যবহার করতে বলেন। সালফার মলম, লিনডেন লোশন ব্যবহার করা যায়। আর বিরক্তিকর উপসর্গের হাত থেকে রক্ষার জন্য এন্টি-হিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ইনফ্যাকটেড স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার প্রয়োজন হতে পারে এবং পরে

খোস-পাঁচড়া বা স্ক্যাবিসের চিকিৎসা নিতে হবে। এ ছাড়া শরীরের যেসব স্থানে খোস-পাঁচড়া বেশি হয়, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। একই কাপড় বারবার পরবেন না। কাপড়-চোপড় নিয়মিত পরিষ্কার করুন। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। বিছানা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেই যেহেতু এটি ছড়ায়, তাই সঠিক চিকিৎসা করালেও রোগটি প্রতিরোধ করা যায়। ভালো করে গোসল করে স্ক্যাবিসের ওষুধ লাগান। খুব ছোঁয়াচে বলে পরিবারের একজনের হলে সবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে শুধু তাকেই নয়, অন্য সদস্য আক্রান্ত না হলেও তাদের চিকিৎসা করাতে হবে।

এতে খোস-পাঁচড়া থেকে পুরো পরিবার রক্ষা পাবে। না হলে অন্য সদস্যের কাছ থেকে আবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ওষুধ গলা থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত লাগাতে হবে।

ডা. শাহারিয়ার আহমেদ

এমবিবিএস, এমফিল, সহকারী অধ্যাপক, কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঢাকা

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও জেনারেল ফিজিশিয়ান

ফোন : ০১৮১৭২৩২১৮১১

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত