মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আরও ১০০ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০২:৫৫ এএম

উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হলেও তা মানছেন না তৃণমূল বিএনপির অনেক নেতা। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নানাভাবে বোঝানোর পাশাপাশি হুমকি-ধমকি দিয়েও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ১০০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা থেকে আরও বহিষ্কারের তালিকা আসছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়া একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন, বিএনপিতে বহিষ্কার কোনো বিষয় না। পাস করতে পারলে বহিষ্কারাদেশ থাকবে না। এজন্য এলাকার রাজনীতি ও নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘মৌন সম্মতি নিয়েই’ তারা প্রার্থী হচ্ছেন।

বিএনপির দপ্তর সংশ্লিষ্ট নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নয়জন তৃণমূল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ১ মার্চ তিন দফায় আটজনকে এবং সর্বশেষ গতকাল ৮৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বহিষ্কারের চিঠি কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া ও সিলেটে ৩০ জন করে ৬০ জনকে বহিষ্কার হয়েছে। হবিগঞ্জে ১০ জন। বাকিরা অন্যান্য জেলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বহিষ্কারের পালা চলছে। যারাই উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন তাদেরই বহিষ্কার করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ‘প্রার্থীরা বলছেন জ্যেষ্ঠ নেতাদের মৌন সম্মতি আছে’ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। যারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাদের কারও মৌন সম্মতি থাকার কথা নয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপিতে বহিষ্কার কোনো বিষয় না। বেশিদিন বহিষ্কারাদেশ থাকে না। বিজয়ী হতে পারলে পদও ফিরে পাওয়া যাবে। অতীতে এমন হয়েছে। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই। এ সময় জ্যেষ্ঠ নেতারাই তো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মানেন না বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তৃণমূলের এসব নেতারা। তারা জানান, জেলা নেতারা নিষেধ করলেও ঢাকায় গিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের পরামর্শেই তারা প্রার্থী হচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, সবাই দলের সিদ্ধান্ত মানবেÑ তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কেউ সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রথমে প্রার্থীদের বোঝানো হয়েছে যাতে স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। পরে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। হুমকিতেও কাজ না হওয়ায় কেন্দ্রের নির্দেশে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে সিদ্ধান্তের জন্য। এখন তাদের বহিষ্কার করা হবে। বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন বলেন, দলের সিদ্ধান্ত জানানোর পর প্রথমে স্থানীয় নেতারা কথা দিয়েছিলেন প্রার্থী হবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেকে কথা রাখেননি। পরে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী রয়ে গেছেন এমন প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এখন কেন্দ্র তাদের বহিষ্কার করবে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত