শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংসদে মেনন

মনে হয় পাকিস্তানি যুগে ফিরে যাচ্ছি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০২:৫১ এএম

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘মনে হয় আমরা পাকিস্তানের খাজা শাহাবুদ্দিনের যুগে ফিরে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রথম যুগের মতো নজরুলের কবিতার মুসলমানি করিয়ে ‘মহাশ্মশান’-এর বদলে ‘গোরস্থান’ আবৃত্তি করতে হবে। গতকাল রবিবার একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেরাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের ওপর রাখা বক্তৃতায় এসব কথা বলেন রাশেদ খান মেনন। লিখিত বক্তব্যে মেনন বলেন, শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতি না থাকলেও দেশের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে গেছে। আবার তিনি এও বলেছেন, দুর্নীতি দমন করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজের ওপরতলা থেকেই করতে হবে। দুদক প্রাইমারি শিক্ষকদের দুর্নীতির পেছনে গেলেও বেসিক ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার বিষয়ে কাজ করছে না। দেশে অতি ধনীর সংখ্যা এখন চীনের থেকেও বেশি।

শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে মেনন বলেন, ‘আট বছর আগে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিলাম তা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু তেঁতুল হুজুরের আবদারে পাঠ্যপুস্তকে কুসুমকুমারী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এদের সবাই নির্বাসিত হন।’  তিনি বলেন, কওম শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ভালো উদ্যোগ। জামায়াতকে এখনো রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা যায়নি। তারা মিসরের মুসরি অথবা তুরস্কের এরদোগানের মতো ফিরে আসতে চায়। আর সেই সময়টা জামায়াতকে সামাজিক কর্মকা-, যেমন- স্কুল, কলেজ, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এ ধরনের কাজে লিপ্ত রাখতে চায়। এরই মধ্যে তার জায়গা নিতে চাচ্ছে ‘মোল্লাতন্ত্র’ যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হেফাজত।

রাশেদ খান মেনন বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের উন্নয়নের চিত্র ঠিকভাবেই বর্ণনা করেছেন। এটা সত্য যে দেশের উন্নয়নের কথা বলতে গেলে গবেষণা করার প্রয়োজন নেই, খালি চোখেই দেখা যায়। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বছরে বেকার বাড়ছে আট লাখ করে। ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও কর্মহীনতা সামাজিক স্থিতিশীলতা কেবল নয়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের হুমকি।

মেনন বলেন, ‘এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্য শুধু বাংলাদেশেই নয়, এটা সারা বিশ্বেই একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী এই সমস্যা স্বীকার করেননি। এর জন্য গত ১০ বছরের অর্থনৈতিক নীতির দায় কম নয়। আর নব্বইয়ের দশকে বিশ্বায়ন ও নয়া উদার নীতিবাদী অর্থনীতি বিশ্বজুড়ে লুটেরা ধনিকদের একাধিপত্য কায়েম করে। যার প্রতিফলন আমরা বাংলাদেশে দেখতে পাই বিদেশে অর্থপাচার, ঋণখেলাপি সংস্কৃতির বিস্তার, ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি ইত্যাদি ঘটনায়।’

সাবেক এই বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘উল্টো ব্যাংকিং আইন সংশোধন করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পারিবারিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়াই ব্যাংক খোলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একই ব্যক্তি এখন একটি নয়, ছয়-সাতটি  ব্যাংকের মূল শেয়ারহোল্ডার। প্রকৃত উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে সহায়তা না পেলেও, এসব এক বা একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন নামে ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নিচ্ছে। কথা ছিল ব্যাংকিং কমিশন হবে। হয়নি এবং হবে না বলেই ধারণা করছি। এ সবের মধ্য দিয়ে ‘ফিলদিলি’ রিচ একটি শ্রেণি গড়ে উঠেছে। আর নিচতলার মানুষগুলো শিকার হচ্ছে চরম বৈষম্যের।’

মহাজোটের অংশীদার এই নেতার বক্তৃতায় তার জোট নেতারাও রেহাই পাননি। মেনন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনকে সংশোধন করে দুদককে কিছুটা হলেও নির্বীর্য করা হয়েছে। অন্যদিকে দুদক প্রাইমারি শিক্ষকদের অন্যায় আমলে নিলেও বেসিক ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির ঘটনায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান দুদকের আওতার বাইরে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর তলা থেকে শুরু করতে হবে।

সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরুস্কার পেলেও দেশের ভেতরে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের বিশাল অঞ্চলজুড়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলপিজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শিল্পের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি যে, সিডর-আইলায় সুন্দরবন তার বুক দিয়ে আমাদের জনপদকে রক্ষা করেছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত