শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জেরার মুখে ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ০২:৫৭ এএম

পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ঘিরে জটিলতা কমছে না। শত্রুপক্ষের মাটিতে টানা ৪৮ ঘণ্টা থেকে দেশে ফিরলেও অভিনন্দন বর্তমানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত বলে মনে করছে এনডিটিভি। আবারও তিনি বিমানের পাইলটের আসনে বসতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গত বুধবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২১ পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে ভূপাতিত হলে ধরা পড়েন পাইলট অভিনন্দন বর্তমান। ধরা পড়ার একদিন পর গত শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘোষণায় ওই পাইলটকে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফেরার পর সোজা বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে অভিনন্দনকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফিরে আসা পাইলটকে নিয়ে ভারতবাসী উদ্বেলিত হলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে ভারতীয় মিডিয়া এনডিটিভি ও আনন্দবাজার। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুদের হেফাজত থেকে ফিরে আসার পর কয়েক দফায় জেরার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। তবে আনন্দবাজারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘জেরা এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রমাণ না করতে পারলে, আর কোনোদিনই হয়তো যুদ্ধবিমানের পাইলট হতে পারবেন না অভিনন্দন। এক্ষেত্রে তাকে ডেস্কের কাজে বসিয়ে দেওয়া হতে পারে।’

যুদ্ধের সময় বন্দিদের শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিনন্দনের শরীরে সে রকম কোনো চিপ বসানো হয়েছে কি না তা স্ক্যান করে দেখা হবে। পাশাপাশি তাকে মনোচিকিৎসকের মুখোমুখি করা হবে। পাকিস্তানে বন্দি থাকাকালীন অত্যাচার বা জেরার মুখে তিনি কোনো তথ্য দিয়েছেন কি না তাও যাচাই করে দেখা হবে। আর এই কাজ ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে করা হবে বলে জানা যায়।

পাকিস্তানে বন্দি হওয়া থেকে ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে আসা নিয়ে বারবার জেরার মুখে পড়তে হবে তাকে। এই জেরার সময় কোনো তথ্যের বিভ্রাট হলে অনিশ্চিত হবে অভিনন্দনের ভবিষ্যৎ। একই সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনী তার মিগ-২১কে নিশানা করতে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং সেই নিশান ব্যর্থ করতে তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাও জানার চেষ্টা চলবে। তার সঙ্গে থাকা নথিগুলো সব তিনি ধ্বংস করতে পেরেছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে জেরার মুখে।

তবে এনডিটিভি বলছে, জেরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে পাকিস্তানে অভিনন্দন কোনো আপস করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা। পাকিস্তান তাকে আপসের প্রস্তাব ছাড়াও তাকে ব্যবহার করার কোনো চেষ্টা করেছিল কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলবে, যাকে সামরিক ভাষায় বলে ‘ডিব্রিফিং’।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত