বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জীবন বাজি রেখে দ্বীপযাত্রা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ১১:১৩ পিএম

আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে ফরাসি ছোট্ট দ্বীপ রেউনিওঁতে ভয়ংকর ২২ দিনের যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওই এলাকার কথা কখনো শোনেননি শ্রীলঙ্কার ৩৫ বছর বয়সী যুবক বালাপু ওয়াদুগে প্রাসাদ ইন্ডিকা ডিলান মেন্ডিস। গত বছরের ২১ মার্চ মেন্ডিসসহ শ্রীলঙ্কার ছয় নাগরিক দ্বীপটিতে পৌঁছান। এর আগে নৌকাডুবির কবলে পড়ে খাদ্য ও পানি ছাড়া দুই দিন সমুদ্রে ভাসছিলেন তারা। মেন্ডিসের ওই দলটির মতো শ্রীলঙ্কার অনেকেই প্রাণ বাজি রেখে আশ্রয়ের জন্য গিয়েছেন রেউনিওঁতে। তাদের ভয়ানক সে যাত্রার কাহিনী তুলে ধরেছে আলজাজিরা।

রেউনিওঁর আশপাশের সমুদ্র হাঙরের জন্য কুখ্যাত। সেখানে যাওয়ার আগে সমুদ্রপথে দুর্ভোগের কথা জানিয়ে মেন্ডিস আলজাজিরাকে বলেন, ‘পর্যটকদের চোখে না পড়লে আমরা শেষ হয়ে যেতাম।’

মেন্ডিসসহ ছয়জন ভারত মহাসাগরের চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা থেকে এক বছরের কম সময়ে নৌকা করে তাদের মতো ১৪৫ জন গিয়েছেন দ্বীপটিতে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে বেশি যাত্রীবাহী নৌকাটি দ্বীপে যায়। এতে ছিলেন শ্রীলঙ্কার ৭২ নাগরিক, যাদের মধ্যে ছিলেন আট নারী ও পাঁচ শিশু। ১৪ ফেব্রুয়ারি আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ৬৪ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপ রাষ্ট্র মরিশাসের পার্শ্ববর্তী রেউনিওঁ একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। ১৯৪৬ সালে দ্বীপটি দেশের বাইরে ফরাসি নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে সেখানে যেতেন নিকটবর্তী আফ্রিকার দ্বীপগুলোর লোকজন। তবে সম্প্রতি সেখানে শ্রীলঙ্কার আগমন ফরাসি কর্র্তৃপক্ষকে অনেকটা অবাক করেছে।

রেউনিওঁ দ্বীপ কর্র্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০৫টি আশ্রয়ের আবেদন পড়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগই করেন শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা। তাদের পরেই আছে ভারতীয় ও কমোরোসের নাগরিকরা। এ নিয়ে ফরাসি ও শ্রীলঙ্কা কর্র্তৃপক্ষের ভাষ্য হলো, দ্বীপটি মানব পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রেউনিওঁতে যাওয়া শ্রীলঙ্কার পাঁচটি নৌকার চারটিই যায় ঝড়ের মৌসুমে। দ্বীপে যাওয়ার বিষয়ে লঙ্কান যুবক মেন্ডিস বলেন, আদম ব্যবসায়ীর এক এজেন্টের কাছে প্রথমবারের মতো তিনি দ্বীপটির কথা শোনেন। সে এজেন্ট তাকে একটি ভিডিও দেখিয়ে পাঁচ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপির (দুই হাজার ৮০০ ডলার) বিনিময়ে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। তাদের সঙ্গে যাত্রা করা অন্যরা দেড় হাজার থেকে তিন হাজার ডলার দিয়ে দ্বীপে গিয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত