শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আরও একটা হতাশার দিন

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০১:০৭ এএম

প্রথম দিনেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সেটাই গতকাল দ্বিতীয় দিনে সত্যি হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার সেঞ্চুরি করেছেন। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও সেঞ্চুরির পথে। ফলে হ্যামিল্টনে বল কুড়িয়ে দিন কেটেছে বাংলাদেশের। পার্টটাইমার হিসেবে সৌম্য সরকার আর মাহমুদউল্লাহ তিন উইকেট না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। হেনরি নিকোলসকে বোল্ড করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্বীকৃত বোলারের ওই একটাই উইকেট। বাকিটা জিত রাভাল আর টম ল্যাথামের অনবদ্য যুগলবন্দির গল্প।

প্রথম দিন যেখান থেকে শেষ করেছিলেন রাভাল ও ল্যাথাম গতকাল সেখান থেকেই আবার শুরু করেন তারা। প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি মেরে রানের চাকা সচল রাখছিলেন। লাঞ্চের আগে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও তুলে নেন রাভাল। ইবাদত হোসেনকে পরপর বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরির সঙ্গে টেস্টে এক হাজার রানও পূর্ণ করেন এ কিউই ব্যাটসম্যান। অন্যপ্রান্তে অবিচল থাকা ল্যাথাম সেঞ্চুরি করেছেন মধ্যাহ্ন বিরতির পর। ওপেনিং জুটিতে ২৫৪ রান যোগ করেন তারা। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে এটা তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং জুটি। ১৩২ রান করে আউট হন রাভাল। অধিনায়ক মাহামুদউল্লাহ বল হাতে নিয়েই বাংলাদেশের জন্য প্রথম ব্রেক থ্রুটা এনে দেন। রাভাল আউট হওয়ার পর উইলিয়ামসন জুটি বাঁধেন ল্যাথামের সঙ্গে। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তারা। ল্যাথামকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন সৌম্য। প্রথম দিনের ক্যাচ মিসের প্রায়শ্চিত্ত একে বলা যাবে না। কারণ আউট হওয়ার আগে ১৬১ রান করেন ল্যাথাম। এই নিয়ে টেস্টে চতুর্থবার দেড়শোর অধিক রানের ইনিংস খেললেন তিনি। অধিনায়ক উইলিয়ামসন অবশ্য দিনের শেষে ৯৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। আজ তিনি সেঞ্চুরি করলে টপ তিন কিউই ব্যাটসম্যানের এক টেস্টে সেঞ্চুরির বিরল রেকর্ড হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে কি তাদের এমন রেকর্ডের নজির আছে?

হ্যামিল্টনে দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিশাল স্কোর গড়ার পথে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে ৪৫১ রান তুলে। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ২১৭ রানে এগিয়ে আছে তারা। বলাবাহুল্য এই লিড আরও বাড়বে। প্রথম দিনে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি দেখেই হ্যামিল্টনের উইকেটের চরিত্র বোঝা গিয়েছিল। গতকাল সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ব্যাটিং স্বর্গে হতাশা বেড়েছে বাংলাদেশের। প্রথম দিন দুই অপরাজিত কিউই ব্যাটসম্যান শুরু থেকেই মিরাজদের ওপর চড়াও হন। মোস্তাফিজুর রহমান না থাকায় সফরকারীদের পেস আক্রমণ ছিল নখদন্তহীন। যার ফায়দা তুলেছে স্বাগতিকরা। একা মিরাজ ৩১ ওভার বল করেছেন। ১৪৯ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। বোলারদের জন্য হতাশার দিনে পার্টটাইমার সৌম্য সবচেয়ে সফল। ১৯ ওভার বল করে ৫৭ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট দখল করেন তিনি। গতকাল নিউজিল্যান্ডের প্রথম উইকেট পড়েছিল ২৫৪ রানের মাথায়। প্রথম সাফল্য এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। সøগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন রাভাল। এরপর সৌম্যর ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে আউট হন ল্যাথাম। কিছুক্ষণ পর রস টেইলরকেও এলবিডব্লিউ করেন তিনি। ৪ রান করেন অভিজ্ঞ কিউই ব্যাটসম্যান। নিকোলস ৫৩ রান করে আউট হন। দিন শেষে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন নিল ওয়াগনার। অন্যপ্রান্তে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় উইলিয়ামসন।

তিন বাংলাদেশি পেসার গতকাল কোনো উইকেট পাননি। এটাই সফরকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলবে। আবু জায়েদ, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ মিলে ৬৬ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন। ২৩ ওভারে আবু জায়েদ ৬৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি। ২১ ওভারে ৭৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ইবাদত। আর খালেদ ২২ ওভারে ৮৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। আজও পেস বোলারদের ব্যর্থতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে রানের পাহাড়ে চাপা পড়তে হবে বাংলাদেশকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত