রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোলন ক্যানসার থেকে মুক্তির উপায়

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০৮:২৭ এএম

সাধারণত পুরুষরা কোলন ক্যানসার রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বয়স ৫০ পেরোলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অবশ্য ইদানিং অল্প বয়সে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কারণ পরিবেশ ও জিনগত কারণে বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পায়। খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত রেড মিট খাওয়া, খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের অনুপস্থিতি, ধূমপান ও মদ্যপান এই ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। স্থূলকায় ব্যক্তিদের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অন্যদিকে ব্যায়াম (বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে) এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। বৃহদন্ত্র ও মলাশয় ক্যানসার হওয়ার পারিবারিক ইতিহাস রোগটির সম্ভাবনা বাড়ায়। বিশেষ করে মা, বাবা, ভাই কিংবা বোনের বৃহদন্ত্র ও মলাশয় ক্যানসার হওয়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়ে।

লক্ষণ : প্রাথমিকভাবে কোলন ক্যানসার নির্ণয় অত্যন্ত কঠিন। কেননা, প্রথমদিকে রোগটির তেমন কোনো উপসর্গ বোঝা যায় না। কোলন বা মলাশয়ের কোন জায়গায় ক্যানসার রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে উপসর্গের বিভিন্নতা দেখা যায়। পায়খানার সঙ্গে রক্ত কিংবা পেটে ব্যথা নিয়ে অধিকাংশ রোগী প্রথম চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন (কখনো ডায়রিয়া, কখনো কষা), রক্তশূন্যতা (দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট) ইত্যাদি রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ। অবস্থা গুরুতর হলে অতিরিক্ত ওজনশূন্যতা, পেটে চাকা, পেটে পানি, কাশির সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন।

রোগ নির্ণয় : প্রধান উপাদান কোলন্সকোপি ও বায়োপসি। বায়োপসির মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয়ের পর সিটিস্ক্যান, রক্তে এন্টিজেনের (CEA) পরিমাণ ইত্যাদি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসারের ধাপ নির্ণয় (staging) করা হয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ধাপ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক ধাপের (Stage I and II) ক্যানসারগুলোর চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে ফলাফল সন্তোষজনক, পক্ষান্তরে অগ্রসর ধাপের (StageIII ও IV) ক্যানসারগুলোর চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে ফলাফল আশাপ্রদ নয়। ক্যানসার কোলনের বাইরে ছড়িয়ে গেলে (লসিকাগ্রন্থি, যকৃত, ফুসফুস ইত্যাদি) তাকে অগ্রসর ধাপ বলে বিবেচনা করা হয়।

সচেতনতা : একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, ক্যানসার কঠিন রোগ হলেও এর উপযুক্ত চিকিৎসা রয়েছে। রোগীদের সচেতনতা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই একুশ শতকেও মানুষ বাংলাদেশে হাকিম, কবিরাজ, ঝাড়ফুঁকের ওপর বিশ্বাস করছে, যেখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। চিকিৎসাব্যয় সরকারি হাসপাতালগুলোতে অত্যন্ত কম। রোগীদের প্রতি অনুরোধ যেকোনো রোগ সম্পর্কে পরিচিতজনের পরামর্শ না নিয়ে ন্যূনতম এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার সচেতনতা রোগটিকে প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয়ে সাহায্য করবে। আর প্রথমদিকে ধরতে পারলে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগও সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। আপনি সুস্থ থাকুন সেটাই প্রার্থনা করি, কিন্তু অসুস্থ হলে আমি আপনার পাশে আছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত