সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ১১:৩৭ পিএম

মূলত চামড়ার ওপরের স্তরে স্বাভাবিক ত্বকের রঙের থেকে খানিকটা হালকা আঁচড়ের মতো দাগ পড়লেই বলা হয় ত্বক ফেটে গেছে। চামড়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি টান পড়লে এ ধরনের দাগ সৃষ্টি হয়। ইংরেজিতে একে বলে স্ট্রেচ মার্ক। দেখতে খারাপ দেখায় বলে অনেকে এ রোগের কারণে বিষণ্নতায় ভোগে।

কেন হয় : ত্বকের কোনো অংশ অতিরিক্ত প্রসারিত হলে ত্বকের ইলাস্টিক ফাইবার ছিঁড়ে গিয়ে সাদা সাদা দাগের সৃষ্টি করে। এই অতিরিক্ত প্রসারিত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গর্ভধারণ, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের পরিবর্তন, পারিবারিক ইতিহাস, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ইত্যাদি।

গর্ভকালীন সময়ে পেট, ঊরু ও স্তন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আকারে বড় হয়ে যায়। ফলে চামড়া ফেটে গিয়ে দাগের সৃষ্টি করে। সন্তান প্রসবের পর যখন ওই অঙ্গগুলো আবার আগের আয়তনে ফিরে আসে, তখন ত্বকের ফেটে যাওয়া দাগগুলো অনেকাংশেই দূর হয়ে যায় কিন্তু পরিপূর্ণ মিলিয়ে যায় না।  খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওজন বেড়ে গেলে ত্বকে দাগের সৃষ্টি হতে পারে। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের ওজন হঠাৎ বেড়ে গেলে ত্বকে দাগ হতে পারে। পরে ওজন কমিয়ে ফেললেও দাগ থেকে যেতে পারে। বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের পরিবর্তন ছাড়াও বিশেষ করে কিশোরীদের নিতম্ব, ঊরু ও স্তনের আকৃতি বৃদ্ধির ফলে ত্বকের ফাটা দাগের সৃষ্টি হতে পারে। পরিবারে বাবা-মা বা খুব কাছের আত্মীয়ের ত্বকের ফাটা দাগ-সংক্রান্ত সমস্যা থাকলেও আপনার এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেওয়ার কারণেও ত্বকে সাদা ফাটা দাগের সৃষ্টি হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়

১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ত্বকের আর্দ্রতা আপনার ত্বকের ফাটা দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।

২. প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন-জাতীয় খাবার যেমন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, দই, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ও তরমুজের বীজ খাবেন। এগুলো আপনার ত্বককে জলযোয়িত রাখবে। শরীরের ফাটা দাগ নির্মূলে সহায়তা করবে।

৩. ভিটামিন ‘ই’ তেল স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে বেশ কার্যকর। তাই কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে মার্কের ওপর দিনে দুবার ভিটামিন ‘ই’ তেল ম্যাসাজ করুন।

৪. লেবুর রসে রয়েছে স্ট্রেচ মার্ক দূর করার অসাধারণ ক্ষমতা। একটি তাজা লেবুর রস চিপে স্ট্রেচ মার্কের ওপর লাগিয়ে রাখুন। দেখবেন দ্রুত স্ট্রেচ মার্ক দূর হয়ে যাবে।

৫. গ্লাইকলিক এসিডযুক্ত বিভিন্ন বিউটি পণ্য যেমন টোনার, ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ইত্যাদি ব্যবহার করুন। এই এসিড ফাটা দাগ নির্মূলে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৬. ভিটামিন-সি-সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করুন। দিনে তিনবার ফাটা দাগের ওপর ম্যাসাজ করুন। ভিটামিন-সি-সমৃদ্ধ ক্রিম না পেলে সাপ্লিমেন্টও নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টটি দিনে তিনবার খেতে হবে।

চিকিৎসা : চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো বিভিন্ন ধরনের মলম লাগানো যায়। লেজারের মাধ্যমেও এর চিকিৎসা করা যায়। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে সেটি নির্ণয় করে চিকিৎসা করতে হবে।

ডা. আবু জাফর মো. শাহিদুল হক (বাবু)

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এসসিপিএস, এমসিপিএস

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত