মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জাহাজজট কমেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০৩:৫১ এএম

নতুন করে ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বেড়েছে। কন্টেইনার ওঠানামায় গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বহির্নোঙরে কমেছে জাহাজজট। বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, এখন আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জাহাজগুলোকে বহির্নোঙর বা বন্দর জেটিতে দিনের পর দিন অবস্থান করতে হচ্ছে না।

বন্দরের পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থানরত মোট জাহাজের সংখ্যা ছিল ১১১টি। এর মধ্যে পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অলস বসেছিল ৫০টি জাহাজ। জেটিতে পণ্য খালাসের জন্য নোঙর করা জাহাজের সংখ্যা ছিল ১৩টি। এক বছর পর গত শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেখা যায়, বন্দরে অবস্থানরত ৯৭টি জাহাজের মধ্যে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ২৬টি।

২০০৫ সালে গিয়ারলেস ভেসেল থেকে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা সংবলিত চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। ২০০৭ সালে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নির্মাণের পর নতুন করে গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটিসহ বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠায় তখন প্রকল্পটি ঝুলে যায়। এই নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসানের পর মোট ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে তিনটি করে গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ করে বন্দর কর্র্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন করে ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেন বন্দরের অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে সংযোজন হওয়ার পর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতিশীলতা আগের চেয়ে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমে যাওয়ায় কোনো ধরনের জট নেই বললেই চলে।’ তিনি জানান, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ও বে-টার্মিনালের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটির কাজ শেষ হলে সেখানে অপারেশনাল কার্যক্রম চালানোর জন্য আরও নতুন নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘এক বছর আগেও চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা বড় জাহাজগুলোকে ১০-১২ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। অতিরিক্ত সময় অবস্থানের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমদানিকারকদের বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হতো। এখন ২-৩ দিনের মধ্যে জাহাজগুলো পণ্য খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করছে। এর ফলে আমদানিকারকদের ব্যবসায়িক খরচ অনেক কমেছে।’

বন্দরের বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বন্দরে ১৬ লাখ ২৫ হাজার ৫০৯ টিইইউস, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬২ টিইইউস, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৯ টিইইউস, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৮১ টিইইউস এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত