সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিলেট বিএনপিতে হতাশা

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ১২:১২ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতাশায় ডুবেছে সিলেট বিএনপি। সাংগঠনিকভাবে কঠিন সময় পার করছে দলটি। নেতারা টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিরাশ হয়ে পড়েছেন কর্মী-সমর্থকরা। দলের সিদ্ধান্ত না মেনে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় জেলার ১২টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিএনপির ৩২ নেতানেত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গত দুদিনে জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার বিএনপির পৌনে ২০০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সত্যিই তারা কঠিন সময় পার করছেন। মামলার ঘানি টেনে নেতাকর্মীরা মনোবল হারাচ্ছেন। অনেকে দিনের পর দিন কারাবন্দি। তাদের পরিবারও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এই অবস্থায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেও নেতাকর্মীরা অনেক ভেবেচিন্তে অগ্রসর হন। ফলে সভা-সমাবেশে উপস্থিতি কম হয়। ৩২ নেতাকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তাদের একজন বলেন, ‘দল যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না, তাই যারা সিদ্ধান্ত মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতেই হচ্ছে। না হলে দলের চেইন অব কমান্ড নষ্ট হবে।’

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে নবম সংসদ নির্বাচন (দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি) পর্যন্ত কোনোদিন সিলেট বিভাগে আসন শূন্য ছিল না বিএনপি। কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনেই প্রথমবারের মতো সিলেট বিভাগে একটি আসনও পায়নি তারা। এই ফল বিএনপি নেতাকর্মীর কাছে রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঠেকছে। তারা জানান, সিলেট বিভাগে বিএনপির একটি আসনও না পাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা। এটা থেকেই বোঝা যায় নির্বাচন কেমন হয়েছে। নির্বাচনের পর দলে হতাশা বেড়েছে বলেও তারা স্বীকার করেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি সিলেটে অত্যন্ত জনপ্রিয় দল। সাংগঠনিকভাবেও শক্তিশালী। জেলা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড প্রতিটিই পর্যায়েই বিএনপির শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। তবে গত ১০ বছর ধরে সরকারের নিপীড়নের কারণে দল কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন সময় অচিরেই দূর হবে বলে আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী।’ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল বলেন, ‘বিএনপিকে দুর্বল করতে ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দলের নেতাকর্মীরা আতঙ্কে থাকেন।’ তবে সরকারের নির্যাতনের কারণে দলের প্রতি বিএনপি নেতাকর্মীদের দরদ আরও বাড়ছে বলে দাবি করেন এই নেতা।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনী সহিংসতার একটি মামলায় গতকাল সোমবার বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ১০০ নেতাকর্মী সিলেটের বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক বেগম লায়লা মেহেরবানু জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত রবিবার সিলেট বিএনপির আরও ৭৬ জন নেতাকর্মীকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।  এদিকে বিএনপির ১৭৬ নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি করেছে জেলা বিএনপি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত