শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যুক্তরাষ্ট্রে নব্য নাৎসিদের উত্থান

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ১১:১২ পিএম

২০১৭ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট ক্রিস্টোফার হাসোনের মাথায় একটি ধারণা এলো। কোটি কোটি মানুষকে হত্যার মোক্ষম পন্থা খুঁজতে লাগলেন তিনি। কিন্তু এ কাজে প্রয়োজনীয় রসদ পাচ্ছিলেন না। পরে তিনি ভাবলেন, সবচেয়ে কার্যকর উপায় হবে মহামারী। কিন্তু সেজন্য দরকারি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা অ্যানথ্রাক্সের মতো জীবাণু ছিল না তার কাছে।

ওই বছরের ২ জুন নিজ পরিকল্পনা ই-মেইলে ড্রাফট করে রাখেন কোস্টগার্ডের ওই কর্মকর্তা। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে জীবাণু দিয়ে হামলা চালানোর কথা ছিল তার। পরে তিনি চেয়েছিলেন খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা করতে। তবে হাসোন বুঝতে পেরেছিলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও গবেষণা দরকার।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে জানানো হয়, হাসোনের এ পরিকল্পনার বেশিরভাগই ছিল ই-মেইলে। তবে গত মাসে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তার সেসব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা তার ব্যক্তিগত জীবনের বেশকিছু বিষয় জানতে পারেন। তারা দেখেন, জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি পার্টির মতো বর্ণবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হাসোন।

অনুসন্ধানে হাসোনের গণহত্যার পরিকল্পনা বেরিয়ে আসে। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মজুদ রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। এছাড়া তার হত্যা পরিকল্পনার তালিকায় থাকা ডেমোক্রেটিক পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের নামও উদ্ধার করা হয়। হাসোনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, তিনি অন্য কারও মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এটাও অনুমেয় যে, তিনি একা নন।

শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী চক্র ও তাদের নয়া গোষ্ঠীর ফল এই হাসোন। তিনি একদিকে পুরনো ধারণা দিয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, অন্যদিকে আগের সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন এই ব্যক্তি।

২০১৭ সালের ১১ থেকে ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে ‘ইউনাইট দ্য রাইট’ নামে কট্টর ডানপন্থিদের সমাবেশ শেষ হয় বিক্ষোভকারী একজনের মৃত্যু ও রাজনৈতিক নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকেই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। অন্যরা মামলা ও হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। কেউ কেউ ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রকাশ্যে না এলেও যতটা মনে করা হয়েছিল, ততটা কমেনি তাদের তৎপরতা। তারা টিকে আছে ধরন বদলে, যার নমুনা হাসোন। এ বিষয়ে সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষক কিগান হ্যাঙ্কস বলেন, লোকজন মূলধারার রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন ও এর প্রতি নিরুৎসাহী হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে উগ্র ডানপন্থিদের সহিংসতা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, লোকজনের হতাশ হয়ে যাওয়া এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়াবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবেত্তা ক্যাথলিন বিলো বলেন, কট্টর ডানপন্থিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের কারণে তার শাসনকালে এ সংক্রান্ত সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত