সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুঃসময়ে এটাও অনেক

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ইনিংস ও ৫২ রানের পরাজয়ের স্কোরকার্ড কেবল জয়ীদের গল্প বলবে। স্বাভাবিক এটা। তিন টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে হ্যামিল্টনে জয়ের সম্ভাবনার সবরকম ব্যর্থতাও গৌরবের কাহিনী শোনাবে না। কিন্তু চতুর্থ দিনে আশাহীন একটা দল যখন ভিন্ন কোনো গল্প লেখে? হয়তো সেই গল্পে সৌম্য সরকারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোহর ব্যাটিং কিংবা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর বিনয়ী অথচ প্রবল যোদ্ধার রূপটা ঠিকই আলো ছড়াবে ভিন্নভাবে।

একটা হার কখনো কখনো শুধু তাই হার নয়। যেখানে ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী হয়তো সেখানেও নয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ জালাল আহমেদ চৌধুরীর মায়াবী ফেইসবুক লিখন তাই টাইমলাইন থেকে টাইমলাইনে শেষের গল্পটার মাহাত্ম্য জানিয়ে যেতে থাকে, ‘জোড়া শতকের সোনায়মোড়া আজকের সকাল। পরাজয়ের ভ্রকুটি হয়তো এড়ানো যাবে না তবু আত্মবিশ্বাসের নড়বড়ানোটাতে তো দড়ি পরানো গেছে। সৌম্যের এমন বিচরণ দেখার জন্য পরিযায়ী পাখিদের মতো আমাদের হাজার হাজার মাইলের বুভুক্ষু উড়াল। রিয়াদের অমন বিনয়ী ব্যাটিং সংগত সৌম্যকে আরেকটু টেনে নিলে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠতে পারতাম ‘তোমার অশোকে কিংশুকে...।’ সবার প্রিয় স্যার লিখলেন, ‘সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের আজকের দিনটা মন্দ নয়। ধন্যবাদ দুই সেঞ্চুরিয়ান। তোমাদের কল্যাণে আজ একটু নিচু স্বরে কটুকথা শুনবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। দুঃসময়ে এটাও অনেক।’

দ্বিতীয় ইনিংসে গতকাল বাংলাদেশ ১০৩ ওভার খেলে ৪২৯ রানে অল আউট হয়েছে। আগেই হিমালয়ে চাপা পড়েছিল সফরকারীরা। সৌম্য পাঁচ নম্বরে নেমে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটাকে নিয়েছেন ১৪৯ পর্যন্ত। ১৭১ বলের ইনিংসটা ২৫৫ মিনিটের। ২১টি চার। ছক্কা ৫টা। গ্ল্যাডিয়েটরের মতো মাহমুদউল্লাহকে টেস্ট আজকাল ভালোই তো দিচ্ছে বিপদে। ছয় নম্বরে খেলেছেন। ৪৪ টেস্টে এটা তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। কিন্তু গত বছরের নভেম্বর থেকে ছয় ইনিংসে তৃতীয় শতক! এবারেরটি ক্যারিয়ারসেরা। ২২৯ বলে ৩১৫ মিনিটের ধৈর্য। ২১টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা। ৪ উইকেটে ১২৬ থেকে সৌম্য-মাহমদুউল্লাহর জুটি দলকে নিয়ে গেছে ৩৬১ পর্যন্ত। প্রথম ইনিংসে তামিমের সেঞ্চুরির পরও দল করেছিল ২৩৪। নিউজিল্যান্ডাররা ৭১৫ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দিল। সৌম্যর বিদায়ের পর ক্যাপ্টেনকে আর কে সঙ্গ দিতে পারলেন? নইলে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর সুবাস সেডন পার্কে উড়ছিল বেশ। নয় নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাহমুদউল্লাহ ৪২৯-এ বিদায় নিতেই নটে গাছটি মুড়াল।

এই তো ক্রিকেট। হালের কয়েক সপ্তাহে টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য ফুলে ফুলে আবার পল্লবিত হওয়ার আভাস দিচ্ছে যেন। শক্তভাবে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশও তো শেষে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয়নি। পাল্টা আক্রমণ, লড়াইয়ের চেষ্টায় ছুটেছে বিরুদ্ধ পরিবেশে। ব্ল্যাক ক্ল্যাপস অধিনায়ক এবং এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় কেন উইলিয়ামসন শেষে মুগ্ধ, ‘আমার চোখে আজ টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন লড়াইটাই হয়েছে। এটা ঠিক অনেক এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু শক্ত টেস্ট ক্রিকেট খেলা হয়েছে আজ (গতকাল)। আমরা এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। ওয়েলিংটনে আরও একটা কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’ ৮ মার্চ বেসিন রিজার্ভে শুরু দ্বিতীয় টেস্ট।

মাহমুদউল্লাহকেও আশা জোগাচ্ছে এই ম্যাচের শেষ গল্পটা। হ্যামিল্টন থেকে ওয়েলিংটনে পাড়ি জমানোর আগে ভাঙাচুরা দল ভঙ্গুর আত্মবিশ্বাস থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল সেটাই উচ্চারিত মাহমদুউল্লাহর কণ্ঠে, ‘আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসে আমরা একটা সুযোগ মিস করেছি। আর কারও কাছ থেকে আরেকটা বড় ইনিংস

দরকার ছিল আমাদের। তাহলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু এখন দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটসম্যানরা ইতিবাচকভাবে ভাবতে পারবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত