সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নীলের ঝরনাধারা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০১:৫৫ এএম

শক্ত লতার বড় ঝাড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল। পাতাহীন গাছে শুধুই ফুলের মেলা। লতাজুড়ে নীল-বেগুনির নিবিড়তায় মনে হয় যেন রঙের ঝরনা বয়ে যাচ্ছে। এমন নীলের মহাসমারোহ আর কোনো গাছেই দেখা যায় না। অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এর নাম দিয়েছেন ‘নীলমণিলতা’। ছড়ানো পাঁচটি পাপড়িতে অপূর্ব এর গড়ন। যেন তারার মতো নীলে ঝিলমিল। আমাদের বাগানে বসন্তের প্রথম দিকেই নীলমণি ফোটে। রাজধানীতে সবচেয়ে বড় ঝাড় আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বাগানের পাশে তেলসুর গাছ বেয়ে নীলমণিলতা যেন আকাশ ছুঁতে চাইছে। এই ফাগুনে সেখানে নীলের শোভা ভীষণ নজরকাড়া। কবিগুরুর ‘বনবাণী’ বইয়ে এই বিদেশিনীকে নিয়ে আছে দীর্ঘ একটি কবিতা। নাম দিয়ে আপন করে তিনি লিখেছেন, ‘নীলিমাবন্যায় শূন্যে উচ্ছলে অনন্ত ব্যাকুলতা/তারই ধারা পুষ্পপাত্রে ভরি নিল নীলমণিলতা।’ এর পূর্ণ প্রস্ফুটনের সৌন্দর্যকে নীল মেঘের সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রকৃ তিবিদ দ্বিজেন শর্মা। তার ভাষায়, ‘যেন নীল মেঘের একটা টুকরো হঠাৎ গাছে আটকে রঙের বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।’ নীলমণির আদিনিবাস আমেরিকার উষ্ণমণ্ডলে। ইংরেজি নাম ‘পেট্রিয়া’। অষ্টাদশ শতকের ইংরেজ উদ্ভিদবিদ রবার্ট জেমস পেট্রির সম্মানে এই নাম। পাতা বেশ বড়। বীজ, কলমে এই ফুলের চাষ। মাঝে মাঝে শিকড় থেকেও চারা গজায়। খোলা জায়গায় চার মিটার বড় হয়। এই লতা যে কোনো বড় গাছ বেয়ে অনেক ওপরে ওঠে। সময়ের সঙ্গে লতা দীর্ঘ হয়ে নীলের অপরূপ রাজ্য তৈরি করে। কয়েকদিন স্থায়ী ফুল নীল থেকে ধীরে ধীরে সাদা হতে শুরু করে। বাগানের পাশাপাশি বাড়ির ফটকে সাজাতেও এটি লাগানো যেতে পারে। কোনো ঘ্রাণ না থাকলেও এই ফুল মৌমাছিদের প্রিয়, পরাগায়নও তাদের মাধ্যমে। ঢাকায় রমনা পার্ক, শিশু একাডেমির বাগান, বলধা গার্ডেনসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বাগানে এই ফুলের দেখা মেলে। বাহারি রং-রূপের ঋতু বসন্তে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য নীলমণি এক অনন্য উপহার। নীলের এমন শোভা অবশ্য খুব বেশি দিন থাকে না। ফাগুনের প্রথম ভাগেই ফুলের ভারে লতানো রূপ দেখতে না পারলে অপেক্ষায় থাকতে হবে অনাগত বসন্তের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত