মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নারী উদ্যোক্তাদের সংবাদ সম্মেলন

বাস্তবতা বড়ই কঠিন

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ১২:০৯ এএম

নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকঋণের গ্যারান্টার ও জামানত ব্যবস্থা পরিবর্তন করে তাদের ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি করেছে ওমেন এন্টারপ্রেনিয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ওয়েন্ড)। তারা বলেন, প্রকৃত উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না, ব্যাংক থেকে এত সব কাগজ চাওয়া হয়, যা নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই দাবিসহ আট দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি নাদিয়া বিনতে আমিন। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এসব প্রস্তাব কার্যকর করার দাবি করে ওয়েন্ড।

নাদিয়া বিনতে আমিন বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকঋণে গ্যারান্টার হিসেবে স্বামী, বাবা বা সন্তানকে চায় ব্যাংক, যা একদিকে যেমন জটিলতা তৈরি করে, তেমনি অসম্মানেরও। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাকে যে পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়, তাও অনেকের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়। অনেক ব্যাংকের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ স্কিম রয়েছে। ব্যাংকগুলো তা প্রচারও করে। ব্যাংকের প্রচারের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।

তিনি বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তারা যখন ব্যাংকে ঋণের জন্য যাচ্ছেন, তখন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এটা বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঋণ যাতে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তারা পান, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বর্তমানে অনেক নারী উদ্যোক্তা ঋণ পাচ্ছেন যারা প্রকৃত উদ্যোক্তা নন, তাদের স্বামীরা ব্যবসা করছেন। অপরদিকে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না, প্রচুর কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে।’  নাদিয়া বলেন, ‘নিজের ২৫ বছরের ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শুধু ঋণ প্রদানকারীদের ভাষ্য থেকে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে না। এ জন্য ঋণগ্রহীতাদের ভাষ্যও জানতে হবে। বাস্তবতা বড়ই কঠিন।’  তিনি বলেন, দেশের মোট ব্যবসার ৩১ দশমিক ৬ ভাগ ব্যবসার মালিক নারীরা। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন করতে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ জরুরি। নারী উদ্যোক্তা বিকাশে নীতিমালা সহজ করার প্রস্তাব করে তিনি বলেন, কম সুদে ও সহজে ব্যাংকঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ভ্যাট ছাড় দিতে হবে। নারীদের করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা, করপোরেট কর তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেন।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত