সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অনলাইনে চাকরি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ১২:০৮ এএম

চাকরি খুঁজতে এখন আর কারও জুতা ক্ষয় হয় না। এক ক্লিকে পাওয়া যায় শত শত চাকরির সন্ধান। জব পোর্টাল বিডিজবসের হাত ধরে বাংলাদেশে এই যাত্রা শুরু হয় ২০০০ সালে। গত ১৯ বছরে দেশে আরও বেশ কটি জব পোর্টাল গড়ে উঠেছে। অনলাইনে চাকরি খোঁজার নানা দিক তুলে ধরেছেন অমৃত মলঙ্গী

 

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে চাকরির আবেদনের ধরনও গেছে পাল্টে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন জব পোর্টালের মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। সরকারি পর্যায়েও অধিকাংশ চাকরির আবেদন এখন অনলাইনে হয়।

 

অনলাইনে চাকরি খুঁজতে অধিকাংশ প্রার্থী বিডিজবস, চাকরি.কম, বিডিজবসটুডে.কম, ক্যারিয়ার.জেট.কম.বিডিতে ঢুঁ মারেন। দেশে এমন প্রায় ৪৩ ওয়েবসাইট আছে। এসব ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে সিভি তৈরি করতে হয়। যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে, তার শর্ত দেখে সিভি পাঠাতে হয়। অনেক সময় জব পোর্টালের ফর্মে তৈরি করা সিভি পাঠানো যায়, অনেক সময় আবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মেইলেও সিভি দিতে হয়।

এখনকার জব পোর্টাল আর আগের পোর্টালে রয়েছে অনেক পার্থক্য। শুরুতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পত্রিকার বিজ্ঞাপন কেটে নিজেদের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করত। এখন তাদের অনেকগুলো ফিচার। একজন ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমতো বিভাগ থেকে চাকরি খুঁজে নিতে পারেন।

জব পোর্টালগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে অ্যালেক্সা র‌্যাংকিং অনুযায়ী দেশের প্রথম জব পোর্টাল বিডিজবসের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। তাদের কর্মপরিধিও অন্যদের চেয়ে ব্যাপক।

বাংলাদেশে অনলাইনে চাকরির বাজার কেমন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিডিজবসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অনেক বেশি। কিন্তু দক্ষ জনবলের অভাব আছে। একটা প্রতিষ্ঠান যেমন চায়, অনেক সময় তারা তেমন লোক পায় না।’

প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক দেবাশীষ রায় চৌধুরী বলেন, ‘দেশে হোয়াইট কলার জবের যে মার্কেট, সেটি আমরা কভার করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠান হোয়াইট কলার প্রার্থী খোঁজ করে, তারা অধিকাংশই বিডিজবসের সঙ্গে আছে।’

জব মার্কেটে মূলত দুটি টার্ম আছে। ‘হোয়াইট কলার’ এবং ‘ব্লু কলার’। যারা গ্র্যাজুয়েট তাদের ‘হোয়াইট কলার’ বলে। ‘ব্লু কলার’ বলা হয় যারা ‘স্কিলড ওয়ার্কার’ তাদের। হয়তো কেউ শিক্ষাগত দিক থেকে গ্র্যাজুয়েট না, কিন্তু কোনো ডিপ্লোমা করা আছে তাদের বলা হয় ‘ব্লু কলার’। ‘ব্লু কলারে’র মধ্যে আবার দুটি ভাগ আছেÑ এর একটি ফরমাল ব্লু কলার, অন্যটি ইনফরমাল ব্লু কলার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা অফিস সহকারী কিংবা ড্রাইভার কিংবা ক্লিনার হিসেবে চাকরি করেন, তাদের ফরমাল ব্লু কলার বলা হয়। ইনফরমাল ব্লু কলার করপোরেট জবের মতো না। তারা ফ্রিল্যান্স কাজ করে।

প্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে গেলেও তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ওইভাবে অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে সক্রিয় নয়। দেবাশীষ জানান, গ্রামের চেয়ে শহরের ছেলেমেয়েরা অনলাইনে বেশি আবেদন করেন। মূলত ঢাকার প্রার্থীরা বেশি দক্ষ।

ঢাকার বাইরের ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে এসব জব পোর্টালগুলোকে নানা ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে জব ফেয়ারের মতো আয়োজনও। সেই আয়োজন করতে গিয়ে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতাও হয়েছে জব পোর্টালের কর্মকর্তাদের।

দেবাশীষ যেমনটি বললেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি তৃণমূল পর্যায়ে ছেলেমেয়েদের সচেতন করতে। আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছেলেমেয়েদের নিয়ে নানা আয়োজন করে থাকি। অনেক দিন কাজ করে চাকরি প্রার্থীদের সম্পর্কে কিছু ধারণা হয়েছে। ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সচেতনতা তাদের নেই বললেই চলে! সবাই পড়ছে, কলেজে যাচ্ছে, পরীক্ষা দিচ্ছে; এতটুকুই। এরপর কী করবে, কোথায় যাবে, অনলাইনে কীভাবে আবেদন করতে হয় সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই।’

চাকরি পেতে পরামর্শ : নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘অনেকে একসঙ্গে অনেক আবেদন করে। যোগ্যতা না থাকলেও করে। এভাবে আসলে হয় না। পরিণামে হতাশ হতে হয়।’

‘আগে নিজেকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। কী ধরনের চাকরিতে আগ্রহ, সেটি ঠিক করতে হবে। সেই চাকরিতে কী কী দক্ষতা থাকা দরকার, সেগুলো যথাসম্ভব অর্জন করে প্রস্তুতি নিতে হবে। ব্যর্থ হলে থেমে থাকা যাবে না। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে আবেদন করতে হবে। কয়েক জায়গায় ব্যর্থ হওয়ার পর দেখা যাবে সত্যি সত্যিই চাকরি হয়ে গেছে।’

সতর্কতা : এসব পোর্টালের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও আছে। নতুন গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন পোর্টালে চাকরির আবেদন করে অনেকে প্রতারিত হন। বিদেশে যাওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। এসব বিষয়ে সতর্ক না থাকলে নির্ঘাত বিপদ।

এসব প্রতিরোধ করতে প্রথমসারির জব পোর্টালগুলো বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কোনো নতুন কোম্পানি নিবন্ধন করলে, সেটি তারা সরাসরি পরিদর্শন করতে যান। তাদের অফিস আছে কি না, সেটি দেখা হয়। কোনো বিজ্ঞাপন সন্দেহ হলে নিচে সতর্কবার্তা লিখে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত