মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পাইলট ফেরত দিল পাকিস্তান

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০৩:০৭ এএম

ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার পর আটক পাইলটকে ফেরত দিয়েছে পাকিস্তান। আটকের দুদিন পর গতকাল শুক্রবার রাতে ওয়াগাহ সীমান্ত দিয়ে উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে দেশটি। এর ফলে দুই দেশের উত্তেজনা দৃশ্যত কমার আশা জাগলেও কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান যেকোনো আগ্রাসনের নিশ্চিত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় উত্তেজনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বিবিসির খবরে জানানো হয়, অভিনন্দনকে মুক্তির খবরে সীমান্তের ভারত অংশে ভিড় জমিয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভারতীয় নাগরিকরা। এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘শান্তির ইঙ্গিত’ হিসেবে পাইলটকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায় ভারতের সেনাবাহিনী।

গত বুধবার কাশ্মীরের কার্যত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) অতিক্রম করে ভারতের ভূমিতে হামলা চালায় পাকিস্তান। পরে ভারতের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার কথা জানায় দেশটি। সে বিমানের পাইলট ছিলেন অভিনন্দন।

এ ঘটনার পর যুদ্ধাবস্থায় ছিল দুই প্রতিবেশীই। গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনা ‘আমাদের জাতিকে আরও কাছাকাছি এনেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘জাতি যেভাবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে, তা অসাধারণ। সে জন্য আমি সব ভারতীয়কে নমস্কার জানাই।’

মোদির এ বক্তব্যের আগে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দ্বিতীয়বারের মতো উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ভারতকে ‘শান্তিতে বসবাস করতে হবে। ওই সময় তিনি দিল্লির সঙ্গে আলোচনারও তাগিদ দেন।

ফের রক্ত ঝরল কাশ্মীরে : অভিনন্দনের মুক্তির দিনে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মৃত মনে করা এক সন্ত্রাসী বিধ্বস্ত বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। এতে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) এক পরিদর্শক ও এক জওয়ান এবং কাশ্মীর পুলিশের দুই সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, পাল্টা হামলায় দুই সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি : কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বলেছেন, আত্মরক্ষার্থে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার আছে পাকিস্তানের। গতকাল পশ্চিমা কয়েকটি দেশ ও চীনের সেনাপ্রধান ও দূতদের সঙ্গে আলাদা ফোনালাপে তিনি এ কথা বলেন। বাজওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), যুক্তরাজ্যের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস), অস্ট্রেলিয়ার চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ) এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের দূতদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখার প্রধান মেজর জেনারেল আসিফ গফুর সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘আত্মরক্ষার্থে যেকোনো আগ্রাসনের নিশ্চিত জবাব দেবে পাকিস্তান।’

পাইলটের ভাগ্যে কী ঘটেছিল : গত বুধবার ভারত ও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রে ছিলেন পাইলট অভিনন্দন। তাকে আটকের পরের কিছু ছবিতে দেখা যায়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দারা শারীরিকভাবে আঘাত করছেন অভিনন্দনকে। এ জন্য সমালোচনার শিকার হয় পাকিস্তান। তবে তাকে সুরক্ষায় পাকিস্তানি সেনাদের এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশংসিত হয়। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চোখবাঁধা পাইলট পানি চাইছেন। আটকের পর ভারতে বীর আখ্যা দেওয়া হয় তাকে।

কোন ঘটনায় আটক অভিনন্দন : গত মঙ্গলবার এলওসি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারত। দেশটির দাবি, ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় আত্মঘাতী হামলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪০ জনের বেশি সদস্য নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালানো হয়েছে। পুলওয়ামার হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ।

হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে পাকিস্তান। কিন্তু ভারত আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার কথা বলে দেশটিতে বিমান হামলা করে। জবাবে বুধবার ভারতের ভূমিতে বিমান নিয়ে আক্রমণ করে বদলা নেওয়ার কথা জানায় পাকিস্তান। দেশটির দাবি, এর বিকল্প কিছু ছিল না তাদের কাছে।

এ ঘটনার পর সীমান্তের দুই পাশেই মোতায়েন রাখা হয় হাজারো সেনা। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া : ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন। একই অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী বিভিন্ন পক্ষের। গত বৃহস্পতিবার ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আরেক পরাশক্তি রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ওই সময় তিনি দুই দেশের মধ্যে সংকট দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত