শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পা মাটিতেই থাকছে মনিকাদের

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ১১:৫৮ পিএম

স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার স্বাগতিকদের চোখের জলে ভাসিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা পেয়ে যায় সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডের টিকিট। এক ম্যাচ বাকি রেখে এশিয়ার সেরা ৮ দলে জায়গা করে নেওয়া মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমারা অবশ্য এখনই আকাশে উড়তে চাইছে না। পা মাটিতে রেখেই গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলতে নামবে তারা। নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলে সমীহজাগানিয়া দল চীনের বিপক্ষে ম্যাচটিকে দলের কোচ ও ফুটবলাররা আসল পরীক্ষা হিসেবেই দেখছেন।

৮ দলের মূলপর্ব থাইল্যান্ডে বসবে সেপ্টেম্বরে। গতকাল সকালে হালকা অনুশীলন শেষে দলের কোচ এবং ফুটবলাররা বলেছেন চীনের বিপক্ষে আজকের এই ম্যাচটিকে তারা সেপ্টেম্বরের আসল লড়াইয়ের প্রস্তুতির শুরু হিসেবে দেখছেন। তাই তো আগের দিন এমন এক স্মরণীয় জয়ের পরও তেমন কোনো উদ্্যাপন হয়নি বাংলাদেশ শিবিরে। বরং আজকের চীন পরীক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন ফুটবলাররা। আগের দুই ম্যাচ খেলে যারা খানিকটা চোট পেয়েছেন তারা কাজ করেছেন দলের ফিজিওর সঙ্গে। দলের হেড কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও জানালেন প্রাথমিক লক্ষ্য তাদের পূরণ হয়েছে। এখন তাদের এগিয়ে যেতে আরও অনেক পথ বাকি, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে ম্যাচে সব কিছুই আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। প্রচুর দর্শক ছিল স্বাগতিকদের উৎসাহ দিতে। এ ধরনের ম্যাচে যেটা হয়, বাইরের দলগুলো ¯œায়ুর চাপে ভোগে। ফলে স্বাভাবিক খেলাটা হারিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। ম্যাচে লিড নেওয়ার পরও পুরোটা সময় একই পেসে একইভাবে খেলে গেছে মেয়েরা। এই জয়ে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হলো। এখন আমরা ভাবছি সামনের ম্যাচ নিয়ে।’ এই ম্যাচের গুরুত্ব আক্ষরিক অর্থে না থাকলেও ছোটন চীনের বিপক্ষে এই ম্যাচকে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আমাদের বড় বড় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে হবে। কে জানে, হয়তো মূলপর্বে চীন আর আমরা একই গ্রুপে পড়েছি। সুতরাং বড় দলের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে মুখিয়ে আছে মেয়েরা। চীন আমাদের চেয়ে প্রতিটি বিভাগেই এগিয়ে। তবে গত তিন বছরে অন্তত এটা প্রমাণিত যে, বাংলাদেশ এখন আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল খাওয়ার মতো দল নয়। আগের দুই ম্যাচে আমাদের পরিকল্পনা ছিল হাই প্রেসিং করে খেলা। চীন যেহেতু এগিয়ে, সেহেতু হয়তো আমাদের কৌশলে খানিকটা পরিবর্তন আসবে। তবে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে খেলানোর নজির আমার নেই। আমি এটাকে মেয়েদের জন্য একটা পরীক্ষা হিসেবেই দেখছি। যেখানে তারা প্রমাণ দিতে পারবে যে গত কয়েক বছরের তারা কতটা এগুলো।’

দৃশ্যপটে চীন থাকলেও ছোটনদের চোখ কিন্তু আরও ওপরে। ভাবনাটা বড়, তারপরও অসম্ভব নয় বলেই এই কোচ ভাবছেন অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ নিয়ে, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করব। যেহেতু মূলপর্ব থেকে সেরা তিনটি দল বিশ্বকাপে নাম লেখাবে, সেহেতু কাজটা মোটেই সহজ নয়। তবে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ওই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিতে হবে। এ দেশের ফুটবলকে আরও ওপরে নিয়ে যাওয়ার এটা আরেকটা সুযোগ।’ মিয়ানমারের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক কর্নারে গোল করে দেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন বাংলাদেশ দলের মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা মণিকা চাকমা। গোল করে দলকে জিতিয়ে খুশি তিনি। তবে তার মধ্যেও উচ্ছ্বাস চেপে সামনের ম্যাচে ভালো করার সংকল্প, ‘দলের জয়টাই আনন্দের। তবে আমার গোলে যেহেতু দল জিতেছে, সেহেতু খুশিটা আরও বেশি। তবে আমরা এখনই উৎসব করতে চাই না। সামনে চীনের ম্যাচে আছে। আর মার্চে সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ, সেপ্টেম্বরে এই আসরের মূলপর্ব। আমাদের এখন আরও কঠোর পরিশ্রম করে এ সব বড় মঞ্চের জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে।’

ছোটন প্রায়ই বলেন, বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা পারফরমার হচ্ছেন মণিকা। গতবার মূলপর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার পারফরমেন্স আলোচিত হয়েছে বিশ্ব মিডিয়াতেও। আবারও সব আলো কেড়ে নেওয়া খাগড়াছড়ির এই মেয়েকে অবশ্য এসব খুব বেশি ছোঁয় না, ‘ফুটবল খেলেই আমি আজ এ পর্যায়ে। আমার দায়িত্ব কেবল খেলা। সেটা ঠিকঠাক খেলে জাতিকে আরও অনেক কিছু দিয়ে যেতে পারলেই মনে হবে আমি সফল হয়েছি।’ ছোট্ট মণিকার এই কথা দিয়েই বোঝা যায় তাদের বেড়ে ওঠাটা হচ্ছে সঠিক পথেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত