সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছুটছেন স্থানীয় নেতারাও

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩৩ এএম

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেই। কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগ্রহ বেড়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়েও। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দেখা

যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী  থাকুক তা চাইছেন না। তাই উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রথম, দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা পঞ্চাশটিরও বেশি উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এদের সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত। প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় নির্বাচন হবে ১০ মার্চ।

দেখা গেছে, চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩১ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬ জন চেয়ারম্যান পদে, ৬ জন ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবং ৯ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে। দ্বিতীয় ধাপে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর একক প্রার্থী রয়েছে ২৫ জন। এরাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন। তৃতীয় ধাপে প্রার্থী প্রত্যাহারের সময় ৭ মার্চ, চতুর্থ ধাপের প্রার্থী প্রত্যাহারের সময় ১৩ মার্চ। এরই মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী প্রত্যাহারের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।  

প্রথম ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া উপজেলাগুলো হলো জামালপুর সদর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী, জয়পুরহাট সদর, জলঢাকা উপজেলা। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা। এরা সবাই চেয়ারম্যান পদে। দ্বিতীয় ধাপে যে ১৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে আছেন সেসব জেলাগুলো হলোÑ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু-, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই, রাউজান, ফরিদপুর সদর, বগুড়ার আদমদিঘি, নোয়াখালীর হাতিয়া, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি, নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, নরসিংদীর পলাশে (নির্বাচন তৃতীয় ধাপে) উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পথে। বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায়ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। নাটোর সদর, মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ও উল্লাপাড়া উপজেলায়ও চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কোনোভাবেই নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকুক তা চান না। তাই প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা দিয়ে যাকে যেভাবে ম্যানেজ করা যায় সেভাবে করছেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচন জমাতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মতে নির্বাচন উন্মুক্ত রাখা হলেও সেখানেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা প্রভাব বিস্তার করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়ার জন্য হেন কোনো কাজ নেই যা করছেন না। অবশ্য এদের সবাই আওয়ামী লীগেরই। তফাৎ শুধু একজন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাননি। দেখা গেছে, প্রত্যাহারের ঘটনায় এরই মধ্যে বেশ কয়েক জায়গায় মারামারি-হানাহানি পর্যন্ত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় ভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হোক তারা তা চাইছেন না। কিন্তু না চাইলেও নিয়ন্ত্রণেও নিতে পারছেন না তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা অধিকাংশ উপজেলায়  স্থানীয় সংসদ সদস্য কর্র্তৃক মনোনীত হওয়ায় চাপ প্রয়োগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়ার কাজটি সহজে করতে পারছেন। অথচ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মতে, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও কোনো কোনো উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনে থাকতে বলা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় নেতারা সেটা মানছেন না। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বসিয়ে নিজের জয় নিশ্চিত করে রাখতে চান আগে থেকেই।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় প্রার্থী বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসছে ভূরি ভূরি। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না কৌশলগত কারণে। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা টেলিফোনে দল মনোনীত প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি করছেন চাপ প্রয়োগ করে যাতে কাউকে বসিয়ে দেওয়া না হয়। কিন্তু এই হুঁশিয়ারি আমলে নিচ্ছেন না স্থানীয় নেতারা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত