মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘আমরা মঙ্গল গ্রহে বাস করতে যাচ্ছি’

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ১২:১৪ এএম

মহাকাশ নিয়ে পৃথিবীর মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। সম্প্রতি পপুলার মেকানিকস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চাঁদ এবং মঙ্গলে বসতি স্থাপনে পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি মহাকাশ নিয়ে বিস্ময়কর সব স্বপ্ন দেখাতে ইলন মাস্কের জুড়ি মেলা ভার। টেসলা, স্পেসএক্স এবং বোরিং কোম্পানির এই প্রধান নির্বাহী এবার দাবি করেছেন, তার স্টারশিপ রকেটে করে ইতিহাসে প্রথমবার সাধারণ মানুষ চাঁদে বেড়াতে যেতে পারবেন। চাঁদে ‘সফল’ হওয়ার পর তিনি মানুষ নিয়ে মঙ্গল গ্রহেও যেতে চান!

পপুলার মেকানিকস নামের একটি পত্রিকাকে এ বিষয়ে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মাস্ক। সেখানে তিনি বলেন, তার তৈরি ১২০ ফুট লম্বা মহাকাশযান দিয়ে চাঁদে মানুষ নিতে চান। একই সঙ্গে মঙ্গলের আগে চাঁদে একটি ক্যাম্পও বানাতে চান।

মাস্ক যে সম্ভাবনার কথা বলছেন, সেটি নাসার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু এখনো সত্য হয়নি। স্টারশিপ রকেট এরই মধ্যে বানানো শুরু করেছে স্পেসএক্স। এটি আগে ‘বিগ ফ্যালকন রকেট’ (বিএফআর) নামে পরিচিত ছিল। গত বছর ডিসেম্বরে নির্মাণাধীন ‘স্টারশিপ’ প্রোটোটাইপ রকেটের ছবিও দেখান মাস্ক।

মাস্কের আশা, ২০২৪ সাল নাগাদ তিনি চাঁদে মানুষ পরিবহন করতে পারবেন।

চাঁদে ‘সফলভাবে’ মানুষ নেওয়ার পর মঙ্গলেও হানা দিতে চান তিনি। সেখানে চাঁদের মতো কৃত্রিম ঘাঁটিও তৈরির কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, ‘দুই জায়গার ব্যাপার সম্পূর্ণ আলাদা। চাঁদে মাধ্যাকর্ষণ খুব কম এবং সেখানে বায়ুমণ্ডল আছে।’

মাস্ক মনে করেন মঙ্গলে মানুষ জল-চাষ বিদ্যা কাজে লাগিয়ে খাদ্যও উৎপাদন করতে পারবে। পুষ্টির সমাধান করতে মাটি ছাড়া গাছও লাগানো যাবে।

মঙ্গলে যারা যাবেন তাদের বিনোদনের জন্য পার্কও বানাতে চান তিনি, ‘বাইরের মজাদার আবহাওয়ায় পার্কে ঘোরার জন্য আপনি হয়তো কাচের মুখোশ চাইবেন। আমি সেটিও করে দেখাতে চাই।’ মাস্কের দাবি, মিথেন-অক্সিজেন সিস্টেম ব্যবহার করে মঙ্গলে তেলও বানানো সম্ভব। তার কাছে এ জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ বরফ থেকে জল খুঁজে পাওয়া। কিন্তু মঙ্গলের তাপমাত্রা এত কম যে, এই চ্যালেঞ্জ উতরানো কঠিন বলে মনে করেন অন্য বিজ্ঞানীরা।

মাস্ক বলেন, ‘আপনি যদি কোনো হিমবাহর কাছে নামতে পারেন, যেখানে ছোট পরিসরে বরফের গর্ত আছে, তাহলে সুবিধা হয়।’

মঙ্গলকে বসবাসের উপযোগী করতে মাস্ক অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছেন। ২০১৫ সালে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা মঙ্গল গ্রহে বসবাস করতে যাচ্ছি। এ জন্য সেখানকার তাপমাত্রা বাড়াতে হবে।’

এ কাজকে সম্ভব করতে মাস্ক দুই মেরুতে থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর কথা বলেন। এতে বরফ গলে বাষ্পে পরিণত হবে। এ ছাড়া কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করেও লাল গ্রহটির তাপমাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। এর বাইরে অন্য বুদ্ধিও দেন তিনি। বলেন, বড় আকারের আয়না ব্যবহার করে সূর্যেও আলো প্রতিফলিত করেও তাপমাত্রা বাড়ানো যেতে পারে।

মঙ্গলে কি আসলেই বসবাস করা সম্ভব?

মঙ্গলে বসবাস নিয়ে ইলন মাস্কের মতো অন্য বিজ্ঞানীরাও আশাবাদী। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) প্রধান বিজ্ঞানী জিম গ্রিন ইউএস টুডেকে গত বছর বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন মনে হচ্ছে বসবাসের জন্য মঙ্গল গ্রহ বেশ ভালো জায়গা। দিনে দিনে সম্ভাবনা আরও বাড়ছে।’ সৌরজগতে মঙ্গলের সঙ্গেই পৃথিবীর বেশি মিল। মানুষের বসবাসের জন্য এই গ্রহকে দ্বিতীয় স্থান বলে মনে করা হয়। ২০৪০ সাল নাগাদ এখানে নাসার গাছ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত