সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বুড়ি তিস্তা খননের মাটি লুট

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

দীর্ঘ আন্দোলনের পর কুড়িগ্রামের উলিপুরে বুড়ি তিস্তা নদীর খননকাজ শুরু হয়েছে। কাজের শুরুতেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। এস্কেভেটর দিয়ে খনন করে যে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই মাটি প্রকাশ্যে বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা চলছে নদীর মাটি লুটের রমরমা ব্যবসা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর মাটি বিক্রি করার নিয়ম নেই। এটি অবৈধ। 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, দুটি গ্রুপে সাড়ে ৩১ কিলোমিটার বুড়ি তিস্তা নদী খননে কার্যাদেশ পান এমদাদ হোসেন ও নি.ম. ক্রাউন নামে দুজন ঠিকাদার। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি টাকা। কার্যাদেশ পেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের জায়গা ও পরিমাপ নির্ধারণ না করেই খননকাজ শুরু করেছেন দুই ঠিকাদার।

খনন কাজে উত্তোলিত মাটি ঠিকাদার বিক্রি করতে পারেন কি না– জানতে চাইলে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিক ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নদী খননের মাটি বিক্রি করার নিয়ম নেই। এদিকে ঠিকাদাররা কবে কাজ শুরু করলেন, সেটা জানেন না ওই দুই সরকারি কর্মকর্তা। তারা বলেন, খননকাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়নি। অথচ নদী খনন করে এরইমধ্যে মাটি বিক্রি করছেন ওই দুই ঠিকাদার।

গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, উলিপুরের বিজয়রাম তবকপুর-শুঁড়িরদারা ব্রিজের কাছে ঠিকাদার নি.ম. ক্রাউনের লোকজন এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটছে। সেই মাটি একের পর এক ট্রলিযুক্ত ট্রাক্টরে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা যায়, তিস্তা নদীর উৎসমুখের কাছে ফাঁসিদাহ বাজারে।

ট্রলির মালিক মোখলেছ আলী জানান, তারা প্রতি ট্রলি মাটি ৪০০ টাকা করে কিনছেন। সেই মাটি তারা উলিপুরের বিভিন্ন এলাকায় ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন। একই কথা জানালেন ট্রলির চালক বাদশা মিয়া ও ট্রলির ম্যানেজার আয়নাল হোসেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন কমপক্ষে দেড়শ ট্রলি মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। বিজয়রাম তবক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় বড় বড় ট্রাক ও ট্রলিতে করে মাটি পাচার করা হয়। নদীর মাটি বিক্রি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

মাটি বিক্রি বিষয়ে ঠিকাদার নি.ম. ক্রাউন বলেন, ‘আমি মাটি বিক্রি করছি না। শিফটিং করছি।’ অপর ঠিকাদার এমদাদ হোসেন বলেন, ‘এস্কেভেটর মেশিনগুলো ভাড়া করে আনা। ওরা আর বসে থাকতে চাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে কাজ শুরু করেছি।’ তবে মাটি বিক্রির বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর মাটি রাখার স্থান খননস্থলের দুপাশে, যেখানে নদীর পাড় বাঁধানো ও সেøাপ তৈরি করা হয়। এই মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত