মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চট্টগ্রামে এমএলএম সমিতি

কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা!

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০৩:৫৪ এএম

বিভিন্ন সময় অভিযানের পরও চট্টগ্রাম নগরে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমিতি (এমএলএম) ও সমবায় সমিতির নামে চলছে প্রতারণা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে অন্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে। টাকা নিয়ে কোনো কোনো সমিতি লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি একাধিক প্রতারক পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মো. শহীদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের অর্ধশতাধিক সমিতি সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামের নাম নিয়ে তো কেউ সুদের ব্যবসা করতে পারে না। এতেই বোঝা যায়, এরা কত বড় প্রতারক। সারা দেশেই এরা প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছে। আমরা প্রযুক্তিগত দিকসহ বিভিন্নভাবে তাদের আটকের চেষ্টা করছি।’ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমিতি’র নামে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে মোহাম্মদ আবদুর রউফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমিতি চালু করে কয়েক শ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে কোতোয়ালি থানা ও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে।’

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের তথ্যমতে, নগরের খুলশী এলাকায় অরগানাইজেশন অব সোশ্যাল সার্ভিস অ্যান্ড এলিমিনেশন অব পোভার্টি (ওসেপ) নামে একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানি গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ফিল্ড অফিসার জাহানারা বেগমকে গ্রাহকরা মারধরের পর পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। নগরের বন্দর থানাধীন গোসাইলডাঙ্গা এলাকা থেকে মডার্ন মাল্টিপারপাস নামে একটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে। এ অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। নগর গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা সমিতির নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে অরগানাইজেশন অব সোশ্যাল সার্ভিস অ্যান্ড এলিমিনেশন অব পোভার্টি (ওসেপ), সোনালি নীড়, তারা কো-অপারেটিভ সোসাইটি, সোনালি ছায়া কো-অপারেটিভ, আল আমিন মাল্টিপারপাস, চৌধুরীনগর মাল্টিপারপাসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে অভিযোগ জমা পড়েছে।

খুলশী থানার ওসি শেখ নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘এসব মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান এক স্থানে ধরা পড়লে তল্পিতল্পা গুটিয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে ব্যবসা ফাঁদে। ওসেপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালে বাটালী হিলে গ্রাহকদের পথে বসিয়েছিল। তারা ঠিক একই কায়দায় খুলশীতে ফাঁদ পেতে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে।’ অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত