মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খালেদা ভালো নেই : ফখরুল

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০২:৫৩ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভালো নেই বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রবিবার দুপুরে নাইকো দুর্নীতি মামলায় আদালতকক্ষে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার পর বাইরে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ফখরুলের দাবি, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক আলাপ হয়নি। চিকিৎসকদের কাছ থেকে যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে তাকে জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির জন্য হুইল চেয়ারে করে দুপুর ১২টা ৩৭ মিনিটে খালেদা জিয়াকে আদালতে নেওয়া হয়। তখন আগে থেকে চেয়ারে বসে থাকা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল উঠে গিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান, তার শরীর কেমন। খালেদা জিয়া কাজলের উদ্দেশে বলেন, ‘না, আমার শরীর ভালো যাচ্ছে না। শরীর খুব খারাপ।’ কাজলের সঙ্গে কথা বলা শেষ হলে সেখানে উপস্থিত ফখরুল কথা বলেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। খালেদা জিয়া তখন ফখরুলকে জানান, তার শরীর ভালো যাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার কাছে ফখরুল জানতে চান, থেরাপি ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে কি না। খালেদা তখন ফখরুলকে জানান, কারাগারে তাকে দেখতে চিকিৎসক এসেছিলেন। কিন্তু তার শরীর ভালো যাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার সঙ্গে যখন ফখরুল ইসলাম কথা বলছিলেন, এর কিছুক্ষণ পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এজলাসে আসেন।

অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামের আইনজীবী আসাদুজ্জামান। এজলাস কক্ষে দেখা যায়, ফখরুল বসে আছেন খালেদা জিয়ার ঠিক বাম পাশে। তখন থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন মির্জা ফখরুল। দুপুর ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ওই সময় তিনি চেয়ার থেকে উঠে গেলে সেখানে বসেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনি উঠে গেলে বিএনপি নেতা মীর নাসির এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন কথা বলেন। এই তিনজনের কথা শেষ হলে আবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে খালেদা জিয়ার পাশের চেয়ারে বসেন মির্জা ফখরুল। শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পাশে বসে ছিলেন তিনি।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবীরা শুনানি শেষ করেন। এরপর মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ নিজেই শুনানি শুরু করেন। আদালতকে তিনি বলেন, এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কিছুই নেই। মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়াসহ অন্য সব আসামির অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন তিনি।

মওদুদের পর খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি শুরু করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। তিনি আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে আদালতে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে শুনানির সময় চেয়েও আবেদন করেছেন। কারণ মামলার সব কাগজপত্রের অনুলিপি এখনো হাতে পাননি। আদালত তখন দুদকের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজলের বক্তব্য জানতে চান। কাজল আদালতকে বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হোক। তাতে কোনো আপত্তি নেই তার।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত