রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘তোমাদের জন্যই এসেছি’

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ১০:২০ পিএম

দিনভর নানা নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তা শেষে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে বুকার পুরস্কারজয়ী ভারতীয় লেখিকা ও বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতী রায়ের আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার ছবি মেলা উপলক্ষে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের সঙ্গে ভারতীয় এই লেখিকার সেশনটি ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

অরুন্ধতী রায়ের পূর্বনির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল ছায়ানটে। দর্শকদের চাপের কথা ভেবে সোমবার ভেন্যু পরিবর্তন করে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার কথা জানানো হয়।

ছবিমেলার পক্ষ থেকে সোমবার রাতেই আবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘আটমোস্ট এভরিথিং’ শীর্ষক আলোচনাটি স্থগিত করা হয়েছে।

এ নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হবে বলে দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আয়োজক সংগঠন ছবিমেলার পক্ষ থেকে ফের জানানো হয়।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে আলোচনা অনুষ্ঠানটি হচ্ছে না ফের এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিতদের প্রথমে এক ঘণ্টা আগে এবং শেষ মুহূর্তে আধা ঘণ্টা আগে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের সঞ্চালনায় সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আলোচনা অনুষ্ঠানে কথা বলতে শুরু করেন অরুন্ধতী রায়।

সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে মাইডাস সেন্টারে আসেন অরুন্ধতী রায়। মিলনায়তনপূর্ণ দর্শক করতালিতে স্বাগত জানান তাকে। অরুন্ধতী কথা শুরু করার দুই মিনিটের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় সাউন্ড সিস্টেম। মিলনায়তনজুড়ে কানাঘুষা শুরু হয়, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সাউন্ড বন্ধ করে দেয়নি তো? কিন্তু না, ৫ মিনিটের মধ্যেই ঠিক হয় সাউন্ড সিস্টেম। এরপর ব্যক্তিজীবন, বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতির নানা প্রসঙ্গ ধরে চলে আলাপচারিতা।

অনুষ্ঠানটিতে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণও ছিল সাধারণ শ্রোতাদের মতোই। ব্যাগ-ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়, ছবি তোলা, ভিডিও করা যাবে না।

দীর্ঘ আলাপচারিতার শুরুতেই অরুন্ধতী বলেন, ‘তোমাদের জন্যই এসেছি। এখানে নতুন প্রজন্মের একঝাঁক মানুষকে দেখতে পাচ্ছি, যারা আলোকচিত্র নিয়ে কাজ করছে। তাদের কাজগুলো দেখতে খুব ভালো লাগছে। পাঠশালা নামে তোমাদের আলোকচিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিও আমার ভালো লেগেছে।’

ভারতের চলচ্চিত্র, সাহিত্য, চিত্রকলাসহ শিল্প-সাহিত্যের নানা অঙ্গনের মানুষদের নিয়ে আর্টিস্ট ইউনাইট নামের একটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছেন অরুন্ধতী।

এ কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৫-১৬ সময়কালে সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা নানাভাবে আক্রান্ত হচ্ছিল। কিন্তু এই মানুষগুলো ছিল একেবারেই নিরপরাধ। রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার কাছে এই মানুষগুলো একেবারেই অসহায় ছিল। এ কারণেই সেই উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’

বিশ্বব্যাপী বাক্‌স্বাধীনতাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য ব্যক্তিত্ব বলেন, এতে করে মুক্ত গণতন্ত্রের চর্চা ব্যাহত হচ্ছে।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আলাপচারিতার শেষ ভাগে দর্শক-শ্রোতাদের নানা প্রশ্নেরও উত্তর দেন অরুন্ধতী রায়। আলাপচারিতায় উঠে আসে বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান, সিরিয়াসহ সাম্প্রতিক বিশ্বের রাজনীতির নানা বিষয়।

ব্যক্তিজীবনের স্মৃতিচারণও করেন অরুন্ধতী। শৈশবের স্মৃতিচারণে অরুন্ধতী বলেন, আমার বয়স যখন চার কিংবা পাঁচ তখন আমার বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়। সেসময় আমি একটি মিশনারি স্কুলে ভর্তি হই। সেখানে মিস মিটেন নামে এক শিক্ষিকা আমাদের পড়াতেন। তিনি আমাকে আঙুল গুনে গুনে সংখ্যার যোগ-বিয়োগ শেখাতেন।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার একাধিক ভেন্যুতে চলছে ছবি মেলা। এবারের আয়োজনে ২১টি দেশের ৪৪জন শিল্পীর কাজ নিয়ে ৩৩টি প্রদর্শনী রয়েছে। ছবি মেলা চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত