শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘টাকা-পয়সা দিয়া কী করুম’

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩৫ এএম

‘আমার বাজানই যদি না থাকে, তবে টাকা-পয়সা দিয়া কী করুম!’ ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ২০ হাজার টাকা দিতে গেলে মেহেদী হাসান রেজাউলের (২২) লাশের পাশে এভাবেই কেঁদে ওঠেন তার বাবা বিল্লাল হোসেন (৫৫)। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাজান ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে। আমার ভরসার মানুষটি চলে গেছে। আমার এক পা নাই। কীভাবে চলবে আমার সংসার, কে দেখবে আমাকে!’ আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার আগুনে দগ্ধ রেজাউল। ওই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ছিলেন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে অগ্নিদগ্ধ ৯ জনকে আইসিইউতে রাখা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তাদের মধ্যে গত সোমবার রাতে আনোয়ার হোসেন ও সোহাগের মৃত্যু হয়। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় পরদিন রাতে হেলাল শিকদার ও হাজি মো. সালাউদ্দিন এবং গত বুধবার দুপুরে মোজাফফরকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। গতকাল সকালে মারা যান রেজাউল। আইসিইউতে থাকা তিনজনের মধ্যে ১৪ শতাংশ দগ্ধ সেলিম ব্যাপারী (৪৫) ও ১৩ শতাংশ দগ্ধ শেখ মাহমুদকেও (৪০) দু-এক দিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে ৩৮ শতাংশ দগ্ধ জাকির হোসেনের (৪৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

রেজাউলের মৃত্যুর খবর পেয়ে গতকাল সকালেই ঢামেক মর্গে ভিড় জমান স্বজনরা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে লাশ আনার পর আহাজারি শুরু করেন তার মা হোসনে আরা বেগম। তিনি বলেন, “আগুন লাগার একটু আগেই আমাকে ফোন করে বলছিল, ‘আজ বাসায় ফিরতে একটু দেরি হবে মা। তোমরা খেয়ে নিও। খানিক পরই ওর এক বন্ধু ফোন করে জানায় দুর্ঘটনার কথা।” খালাতো বোন ঝরনা বলেন, ‘কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার ঘাটেরচরে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে থাকত রেজাউল। চকবাজারে একটি পারফিউমের দোকানে কাজ করত সে। তার উপার্জন দিয়েই পরিবারটি চলত। হাসপাতালে রেজাউল আমাদের বলেছে, শরীরে আগুন লাগার পর সে দোতলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে। পরে একজন রিকশাওয়ালা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’ তিনি জানান, রেজাউলের বাবার এক পা জন্মগতভাবেই বিকল। তার বড় বোন সাথীর বিয়ে হয়ে গেছে ও ছোট ভাই রাসেল (১৮) এখনো কিছু করে না।

রেজাউলের ভগ্নিপতি মো. আমির বলেন, ‘তার মৃত্যুতে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল। এখন যদি সরকার কোনো সহায়তা করে তবে দুবেলা খেতে পারবে তারা। তবে সহায়তার জন্য হাত তো আর পাততে পারব না। যদি প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়ে কোনো সহায়তা করেন তবে নেব।’ তিনি জানান, রেজাউলের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। তার লাশ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ৫১টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। মর্গে থাকা ১৯টি লাশ স্বজনদের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে পরে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত